রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রয়োজন শৃঙ্খলা
মাসুমা মুসরাত শৈলী । রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৫:০২
যানজট ঢাকা শহরের নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রতিদিন রাস্তায় বের হওয়া থেকে শুরু করে ঘরে ফেরা পর্যন্ত যতটা সময় রাস্তায় কাটানো হয় প্রায় প্রতিটি মুহূর্তেই যানজটের সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানজটের কারণে যে বহুমুখী সমস্যার সৃষ্টি করছে তার প্রতিটি হিসাব করা সম্ভব হয় না। তবে একটি তথ্য হলো যে, যানজটের কারণে প্রতিদিন ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র যানজট। এতে অফিসগামী কর্মজীবী মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগে নগরবাসী। নগরী প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি লেগেই থাকছে। দিন দিন এর বিস্তার বাড়ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এর ফলে প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে যানজটের প্রভাব পড়েছে শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে।
এতে যানজটের কবলে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনরা এবং অফিসগামী কর্মজীবী ও আদালতসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বের হওয়া মানুষ। ফলে, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও যানজট না কমায় কেউ কেউ বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যে। যানজটে নগরবাসীর দুর্ভোগের মাত্রা যেন বেড়েছে বহু গুণ। এতে এমন দুর্ভোগের শিকার ভুক্তভোগী নগরবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ থাকলেও এর গুরুত্ব কে দেবে? রাজধানীর অধিকাংশ সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটে থেমে থেমে চলছে যানবাহন।
কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে যানজট থাকায় যানবাহন বন্ধ করে গাড়িতে অলস সময় পার করছেন চালকরা। ফ্লাইওভারের ওপরও যানজটের তীব্রতা লক্ষ্য করার মতো। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেসব এলাকা দিয়ে চলাচলকারী নগরবাসীকে। কত সময় ধরে এমনটা চলবে তা নির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ। উন্নত দেশে সাধারণ জনগণ ট্রাফিক আইন মেনে চলে। আমাদেরও সেই অভ্যাস করতে হবে। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক করা, ইচ্ছামতো সড়কে চলা বন্ধ না করলে এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়।
যানজটের কারণে এই বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং তার কারণে অপচয় সত্যি দুঃখজনক ঘটনা। যানজট নিরসনের জন্য ঢাকায় নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক ফ্লাইওভার। কিন্তু দেখা যায় সিস্টেম সংকটের কারণে ফ্লাইওভারের উপরে যানজট বেশি থাকে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা কাজ না করলে ফ্লাইওভার করে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি করা যাবে না। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সহজ ও সব জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে যাতে দেশের প্রান্তিক জনগণও তা ব্যবহার করতে পারে। তাহলেই মাত্র স্বস্তি ফিরতে পারে। শহরের ভেতরে গাড়ি চালানোর নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করে না চালকেরা। আইন না মেনেই যদি গাড়ি ইচ্ছামতো চালানো যায় তাহলে আইন মানার দরকার কি? বিষয়টি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ধররের প্র্যাকটিস এত পুরানো হয়ে গেছে যে সহসা একে পরিবর্তন করতে সমস্যা হবে। তবে পরিবর্তন করা যাবে না এমন নয়। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবিক পক্ষে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও বেশ কঠিন কাজ। কারণ এর সাথে জনগণের সচেতনতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি জড়িত। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ বা চালক কেউ আইন মেনে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, এটা সবচেয়ে বড় সংকট। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এ দেশের উন্নয়ন এখন বিশ্বের রোল মডেল। সেখানে যানজট উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। একটা স্থানে রওনা হয়ে যদি বেশি সময় লাগে তাহলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।
আমাদের দেশে প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই শহরের সাথে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ঠিক যেভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেভাবেই যেন গাড়ির সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। গাড়ির সংখ্যা বাড়তেই পারে কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে একটা নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। সুষ্ঠু নীতিমালা ছাড়া পরিবহনের এ বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা মনেকরি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে পুরনো যানজট সংকট নিরসন খুব কঠিন নয়। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিলেই সংকট নিরসন সম্ভব।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

