নাপা খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু: আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

নাপা খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু: আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

আবদুল্লাহ জোবায়ের । বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৫:৫০

গত ১০ মার্চ রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খান (৫) নামের দুই শিশু মারা যায়। তাদের মা লিমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, নাপা খাওয়ার পর তারা মারা গেছে। শিশুর পরিবার দাবি করেছে, সিরাপ খাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়। এ রকম মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হয়তো এই সিরাপ ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ বা নকল।

ভোজাল ওষুধে শিশু মৃত্যু এর আগেও ঘটেছে। ১৯৯৩ সালে একটি কোম্পানির ভেজাল প্যারাসিটাল সিরাপ সেবনে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হওয়ার খবর আলোচিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কয়েক কর্মকর্তাকে শাস্তিও দেয়া হয়। এরপরও দায়িত্বশীল হয়েছে কোম্পানিগুলো? বরং দিন দিন মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল-ভেজাল ওষুধের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তারা বলছে, রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। সারাদেশে এমন ফার্মেসির সংখ্যা আরো বেশি হবে। এসব ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। মানসম্পন্ন ওষুধ যেমন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনি মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্বাস্থ্যহানি এমনকি জীবননাশের কারণও হতে পারে। কাজেই ওষুধের মান সংরক্ষণ অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্য খাদ্যপণ্যের মতো ওষুধের গুণমান ভোক্তাদের নিজেদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয় না। এ কাজটির জন্য অপরিহার্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি। উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো- মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোধে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতা অপর্যাপ্ত। মাঝেমধ্যে আমরা অভিযান দেখি। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, অসাধু বিক্রেতারা অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের গায়ে নতুন করে মেয়াদ সংবলিত স্টিকার লাগিয়ে তা বিক্রি করে। এছাড়া অনেক সময় বিদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধের প্যাকেটে কোনো ধরনের উৎপাদন তারিখ বা মেয়াদের তারিখ থাকে না। ফার্মেসিতে মনিটরিং ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালানো হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। এসব তৎপরতা বাজারে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। বাংলাদেশের ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকা। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ তৈরির অন্যতম আখড়াও হচ্ছে মিটফোর্ড এলাকা এবং এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভেজাল ওষুধ ছড়াচ্ছে। মিটফোর্ডে গিয়ে মোবাইল কোর্টেরও হেনস্তা হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষমতাঘনিষ্ঠ লোকজন এই নকল-ভেজাল ওষুধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। এ খাতে দুর্নীতি, আইন প্রয়োগের শৈথিল্য, প্রশাসনের নজরদারির অভাব, দুর্বল বিচার ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত অসমর্থতা, দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব ভেজাল ওষুধ বাজারজাত রোধ করতে না পারার প্রধান কারণ।

অন্যদিকে আইনে এ সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি কম হওয়াও বড় কারণ। ওষুধের বাজার ভেজালমুক্ত করা খুবই জরুরি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে তৎপর হওয়া দরকার। ওষুধের কারখানা ও বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে আইন কঠোরও করার উদ্যোগ নিতে হবে। ওষুধ প্রশাসনের তৎপরতায় দুর্নীতি, শিথিলতা রাখা যাবে না। এই চক্র যত ক্ষমতাবানই হোক তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading