ইউক্রেন যুদ্ধের শেষ কোথায়?

ইউক্রেন যুদ্ধের শেষ কোথায়?

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৬:৩৭

বন্ধ করতে আলোচনা শুরু হলেও সুফল এখনো দেখা যাচ্ছে না। রুশ বাহিনী প্রতিরোধের মুখে পড়ছে, তবে ইউক্রেন আর কত দিন এই প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারবে এবং রাশিয়াই বা কোথায় ইতি টানতে চায়—তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করতে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। বুঝে বা না-বুঝেও অনেকে তাদের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে যুদ্ধ কোনো ভালো বিষয় নয়। যুদ্ধে শেষ বিচারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ, মারাও যায় অনেক নিরীহ মানুষ। রাশিয়াও কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ইউক্রেনে ঢোকেনি। তারা সেখানে গেছে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে। যেকোনো যুদ্ধেই ন্যায়-অন্যায়ের এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত থেকে ভাবলে, আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যাচ্ছে সেটা বিষয়বস্তুর অন্তর্নিহিত কারণ না-ও হতে পারে।

অনেকে বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশঙ্কা করলেও সেটা না-ও লাগতে পারে । ন্যাটো ইউক্রেনকে দিয়ে তাদের অবস্থা যাচাই করল আর রাশিয়া জানিয়ে দিল ন্যাটো সম্প্রসারণে তার প্রবল আপত্তির কথা। ইউক্রেনকে সর্বনাশের দোরগোড়ায় ঠেলে দেওয়ার দায় ন্যাটো এবং ইউক্রেনে ক্ষমতাসীনরা এড়াতে পারবে না। যুদ্ধের ক্ষত মোছাও সহজ হবে না। ইউক্রেনের চার কোটি মানুষের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও কি আমেরিকা-ইউরোপ নেবে? ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এর মধ্যেই পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন। আর ন্যাটো যে ইউক্রেনে পা দেবে না, সেটাও জেনারেল সেক্রেটারি স্টলটেনবার্গ বলে দিয়েছেন। বাইডেনও বলে দিয়েছেন রাশিয়া-আমেরিকার মধ্যে গুলিবিনিময় মানে বিশ্বযুদ্ধ। পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি কেউ নিতে চাইবে বলে মনে হয় না। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ইউরোপের ২৭টা দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন, কারও সাহস হয়নি। ইউক্রেন একা। আমেরিকার সঙ্গীদের এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়।

ইউরোপে অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে খারাপ প্রভাব পড়বে। সামাজিক অস্থিরতা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর বিবাদ বাড়তে পারে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে দেশে বিভিন্ন ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রবল ধাক্কা খাচ্ছে। সৌদি আরব ও ইউএইর কর্মকর্তারা সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ফোন ধরেননি।

রাশিয়ার পুতিন যতটা সহজ জয় আশা করেছিলেন, সেটা হয়নি বা হচ্ছে না। তিনি তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা কীভাবে সাজিয়েছেন, তা সম্ভবত কারও জানা নেই। রাশিয়ার যুদ্ধকালীন সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় চীনের অংশীদারি কতটা থাকবে, তার ওপরই পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অনেক কিছুই নির্ভর করছে।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading