নারীর পেটে টিউমারের ওজন ৪৭ কেজি!
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:০০
আজকাল টিউমার শব্দটি আমাদের আর অচেনা নয়। এখন আমরা এও জানি, টিউমার তথা শরীরের কোনো উপবৃদ্ধি হলেই তা ভয়ংকর নয়। এজন্য টিউমার ধরা পড়লেই আগেভাগে তার ম্যালিগন্যান্সি বা মারণক্ষমতা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন চিকিৎসকেরা। এমনই পরামর্শ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ার গুজরাটের আমেদাবাদ শহরের এক নারীকেও। হঠাৎ করে ওই নারীর ওজন বেড়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে পেটের কাছে অহেতুক মেদবৃদ্ধি ঘটছিল।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখা যায়, সেখানে বাসা বেঁধেছে একটি টিউমার। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেল, সেটি বেশ শান্তশিষ্ট নিরীহ। ক্যানসারের আশঙ্কা নেই দেখে খানিক নিশ্চিন্ত হওয়া গেল বটে। কিন্তু শরীরে এমন রোগ বয়ে বেড়াতে কারইবা ভালো লাগে! কিন্তু শরীরের ভেতরের যন্ত্রপাতির সঙ্গে টিউমারটি এমনই বন্ধুত্ব পাতিয়ে বসেছে যে সেখান থেকে তাকে বের করে আনে এমন সাধ্য আছে কার! অপারেশন করলে অন্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করেছিলেন চিকিৎসকরা।
তারপর কেটে গিয়েছে ১৮টি বছর। দেখতে দেখতে টিউমারের ওজন হয়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৭ কেজি। ওই বিশাল টিউমারের কারণে ৫৬ বছর বয়সী ওই নারীর চলাফেরা, ওঠাবসা তথা স্বাভাবিক জীবনযাপনই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। টিউমারের জন্য নিজেদের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছিল হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, জরায়ু, কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোও। অবশেষে আর কোনো উপায় না দেখে অপারেশনের কথা ভাবেন চিকিৎসকেরা।
সৌভাগ্যই বলতে হবে, সফল হয় এই জটিল অস্ত্রোপচারটি। কেবল ৪৭ কেজি ওজনের টিউমারই নয়, তার সঙ্গে কোষ এবং অতিরিক্ত ত্বকের অংশ মিলে ওই নারীর শরীর থেকে বাদ পড়েছে মোট ৫৪ কেজি! আর এই অস্ত্রোপচারের পর রোগীর ওজন হয়েছে ৪৯ কেজি, টিউমারের থেকে মাত্র দুকেজি বেশি। নিজের স্বাভাবিক জীবন ফেরত পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ওই রোগী। আর এমন বিরল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় উৎসাহিত হয়েছেন চিকিৎসকরাও।
ইউডি/অনিক

