অবৈধ যানবাহনের দাপটে পথে পথে দুর্ভোগ

অবৈধ যানবাহনের দাপটে পথে পথে দুর্ভোগ

মারুফ হাসান হৃদয়। মঙ্গলবার, ১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৬:০০

উচ্চ আদালতের রায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ কিছুই কাজে আসছে না। মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন। ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা। বছর বছর হাজারো প্রাণ ঝরালেও এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। আদালতের রায় কিংবা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর পুলিশ কিছুদিন অভিযান চালায়, তারপর এক সময় সে অভিযান স্তিমিত হয়ে পড়ে। ফের চলতে শুরু করে ব্যাটারিচালিত অবৈধ ইজিবাইক এবং শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন। কোনোভাবেই মহাসড়কে এ অনিয়ম থামানো যাচ্ছে না।

আদালতের রায় কিংবা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর পুলিশ কিছুদিন অভিযান চালালেও একসময় সেই অভিযান বন্ধ হয়ে যায়, ফের চলতে শুরু করে ব্যাটারি চালিত অবৈধ ইজিবাইক, শ্যালোইঞ্জিন চালিত নসিমন, করিমন ট্রলি, সিএনজি। কোনভাবেই মহাসড়কে এই অবৈধ যানবাহন থামানো যাচ্ছে না। এর ফলে প্রতিনিয়তই মহাসড়কে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা, এতে পথচারী, যাত্রী, চালক, শ্রমিক অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে আবার অনেকেই অঙ্গহানী হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে দেশের বিভিন্ন জেলার নানা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দূর্ঘটনা অকালেই হারাচ্ছে হাজারো প্রাণ। উচ্চ আদালত এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্যকরে অবাধে চলাচল করছে এসব অবৈধ যানবাহন।

সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোয় ধীরগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা লেন ও মহাসড়কে বাস-বে তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালে দেওয়া এ নির্দেশনা আজও মহাসড়কগুলোয় বাস্তবায়ন হয়নি। দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক। এতে প্রায়ই যাত্রীবাহী বাস কিংবা পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটছে দুর্ঘটনা। শুধু এ মহাসড়ক নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ মহাসড়কে অবাধে যাতায়াত করছে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন।

সরেজমিনে দেখা যায়,পুলিশের সামনে দিয়ে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। বিভিন্ন বাসস্ট্যাণ্ড থেকে সিএনজি ব্যাটারিচালিত রিক্সা নসিমন করিমন দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে মানুষ যাতায়াত করে এবং বিভিন্ন পন্য সরবরাহ করে। এই সুবাধে অসৎ কিছু পুলিশকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে চলছে এসব অবৈধ যানবাহন। হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে অভিযানের নামে এসব অবৈধ যানবাহন থেকে মাসোহারা আদায় করছে। বিভিন্ন কাঁচামালের আড়তে মাল নিয়ে আসা যানবাহন আটক করা হলে তা মাসোহারা পদ্ধতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ রুটের অধিকাংশ যানবাহন মাসিক মাসোহারা দিয়ে চলাচল করছে।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ সালে দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৪৮০টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২২১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ধীরগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে। ৩১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ইজিবাইক, অটো চার্জার, নসিমন, করিমনের কারণে। রিকশাভ্যানের সংঘর্ষে ঘটেছে ১০১টি দুর্ঘটনা। সড়কে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ হাজার টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ আইন যথার্থ প্রয়োগ হলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। সারা দেশে অবৈধভাবে চলা বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, বিশেষ করে ইজিবাইক, ভটভটি, নসিমনকে শৃঙ্খলায় আনতে প্রায় দুই বছর আগে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সে নীতিমালার বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত।

শহরজুড়ে যানজট। বৈধ, অবৈধ রিকশার রাজত্ব চলছে পুরো শহরে। এছাড়া শহরে প্রবেশ নিষেধ ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিকশা শহরময় তাণ্ডব চালাচ্ছে। কিন্তু, এসব নিয়ে প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ পথচারীরা। শহরকে যানজট মুক্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগীদের মতে, নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে হলে শহরে ইজিবাইক, মিশুক ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যানজটের কারণে এ শহর অচল হয়ে যাবে। সরেজমিন চাষাঢ়া মোড়ে দেখা গেছে ইজিবাইক,মিশুক আর ব্যাটারি রিকশা জটলা। সচেতন মহলের মতে, অবৈধ এসব যান চলাচলের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ যদি এখনি কঠোর না হয়, তা হলে এ শহরে চলাচল করা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। এ ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে নগরবাসী।

লেখক: কলামিস্ট।

ইউডি/সিফাত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading