বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ যে কারণে সমার্থক
অনুপম সেন । রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:০৬
বাংলাদেশ এখন বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। লোকে বলে থাকেন বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক। কথাটি সত্যি। সত্যি এই অর্থে যে, বাঙালির যে হাজার বছরের ইতিহাস, এই ইতিহাসে সাধারণ বাঙালি কখনো তার নিজের রাষ্ট্র পায়নি। আমাদের একসময়ে যে রাজ্যগুলো ছিল, যেমন- পাল আমল, সেন আমল, মোগল, পাঠান, সুলতানরা আমাদের শাসন করত সেগুলো ধরে নিতে পারি স্বাধীন রাজ্য ছিল, কিন্তু জনসাধারণ স্বাধীন ছিল না। এরপরে যে ইংরেজ শাসন ১৯০ বছরের, সেখানেও জনসাধারণ স্বাধীন ছিল না। বাঙালি এবং ইন্ডিয়ানরা পরাধীন ছিল।
৬ দফার মধ্যে দুটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, ১৯৬৫ সালে যখন ইন্ডিয়া পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছিল, তখন পূর্ব পাকিস্তান পুরোপুরি অরক্ষিত ছিল। তাই পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য আলাদা বাহিনীর কথা বলা হয়েছিল। মোট কথা, ৬ দফা দাবির মধ্যে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের ধারণাই ছিল। তাই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী শেষ দিন পর্যন্ত ৬ দফার দাবিগুলো মেনে নেয়নি।
মূলত ছয় দফার দাবিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মূলমন্ত্র। ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার আলি ভুট্টোর সঙ্গে যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল, সেটির মূলে ছিল ৬ দফা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যে সৃষ্টি, সেটি হলো ৬ দফার প্রতিফলন। বঙ্গবন্ধু যদি ৬ দফা না দিতেন, তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হতো না। ৬ দফার প্রবক্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধুই স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্রষ্টা। তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ সমার্থক।
একাত্তরে যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো, তবে আজ এই অঞ্চল অত্যন্ত দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হতো। ১৯৬৯-৭০ এর সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকের চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের নাগরিকের মাথাপিছু আয় প্রায় ৫০ ভাগ বেশি ছিল। এতে বোঝা যায় যে, বৈষম্য কতটা ছিল। সেখানে আজ বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০৬৪ ডলার, বিপরীতে পাকিস্তানের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৩৫৭ ডলার। একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই বাঙালির অগ্রযাত্রা আজ বিশ্ববাসী অবাক চোখে দেখছে। সবক্ষেত্রেই এখন পাকিস্তানের থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে খাদ্য উৎপাদন ছিল ১ কোটি টন। আজ ৪ কোটি টন। লোকসংখ্যা একাত্তরের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও কিছু বেশি। এত সংখ্যক মানুষের খাদ্যের সংস্থান বাংলাদেশ করতে পারছে।

