এফএও’র মহাপরিচালককে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব: খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে বীজ ব্যাংক

এফএও’র মহাপরিচালককে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব: খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে বীজ ব্যাংক

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:২০

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাকে (এফএও) একটি আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলে শতবর্ষে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে। গতকাল রবিবার (১৩ মার্চ) এফএও’র মহাপরিচালক (ডিজি) কু ডংইউ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি এ প্রস্তাব নে। বিস্তারিত লিখেছেন কিফায়েত সুম্মিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলে শতবর্ষে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় তা সহায়ক হতে পারে। এ প্রসঙ্গে নোরল্যান্ডসের অভিজ্ঞতাকে উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি ডিজিটালাইজেশন এবং উদ্ভাবনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য একটি সমন্বিত তহবিল গঠনের জন্য এফএও’র ডিজিকে পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে ।

এসআইডিএস অর্জনের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ: চাষের উপযোগি পযার্প্ত জমি না থাকায় সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) দেশগুলি, বিশেষ করে এসআইডিএস (ছোট দ্বীপ উন্নয়ন রাজ্য) অর্জনের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই পদ্ধতিতে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য এফএও’র মহাপরিচালককে পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, মানুষ পাবে উন্নত জীবন: প্রধানমন্ত্রী তার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি দেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছেন যেখানে মানুষ উন্নত জীবন পাবে। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে বিশ্ব খাদ্য সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে উল্লেখ করেন যে, তার সরকার গঠনের পরপরই, বাংলাশে মারাত্মক খাদ্য ঘাটতিতে ভুগছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, তারপর থেকে মাত্র দুই বছর পর তার সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাশে খাদ্য উৎপাদনে সামর্থবান হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনই তার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল কারণ দেশটি বিপুল জনসংখ্যা এবং চাষযোগ্য জমির অভাবজনিত প্রচন্ড চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ছিল।

সরকার পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর জোর: প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন যে, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এবং গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া- লবণ, খরা, জলাবদ্ধতা প্রভৃতি সহিষ্ণু ফসলের বিভিন্ন প্রজাতির বিকাশে দুর্দান্ত কাজ করছেন। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের পর তার সরকার এখন সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। চলমান কোভিড মহামারীর মতো যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় তিনি খাদ্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন।

নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার ভূমিকা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসিত: এফএও মহাপরিচালক ঢাকায় ৩৬তম এফএও আঞ্চলিক সম্মেলন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (এপিআরসি) এর সফল আয়োজনে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি খাদ্যশস্য, শাকসবজি, প্রাণিজ প্রোটিন ইত্যাদি সব ধরনের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন। এফএও ডিজি আরও বেশি করে খাদ্য ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় রাজনৈতিক সমর্থনের প্রশংসা করেন। তিনি শেখ হাসিনার উন্নয়ন কৌশলের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে তার অগ্রণী ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন, যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুল প্রশংসিত।

বিশ্ব খাদ্য ফোরামে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ: এফএও মহাপরিচালক এ বছর ইতালির রোমে ৩-৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব খাদ্য ফোরামে প্ল্যানারি স্পিকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। এফএও মহাপরিচালক বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় তার সংস্থার অবিরাম সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও শক্তিশালী, উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, অ্যাম্বাসেডর-এট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম এবং রোমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারি প্রেস সচিব এ.বি.এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এফএও সদর প্তর (রোম) এর প্রধান অর্থনীতিবি ম্যাক্সিমো তোরেরো, এফএও আঞ্চলিক অফিস, ব্যাংকক এর সহকারী মহাপরিচালক জং-জিন কিম এবং এফএও’র ঢাকাস্থ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় সফলভাবে এপিআরসি৩৬ সম্মেলন সম্পন্ন: প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৩৬তম এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি৩৬) শুরু হয়। গত ১১ মার্চ এই সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এ সম্মেলনে ৪৩টি দেশ ও এসব দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া, সদস্য রাষ্ট্র, এফএও’র মহাপরিচালক, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির প্রায় ৯০০ জন নিবন্ধন করেছেন, যা এপিআরসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ রেকর্ড। সম্মেলনের মূল অধিবেশন/প্লেনারি সেশন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কান্ট্রি শোকেসিং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) হয়। ৪ দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দুই নি (৮-৯ মার্চ) সিনিয়র অফিসিয়াল/কৃষি সচিব ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের মিটিং এবং শেষ দুই নি (১০-১১ মার্চ) মন্ত্রিপর্যায়ের/কৃষিমন্ত্রীদের মিটিং হয়।

দুই বছরের জন্য এপিআরসি সভাপতি বাংলাদেশ: আগামী দুই বছরের জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলনের (এপিআরসি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাশে। ঢাকায় এফএও’র চার দিনব্যাপী ৩৬তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী ৩৭তম সম্মেলনটি শ্রীলংকায় আয়োজনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচকে অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন: সম্মেলনে ডিজিটাল হাব স্থাপন, গবেষণার জন্য বিশেষ ফান্ড গঠন, সবুজায়ন বাড়ানো, জলবায়ুসহনশীল কৃষি, টেকসই কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষ, প্রাণি ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব ও আন্তঃনির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচকে অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে এপিআরসির সদস্য ৪৬টি দেশ। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন। এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম ও খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগে গুরুত্বারোপ: এবারের সম্মেলনে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে খাদ্য ও কৃষির বর্তমান অবস্থা, এ অঞ্চলে জলবায়ুসহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে করণীয়, এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইন ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিতকরণ, জুনোটিক বা প্রাণিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরণ ও হেলথ অ্যাপ্রোচ গড়ে তুলতে করণীয়, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত বিনিয়োগ প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ঐক্যমত্য: কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা যেরকম ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। মানবজীবনের সবকিছুকেই এটি প্রভাবিত করবে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি। আর কোভিডের প্রভাবে এ অঞ্চলের কৃষি, খাদ্য ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। সারের উৎপাদন কমে গেছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপ তাদের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। মন্ত্রী জানান, এ অবস্থায় জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও কোভিড মোকাবিলা করে টেকসই কৃষি খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণার মাধ্যমে ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এখানে এফএও বড় ভূমিকা রেখেছে।

গুরুত্ব পেয়েছে ডিজিটালাইজড কৃষি: তিনি বলেন, এ সম্মেলনে ডিজিটালাইজড কৃষি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এফএওকে একটি ‘ডিজিটাল হাব’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল। সব দেশ এটি গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল হাবে ৪৬টি দেশের কৃষিপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী তথ্যসমৃদ্ধ থাকবে, যাতে সব দেশ উপকৃত হতে পারে। জাপানের উদাহরণ তুলে মন্ত্রী বলেন, জাপান কৃষিতে ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করছে বা প্রিসিশন কৃষি করছে। ভালো পরিবেশেই শুধু ভালো জীবনযাপন করা সম্ভব উল্লেখ করে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, এশিয়া প্যাসিফিকে যে খাদ্য যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, সেটি যেন নিরাপদ ও পুষ্টিকর হয় এটি নিশ্চিত করতে সব দেশ একমত রয়েছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্মেলন আয়োজনের জন্য সদস্যদেশগুলো বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তারা বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়েছে।

কৃষিখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে: এই সম্মেলন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছিলেন এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। বাংলাদেশ প্রথমবারের মত এ ধরনের একটি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এশিয়া এবং প্যাসিফিকভুক্ত ৪৬টি দেশের কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব, এফএও’র মহাপরিচালক এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনবে এবং বাংলাদেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেছিলেন, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এফএও’র সদস্য হয়। তারপর থেকে এফএও দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কৃষিতে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই করা, জলবায়ুসহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভ্যালু চেইন আধুনিকীকরণ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। এছাড়া, কৃষিখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) একটি বিশেষায়িত সংস্থা; যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিরসনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এফএও’র সদস্যভুক্ত হয়। এফএও’র একটি আনুষ্ঠানিক ফোরাম হিসেবে প্রতি দুই বছর পর পর এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে সস্য দেশসমূহের কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ খাদ্য ও কৃষির চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করে থাকেন। প্রথম আঞ্চলিক সম্মেলন ১৯৫৩ সালে ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading