তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি? : রাশিয়াকে অবশ্যই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৫৫
আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সংযত আচরণ প্রত্যাশিত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কোন পথে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আমেরিকা, ব্রিটেনসহ ইউরোপের বহু দেশ রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দিলেও আগ্রাসনে কোনো ছাড় দিচ্ছে না রুশ সেনারা। অন্যদিকে, শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের হুঙ্কার দিয়েছে ইউক্রেনও। নিষেধাজ্ঞার বিকল্প হিসেবে আমেরিকার ইঙ্গিত যুদ্ধের দিকেই। তবে কী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে চলেছে? বিস্তারিত লিখেছেন সাইফুল অনিক
আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ দুই মাস ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় ২ লাখ সেনা মোতায়েন রাখার পর এই অভিযান শুরু হয়। থেমে থাকে নি ইউক্রেনও। গত পাঁচ দিন ধরে দুপক্ষের টানা আগ্রাসনে প্রকম্পিত গোটা ইউক্রেন। জাতিসংঘ বলেছে, এ পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। এর বেশির ভাগই পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পরপরই এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে বিভিন্ন দেশ। রাশিয়ার ব্যাংক, তেল শোধনাগার ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের ওপর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়।
আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ থামাতেই হবে: নিষেধাজ্ঞার পরও কোনো অবস্থাতেই থামছেন না পুতিন। তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে ইউক্রেনে অভিযান চালাচ্ছেন। পরমাণু অস্ত্র ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন। তার এমন নির্দেশে লড়েচড়ে বসেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইইউ, চীনসহ বহু দেশ। তারা বলছে পুতিনের এমন নির্দেশনা যুদ্ধের মোড় অন্যদিকে টেনে নিয়ে যাবে। এমন অবস্থায় বেলারুশের আলোচনা যেনো যুদ্ধের সমাপ্তি টানে এটাই প্রত্যাশা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের ইতি না টানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় যে পৌঁছাবে এটা অবশ্বম্ভাবী। কেননা আমেরিকা ইতোমধ্যেই আগ্রাসন নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তারা যুদ্ধের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্রিটেনও বলছে তারা কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত বরদাস্ত করবে না। ন্যাটো শুরুতে সেনা মোতয়েত করবে না বলে জানালেও এখন বড় সিদ্ধান্তের দিকেই যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। চীনও এই আগ্রাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সংযত আচরণ প্রত্যাশিত। সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ বন্ধ না হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে যা বড় ভয়াবহ যুদ্ধেরই প্রতিধ্বনি বাজাবে।
জাতিসংঘ রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: বিশ্লেষকদের মতে এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার আগেই জাতিসংঘকে কাজ শুরু করতে হবে। তারা উভয় পক্ষকে একটি সুন্দর সমাধানের জন্য রাজি করাতে পারে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে।
রাশিয়ার হামলা ও ইউক্রেনের প্রতিরোধের মধ্যে আলোচনা শেষ
বহুল প্রত্যাশিত রাশিয়া-ইউক্রেনের সোমবারের আলোচনা শেষ হয়। আলোচনায় উঠে আসা দাবি গুলো নিয়ে দুই পক্ষই পরামর্শের জন্য তাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে ফিরে গেছেন। পরবর্তী আলোচনায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। আলোচনা শুরুর পরও ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। বেলারুশের গোমেল অঞ্চলে এই আলোচনায় যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহার চেয়েছে ইউক্রেন। আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ বেলারুশ। রাশিয়ার প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মেদিনস্কি। ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেযনিকভ। খবর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার।

ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন পুতিন: বিশ্বের মধ্যে রাশিয়ার হাতেই পরমাণু অস্ত্রের সবথেকে বড় ভাøারটি রয়েছে। কিন্তু তারা এটাও জানে, ন্যাটোর হাতেও যথেষ্ট অস্ত্র আছে এবং যদি সেগুলোর ব্যবহার হয় তবে রাশিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে পরমাণু অস্ত্রের কথা বলে পুতিন খুব সম্ভবত ন্যাটোর ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া আটকাতে চাইছে। প্রয়োজনে তিনি কতদূর যেতে পারেন সেটা বলে তিনি আসলে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন। পরমাণু অস্ত্র ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব এবং ন্যাটোর আগ্রাসী আচরণের কারণে তিনি ওই নির্দেশ দিয়েছেন।
বাইডেন বলছেন নিষেধাজ্ঞার বিকল্প হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিকল্প হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন। ব্লগার ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন বাইডেন। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসের খবরে এসব তথ্য জানানো হয়। তার এই মন্তব্য কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে তা বিশ্লেষকদের অনুধাবন করতে কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। বাইডেন তার ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, আমাদের হাতে দুটো বিকল্প পথ আছে। প্রথমটি হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করা। অর্থাৎ রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে যাওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে যারা আন্তর্জাতিক সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করছে, তাদের মূল্য দিতে বাধ্য করা। বাইডেন এও বলেন, কোনো নিষেধাজ্ঞায় সত্ত্বর হচ্ছে না। তবে তিনি জানান, এসব নিষেধাজ্ঞা হবে ব্যাপক এবং ইতিহাসের বৃহত্তম। এর মধ্যে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আছে।
আমেরিকার সিদ্ধান্ত আসছে শিগগির: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলার ‘পরিস্থিতি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ পাল্টা জবাব’ বিষয়ে আলোচনার জন্য মিত্র ও অংশীদারদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এদিকে জি-৭ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে এবং মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক অ্যান্টোনি ব্লিনকেন বলেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলো নিয়ে গঠিত এ গ্রুপ মস্কোর ইউক্রেন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘একেবারে ঐক্যবদ্ধ’ রয়েছে।
আমেরিকার নাগরিকদের রাশিয়া ছাড়ার আহ্বান: নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত রাশিয়া ছাড়ার বিষয় বিবেচনায় নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আমেরিকা। মস্কোর আমেরিকান দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, যেসব মার্কিন নাগরিক রাশিয়ায় রয়েছেন তারা ‘দ্রুত’ দেশটি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারেন। এতে আরও বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের ‘এমন একটি পরিকল্পনা থাকা উচিত যা মার্কিন সরকারের সহায়তার উপর নির্ভর করে না।
পরমাণু অস্ত্রের হুমকি বিভ্রান্তের পায়তারা: ‘ইউক্রেনে কী ভুল হচ্ছে’ সেদিক থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন তার সেনাবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্র সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখতে বলেছেন বলে মনে করেন ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন কথার লড়াইয়ের মাধ্যমে বাকি বিশ্বকে তার দাবি না মানলে কি হতে পারে সেটি নিয়ে ভয় দেখাতে চাইছেন। সোমবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেন, ‘পুতিনের ঘোষণা যে কতটা উদ্বেগজনক তা আমি বুঝতে পারছি। তিনি পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়ার পেছনে যে কারণের কথা বলেছেন, আমরা তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখছি না বা এমন কিছুর স্বীকৃতি দেব না। পুতিন মূলত পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাকি মানুষদের, বাকি বিশ্বকে ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। তিনি আরও বলেন, ব্রিটেনও পরমাণু অস্ত্র শক্তিধর দেশ এবং সেগুলো ‘কয়েক দশক ধরে আমাদের নিরাপত্তাকে সমুন্নত রাখছে।
ইউক্রেনের দুই শহর দখলের দাবি রাশিয়ার: ইউক্রেনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জাপোরিজ্জায়ার দুই শহর বারদিয়ানস্ক ও এনারহোডারের দখল নিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। জাপোরিজ্জায়ার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও বর্তমানে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার ৫ হাজারেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছে: ইউক্রেনে প্রথম চার দিনের লড়াইয়ে রাশিয়ার পাঁচ হাজারেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছে বলে কিয়েভের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। সোমবার ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার আনুমানিক পাঁচ হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছে। একই সময় ইউক্রেনীয় বাহিনীগুলো রাশিয়ার ১৯১টি ট্যাঙ্ক, ২৯টি যুদ্ধবিমান, ২৯টি হেলিকপ্টার ও ৮১৬টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, তারা এসব দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশ্বাস, লড়াইয়ের শুরুর পর্যায়ে রাশিয়ার পক্ষে ‘ব্যাপক’ হতাহত হয়েছে।
রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে বেলারুশও যোগ দিচ্ছে: পুতিন তার বেলারুশের মিত্র আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও লড়াইয়ে যোগ দিতে রাজি করিয়েছেন বলে খবর আসছে। বেলারুশ, ইউক্রেইন ও রাশিয়া পাশাপাশি তিন দেশ। সবার সাথে সবার সীমান্ত রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে হওয়া এই তিন দেশের মধ্যে বেলারুশ বরাবরই রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে গেছে।
আলোচনায় যুদ্ধবিরতি চায় ইউক্রেন: এদিকে, সোমবার বেলারুশে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, তারা এ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি এবং রুশ সেনা প্রত্যাহার চায়। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান ভ্লাদিমির মেদিনস্কি বলছেন, মস্কো এমন এক বোঝাপড়া চায় যাতে দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হবে। ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঊচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নেই।

ইইউর সদস্য করতে জেলেনস্কির আহ্বান: ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তাৎক্ষণিক সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে ইউক্রেন। সোমবার এক ভিডিওবার্তায় এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইইউ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি, বর্তমান পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রেখে যেন যত দ্রুত সম্ভব, অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে যেন আমাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
এগিয়ে আসছে ইইউ, সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে পর্তুগাল: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল জানিয়েছেন, তিনি ইইউ ভুক্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র ও অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। ইইউ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শুরুর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা জানান।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিয়েভকে সহায়তা দিতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পর্তুগাল।
পাশ্চাত্যকে ‘মিথ্যার সাম্রাজ্য’ বললেন পুতিন: মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পুতিন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় পশ্চিমাদের ‘মিথ্যার সাম্রাজ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন পুতিন। সোমবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাশিয়ার জন্য ইউরোপের আকাশ বন্ধ: ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭ দেশের আকাশে রাশিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম তাস এ তথ্য জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিটেন, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া, লাতভিয়া, লিথুনিয়া ও এস্তোনিয়া রুশ উড়োজাহাজের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
৩৬ দেশের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া: ইউরোপীয় ইউনিয়নের আকাশসীমায় রুশ ফ্লাইট নিষিদ্ধের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। সোমবার ৩৬টি দেশের এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নিজেদের সীমানায় নিষিদ্ধ করেছে মস্কো। এই তালিকায় রয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি, স্পেন, ইতালি এবং কানাডাও।
গণমাধ্যমের নীতি নিয়ে সমালোচনা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতি অনুসরণের অভিযোগ উঠেছে। সামাজাকি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরাই মূলত এই অভিযোগ ওঠায়। তাদের ধারণা, সিরিয়া ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তার চেয়ে ইউক্রেন পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। আবার যে ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর নাগরিকদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হয়, সেই একই ইস্যুতে ইউক্রেনীয়দের মহান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ইউডি/সুপ্ত

