শিশুর বিকাশে খেলার মাঠ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:২৩
পড়াশোনা শিশুর জন্য জরুরি। কেননা, তারাই আগামী দিনের তারকা; তাদের বলা হয় জাতির ভবিষ্যৎ। অথচ আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি যে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। শিশু-কিশোরদের পরিপূর্ণ বিকাশ হলে তবেই না তারা সুন্দর দেশ গঠনে সাহায্য করবে। তাই যেমন মানসম্পন্ন শিক্ষা শিশুর জন্য দরকার, তেমনি খেলাধুলা করার জন্য দরকার মাঠ। আমরা যারপরনাই চেষ্টা করছি জাতির ভবিষ্যতের জন্য মানসম্পন্ন ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করার। কিন্তু খেলার মাঠের কথা আদৌ কি ভাবছি?
রাজধানী ঢাকা শহরে তিল ধারণের জায়গা নেই। সেখানে শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য মাঠ থাকবে, এমনটা আশা করা কঠিন। তবে ঢাকার বাইরে, যেখানে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করা যায়, সেখানে তো অন্তত খেলার মাঠের দৃশ্য কল্পনা করাই যায়। আসলে কল্পনা করার প্রয়োজন নেই। মাঠ ঢাকার বাইরে কম নেই, ঢের আছে। তবে দুঃখজনক হলো কিছু কিছু জায়গার মাঠে খেলাধুলা না হয়ে অন্য কিছু হয়। যেমনটা হয় বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে।
নামে খেলার মাঠ, তবে সারা বছর কোনো না কোনো আয়োজন চলতে থাকে সেখানে। এখন চলছে ক্ষুদ্রশিল্প মেলা। কখনো চলে বিসিক শিল্পমেলা, কখনো চলে তাঁতশিল্প মেলা, বৈশাখের সময় চলে বৈশাখী মেলা। নিয়মিত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের আয়োজন তো চলতেই থাকে। এসব আয়োজনের আগে ও পরে মাঠ প্রস্তুত এবং সেখান থেকে জিনিসপত্র অপসারণে অনেক সময় লেগে যায়। এভাবে বছরব্যাপী ব্যস্ত থাকে মাঠ। খেলাধুলা কিংবা শরীরচর্চার সুযোগ মেলে না কারও।
অথচ একটা সময় বয়সভিত্তিক ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আসর হতো বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে। একদিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলছেন, এই মাঠের দায়িত্বে আছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পৌরসভার সচিব রেজাউল করিম জানিয়েছেন, খেলার মাঠে মেলা বসার জন্য কোনো আইনগত বাধা নেই।
আইনগত বিধিনিষেধ আছে কি নেই, সেই প্রশ্নটা বরং এড়িয়ে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ফিরে যাই। শুরুর দিকে বলা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যে খেলার মাঠের অনন্য ভূমিকা আছে, সেটা কি আমরা ভেবে দেখছি? জেলা প্রশাসক কিংবা পৌরসভা সচিব, যে কেউই ভাবতে পারতেন এ কথা। ভাবনায় তাড়না পেলে জাতির ভবিষ্যতের জন্য নিতে পারতেন শুভ উদ্যোগ। খেলার মাঠের দায়িত্ব কার কাছে, সেখানে কারা ভাড়া দিয়ে কত টাকা আয় করল, সেটার চেয়ে বড় বিষয় সম্ভবত এটাই—শিশু-কিশোরদের জন্য এমন একটা সুস্থ, সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা; যেন ভবিষ্যতে তারাই সুন্দর মনের অধিকারী হয়ে এই পরিবেশটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

