প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাপিটাল মার্কেট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল গঠন হলে : পুঁজিবাজার গতিশীল, শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব হবে

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাপিটাল মার্কেট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল গঠন হলে : পুঁজিবাজার গতিশীল, শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব হবে

কিফায়েত সুস্মিত । রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৩৫

দেশের শেয়ার মার্কেট বা পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেন কাটছেই না। গত কয়েক মাস যাবত কোনভাবেই দরপতনের চক্র থেকে বেরুতে পারছে না। প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডিএসই), চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জ কমিশন (সিএসই) সহ পুঁজিবাজার (ক্যাপিটাল মার্কেট) সংশ্লিষ্ট সকলের চেষ্টা তদবিরের পরেও তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি দৃশ্যমান হয়নি। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা সত্বেও বাজারের “খামখেয়ালী” আচরণ ও ক্রমাগত পতনের ধারা এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে চলেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশ আর্থিক ভাবে ভয়াবহ রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেকে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসার অবস্থা। মাঝেমধ্যে দু/একটি কার্যদিবসে সূচকের উত্থান ঘটলেও সেই আশার আলোটুকু হারিয়ে যাচ্ছে পতনের অতলে। একটু ঘুরে দাঁড়ালেও কোনভাবেই ধারাবাহিকতা থাকছে না।

শেয়ার মার্কেটের স্বার্থে অনেক ভালো উদ্যোগ নেয়া সত্বেও মার্কেট শক্তিশালী হচ্ছে না। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। গুজব ছড়ানো, প্যানিক সৃষ্টি করা, ম্যানুপুলেশন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাম্বলিং, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা সহ অনেক কারণ মুখে মুখে ঘুরছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্টদের ভূল-ভ্রান্তি, ত্রুটি, দূর্বলতা, সীমাবদ্ধতা, অনিয়ম, নীতিহীনতা মত এন্তার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও একথা অনস্বীকার্য যে, পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য ড. শিবলী নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষভাবে একথা বলা প্রয়োজন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি শক্তিশালী ও গতিশীল শেয়ার মার্কেট গড়ে তোলার জন্য খুবই আন্তরিক। বহুবার প্রমাণ হয়েছে, তিনি বিনিয়োগ বান্ধব। বিনিয়োগকারীদের কল্যাণের জন্য তিনি যথেষ্ট উদার ও আন্তরিক।

আবার উল্লেখ করতে চাই, এরপরও কেন পুঁজিবাজার আশানুরুপভাবে শক্তিশালী ও অতিশীল নয়? আমার মতে, আর একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ের অভাব। কোন কোন ক্ষেত্রে সততা ঘাটতি রয়েছে। আরও রয়েছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদারকির দূর্বলতা। তবে সমন্বয়হীনতা যেন সবচেয়ে প্রকট।
একথা অনস্বীকার্য যে, সমৃদ্ধ দেশ গঠনের লক্ষে অর্থনৈতিক উন্নতির বিকল্প নেই। এজন্য গতিশীল, শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তোলা খুবই জরুরী। সকল ধরনের সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে “ক্যাপিটাল মার্কেট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল” বা একটি সমন্বয় ফোরাম গড়ে তোলা দরকার। এটা সময়ের দাবি।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই’র সকল স্টেক-হোল্ডার এবং বিনিয়োগকারীদের নিয়ে এটা গঠন করতে হবে।

এই ক্যাপিটাল মার্কেট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা/প্যাট্রন হবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএসইসি’র পাশাপাশি ওই কাউন্সিলে থাকবেন সকল শটেক-হোল্ডারদের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের অংশীদারিত্ব। সম্ভাব্য যারা থাকবেন, অর্থ মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, অর্থ সচিব, বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএসই, সিএসই, শেয়ার মার্কেটে লিস্টেড কোম্পানী প্রতিনিধি, ব্রোকারেজ হাউজ/ট্রেক লাইসেন্সধারীদের প্রতিনিধি, মার্চেন্ট ব্যাংক প্রতিনিধি, এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি, মার্কেট মুভার প্রতিনিধি, ব্যাংক/লিজিং/ফাইনান্স/আর্থিক প্রতিষ্ঠান/ইন্সুরেন্স মালিক প্রতিনিধি, ব্যাংক/লিজিং/ফাইনান্স/আর্থিক প্রতিষ্ঠান/ইন্সুরেন্স প্রধান নির্বাহীদের প্রতিনিধি, ব্যাংক/লিজিং/ফাইনান্স/আর্থিক প্রতিষ্ঠান/ইন্সুরেন্স সিএফও প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণ।
প্রস্তাবিত ওই কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বা সমন্বয় ফোরামের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও বিকাশের লক্ষে ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সকল নীতিমালা প্রনয়ন এবং কর্মপন্থা ও কৌশল নির্ধারণ করা হলে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পুজিবাজার গড়ে ওঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading