বঙ্গবন্ধু টানেল: চট্টগ্রাম হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব
তানজিদ হোসেন । বুধবার, ২ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:৪০
স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে বঙ্গবন্ধু টানেল। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ কাজের অগ্রগতি ছাড়িয়েছে প্রত্যাশাকেও। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে দুই টিউববিশিষ্ট বহু লেনের বঙ্গবন্ধু টানেল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ গতি ধরে রাখতে পারলে নির্ধারিত সময়ের আগেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে দেশের প্রথম এই টানেল। এ টানেল সংযুক্ত করবে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা ও দক্ষিণের আনোয়ারা প্রান্তকে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে স্থল পথে টানেল রয়েছে, তবে সমুদ্র বা নদী তলদেশে টানেল নির্মাণ উপমহাদেশের অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।
২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০১৪ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশে ও চীনের সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীন সরকারে এ টানেল নির্মাণের জন্য মনোনীত করেন চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেডকে।
প্রত্যাশিত গতিতে চলছে টানেল নির্মাণের কাজ। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই শেষ হবে টানেল তৈরির কাজ। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বাংলাদেশের প্রথম টানেল নির্মাণ ঘিরে চলছে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ। কর্ণফুলীর তলদেশ, নদীর শহর প্রান্ত, আনোয়ারা উপজেলা প্রান্তসহ দুই তীরে চলছে টানেলের অবকাঠোমোগত উন্নয়ন কাজ। এতে দিনরাত পরিশ্রম করে নদীর তলদেশকে টানেলে রূপান্তর করতে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি হাজারো শ্রমিক। এরই মধ্যে খনন শেষ হওয়া প্রথম টিউবটি যান চলাচলের উপযোগী করতে চলছে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ। ওই টিউবে চলছে সড়ক তৈরি ও অন্যান্য উন্নয়নকাজ।
দ্বিতীয় টিউব খননের কাজও চলছে দ্রুততার সঙ্গে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় টিউব খনন হয়েছে ৭৫০ মিটার। নদীর দুই তীরবর্তী এলাকাকে টানেলের সঙ্গে যুক্ত করতে সংযোগসড়ক তৈরির কাজও চলছে বেশ দ্রুত। সংযোগসড়কের সঙ্গে যুক্ত উড়ালসড়ক তৈরির কাজও চলছে সমানতালে। এরই মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় বসানো হয়েছে স্লাব। আবার কিছু এলাকায় চলছে গার্ডার তৈরির কাজ। সংযোগসড়কের ব্রিজ ও কালভার্ট তৈরির কাজও চলছে অভিন্নভাবে।
এই টানেল সমাপ্ত হয়ে কাজে রূপান্তরিত হলে দেশের বৃহত্তর অংশে অর্থনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামের চেহারার পরিবর্তন ঘটবে। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক নগরীতে সত্যিকার অর্থে প্রবেশ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল হিসেবে সমগ্র দেশের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম তথা দক্ষিণ চট্টগ্রাম শহর নতুন রূপে সজ্জিত হবে।
কর্ণফুলী টানেল পরিচালন পর্যায়ে প্রতি বছর এই টানেলটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ মূল্য তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা বা চার লাখ ৪০ হাজার ডলার সংযোজন করবে বলে ধারণা করা হয়েছে। ২০২২ সালে টানেল দিয়ে ৬৩ লাখ যানবাহন চলাচল করবে। টানেলটি চালুর তিন বছর পর এই সংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি ৩৯ লাখ, ২০৫০ সালে তা হবে তিন কোটি ৩৯ লাখ এবং ২০৬২ সালে ৫ কোটি ৫ লাখ।
চীনের সাংহাই মহানগরীর আদলে চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারাকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’-এ রূপান্তরে কর্ণফুলী নদীতে তৈরি হচ্ছে টানেল। এ টানেলের এক প্রান্তে রয়েছে আনোয়ারার ভারী শিল্প এলাকা। অন্য প্রান্তে চট্টগ্রাম মহানগর, বিমান ও সমুদ্র বন্দর। সরকার বিভক্ত দুই অংশকে একই সুতায় যুক্ত করতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ সরকার ও চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে যৌথ অর্থায়ন করছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
২০২২ সালের মধ্যে এ টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পুরোদমে চালু হলে প্রতি বছর প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে পাল্টে যাবে চট্টগ্রাম তথা দেশের অর্থনীতি। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে শিল্পকারখানা ও পর্যটনশিল্পে।
ইউডি/অনিক

