বঙ্গবন্ধু: দারিদ্রের বিপক্ষে দরিদ্রের ত্রাতা

বঙ্গবন্ধু: দারিদ্রের বিপক্ষে দরিদ্রের ত্রাতা

হাবিবুর রহমান । সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১১:২৫

বঙ্গবন্ধু আজীবন দরিদ্রজনের সখা ছিলেন। তাদের কষ্টে তিনিও কষ্ট পেতেন। মানুষের প্রতি যে অক্ষয় ভালোবাসা তার জীবনের অস্তিত্বের প্রতীক ছিল সেটিই তাকে করেছে মহান। ছোটবেলা থেকেই তিনি অভুক্তের জন্য খাবারের ব্যবস্থা, গরিব ছাত্রদের জন্য মুষ্টি চাল সংগ্রহ করা, দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের জন্য লঙ্গরখানা স্থাপন করা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিপর্যস্তদের জন্য ত্রাণশিবির খোলার মতো মানবিক কাজে তার উৎসাহের কোনো শেষ ছিল না।

১৯৫২ সালে তিনি চীন সফর করেন। সে সময় তিনি বিভিন্ন কৃষি খামার, শিল্প কারখানা, শ্রমিক কলোনি ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। এত অল্প সময়ে চীন কেমন করে ভূমিসংস্কার সম্পন্ন করল এবং সকলের ভাগ্যোন্নয়নে রাষ্ট্র নিবেদিত হলো সেসব কথা জানার চেষ্টা করেছেন। উদ্দেশ্য যদি কখনো দেশ পরিচালনার সময় পান তাহলে সেসব সংস্কারে তিনি ব্রতী হবেন।

বাহাত্তরে তিনি কৃষকদের ওপর থেকে দশ লক্ষ সার্টিফিকেট মামলা তুলে নিলেন, পঁচিশ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা না দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করলেন। একই সঙ্গে সতেরো হাজার মেট্রিক টন উন্নত বীজ আমদানি করে কৃষকদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ নিলেন। তার শাসনামলে চল্লিশ হাজার লো-লিফ্ট পাম্প, ২,৯০০ গভীর নলকূপ এবং তিন হাজার অগভীর নলকূপ বিতরণ করার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি বাঁধ ও সেচ প্রকল্পগুলো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগও তিনি গ্রহণ করেন।

পাশাপাশি কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেন কৃষকদের কাছে কৃষিঋণ বিতরণের জন্য। তিনি কৃষির ওপর জোর দিতেন, কারণ তিনি জানতেন এর ফলে গ্রামে কর্মসংস্থান বাড়বে। তাতে দারিদ্র্য কমবে। আর খাদ্য সংকট তো মিটবেই। সাথে সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে। সে কারণে শিল্প ও বাণিজ্যিক পণ্যের চাহিদাও বাড়বে।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা তার মজ্জাগত ছিল। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের ঊষালগ্নে ১৯৭২ সালের ৯ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘আমি কী চাই? আমি চাই আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার বেকার কাজ পাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক? আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ হেসে খেলে বেড়াক। আমি কী চাই? আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণ ভরে হাসুক।’

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading