প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা: অরক্ষিত রেলক্রসিং প্রত্যাশিত নয়
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৩ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৫:৪১
ট্রেন দুর্ঘটনার মারাত্মক সংবাদ প্রতিদিনের যেন জীবনের অনুষঙ্গ। অনাকাক্সিক্ষত এই ঘটনা মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। আবারও ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় জীবন প্রদীপ নিভে গেল তিন স্কুলছাত্রীর। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বিজয়পুর রেলক্রসিংয়ে বুধবার এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে ঘণ্টাখানেক ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। যাদের মূল্যবান জীবন অকালে শেষ হয়ে গেল তারা স্থানীয় বিজয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। সম্ভাবনাময় জীবন তৈরির সন্ধিক্ষণে ভয়ঙ্কর দুর্বিপাকে তাদের ওপর মরণ ছোবল কোনভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত ১০ বছরে তিন শ’রও বেশি ট্রেন দুর্ঘটনায় জীবন শেষ হয়েছে ২২শ’র বেশি মানুষের। এমন অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক। একই সঙ্গে শুধু সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিংবা কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপালে সব দায় মিটে যায় না। দায় কিছুটা নাগরিকদেরও থাকে। আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে ৩০ বছর আগে যেসব কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা সংঘটিত হতো এখনও তা বহাল তবিয়তে চলমান। এসব কারণ দূর করতে কোন সুষ্ঠু সংস্কার হয়নি। বেড়ে গেছে দুর্ঘটনার পরিমাণ। রেললাইনের বিভিন্ন পর্যায়ে ডবল লাইন নির্দেশিত না হওয়াও এক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ট্রেন চলাচল করে। সবচেয়ে দুঃসহ চিত্র রেলক্রসিংয়ের যথাযথ সুরক্ষার চরম ঘাটতি।
অরক্ষিত রেলক্রসিং মুহূর্তে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে সময় নেয় না। তার ওপর আছে অদক্ষ ও অযোগ্য লোকবলের সংখ্যাধিক্য। নিয়মিত দক্ষ চালকের অনুপস্থিতিতে চুক্তিভিত্তিক চালক নিয়োগ দুর্ঘটনাকে বাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট। দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক দ্বারা ট্রেনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। এর ব্যত্যয় ঘটলে পরিস্থিতি বেসামালই শুধু নয়, মানুষের জীবনটাও চরম ঝুঁকির আবর্তে পড়ে যায়। এর দায় রেল ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব এবং মহাপরিচালকদের ওপরও বর্তায়। তাদের আরও বেশি দক্ষ কর্মপরিকল্পনায় দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় এবং সমাধানে বিশেষ তদারকিও পরিস্থিতির দাবি। রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে সঙ্কেত চিহ্নগুলোকে আধুনিকায়ন করে তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সন্নিবেশিত করাও যুগের চাহিদা।
নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত যানবাহন রেল। সেটাই যদি হরেকরকম সঙ্কটের আবর্তে ঘুরপাক খায় তা হলে মূল ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি আরও প্রকট আকার নিতে পারে। জনবান্ধব রেলযাত্রাকে নিরাপদ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়বদ্ধতা। দেশব্যাপী সর্বাধুনিক রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে যা যা প্রয়োজন সবটাই করতে হবে। ভিতরে জিইয়ে থাকা হরেকরকম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং অসঙ্গতি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বলয় আরও সুদৃঢ় করে যাত্রীসেবার এই অনন্য মাধ্যমটিকে নতুন মাত্রা দেয়া হোক।

