ডিজিটাল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা

ডিজিটাল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা

জুয়েল মাহমুদ । সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১১:৩৫

দিনবদলের বইছে হাওয়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের প্রথম চাওয়া—এই পরম স্লোগান সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্ভাবনাময় এক স্বপ্ন পূরণের নিরিখে ২০০৯-১০ সালে বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল দেশে রূপান্তর করার আশা ব্যক্ত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করেছিলেন।

আর তারই ধারাবাহিকতায় দেশ এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ ভিশন ২০২১’ ঘোষণার পর আজ ১২ বছরে ডিজিটালাইজেশনের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, একসময়ের পিছিয়ে থাকা দেশ আজ শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে ডিজিটাল হওয়ায় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো স্থান দখল করতে পেরেছে।

যখন সারা দেশে সীমাহীন বিদ্যুৎসংকট চলছিল এবং বিদ্যুত্ ঘাটতি পূরণের অসম্ভব চ্যালেঞ্জকে মাথায় রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সুদূরপ্রসারী চিন্তা, স্বপ্ন ও ঘোষণাকে সমাজের সুশীল নামধারী কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সেদিন কটাক্ষ করেছিলেন। সমালোচনামুখর সেইসব তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যকে পেছনে ফেলে বিদ্যুতের ঘাটতিকে জয় ও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরের ফলে বাংলাদেশ আজ নিম্নমধ্যবিত্ত দেশের তালিকায় জায়গা করে নিতে সমর্থ হয়েছে।

তাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাভোগী প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরে আপামর মানুষের কণ্ঠে আজ ধ্বনিত হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কালের আবর্তে আজ স্বপ্ন নয় বরং রূপ নিয়েছে বাস্তবে।

একটি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার যে ঘোষণা করেছিল সেই ঘোষণার আলোকে জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা, মোবাইল মানি ট্রান্সফার, বিমানের টিকিট, ই-টেন্ডারিংসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু সেতু, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রসহ ঢাকা এবং দেশের অধিকাংশ জেলা শহরে যানজট নিরসন তথা দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে তৈরি করেছেন শত শত উড়াল সেতু।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে দেশের ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।

দেশের সব উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ফোর-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪টি মাইলস্টোন দিয়েছেন, প্রথম ২০২১ সালের রূপকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা, তৃতীয় ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং চতুর্থ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সালের জন্য।

জনগণের দোরগোড়ায় তথ্যপ্রযুক্তির সেবা তথা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পৌঁছে দিতে আমাদের আন্তরিক প্রয়াস নিতে হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের হাতকে গতিশীল করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই প্রধানমন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকল্পে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সবাইকে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানে সমন্বিতভাবে কাজ করে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading