ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিশ্বে এগিয়ে বাংলাদেশ

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিশ্বে এগিয়ে বাংলাদেশ

ইমরাজ করিম । মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:১০

বিশ্বজুড়ে আউটসোর্সিং আয় এখন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কেননা এতে কর্মস্থলে যাওয়ার কোনো দৌঁড়াদৌঁড়ির ব্যাপার থাকে না। ঘরে বসেই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে কাজ করা যায়। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে দেশের শিক্ষার্থীরা এ কাজ করে ভাল উপার্জন করতে পারেন। শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয় নয়- এতে দেশের সুনামও বাড়ে। বিশ্ব জানে, ডিজিটালে অগ্রগতি ঘটেছে দেশের। ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সংহত করতে আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের একটি আন্তর্জাতিক রোল মডেল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক রোল মডেল তৈরির অংশ হিসেবে আমরা প্রথমে ১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে ৬ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের পাইলটিং করতে যাচ্ছি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রশিক্ষণের কোর্সটি ডিজাইন করা হচ্ছে এবং হাতে-কলমে এমনভাবে তা শেখানো হবে, যেন একজন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ চলাকালে মাসে ন্যূনতম ২০০ ডলার আয় করতে পারবেন। সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগের সহযাত্রী হয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দেবে। প্রশিক্ষণ কোর্সটি কার্যকর এবং সাফল্যের সঙ্গে শেষ হলে এটি হবে একটি আন্তর্জাতিক রোল মডেল।

আউটসোর্সিং আয়ে বাংলাদেশ ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। কম খরচ ও ঝুঁকি বিবেচনায় ইউরোপ-আমেরিকা তথা উন্নত বিশ্বের অনেক বড় কম্পানি এখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আউটসোর্সিং করছে। এতে বাংলাদেশ হয়ে উঠছে ফ্রিল্যান্সিং কর্মসংস্থানের বড় উৎস। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট ওআইআইর তথ্যমতে, অনলাইন শ্রমিক সরবরাহে অর্থাৎ আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশ। বর্তমানে এ দেশের নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন ছয় লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ নিয়মিত কাজ করছেন।

ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সারের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ইন্টারনেট কানেকশনের পাশাপাশি কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, যথেষ্ট সময় ও ধৈর্য থাকতে হয়। আউটসোর্সিংয়ে সরাসরি কাজ পেতে ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যক্তিগত ঠিকানা, ই-মেইল, ফোন নম্বর ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করে একটি সিভি তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি প্রফাইলকে আকর্ষণীয় করতে হয়, যাতে ক্লায়েন্ট প্রফাইল দেখে ভরসা করতে পারে। প্রফাইল যথার্থভাবে সাজানো হলে মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন কম্পানিতে কাজ করার প্রস্তাব পাঠাতে হয়। ক্লায়েন্টদের চাহিদামতো কাজ করতে পারলে কোনো ফ্রিল্যান্সারেরই কাজের অভাব হয় না। বাংলাদেশের আইসিটি ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বছরে ১০ কোটি ডলার আয় করছেন।

বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের বর্তমানে প্রচুর আমেরিকা ও বৃটেনের ক্লায়েন্ট রয়েছে এবং এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং প্রতিভা সরবরাহকারী। যুবসমাজের বিশাল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ এশিয়ার কয়েকটি দেশগুলোর মধ্যে একটি। এর ১৬৩ মিলিয়ন লোকের মধ্যে প্রায় ৬৫%; ২৫ বছরের কম বয়সি। এই বিশাল, তরুণ ও শক্তিশালী মানবসম্পদ, এখনো প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়জ্ঞানের অভাব রয়েছে। যদিও ক্যারিয়ার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং গত কয়েক বছরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, হাজার হাজার বাংলাদেশের তরুণ এই সুযোগটি কাজে লাগাতে তাদের সহায়তা করার জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তার প্রয়োজন। আমাদের আইটি সেক্টর এবং আইটি উন্নয়নের উত্থানের কারণে বাংলাদেশে আউটসোর্সিং বেড়েছে। পস্নাস সরকারের সহায়তায় এটি এখন ভাসমান। সরকার এই খাতকে অন্য আর এমজি খাত হিসেবে দেখেছে যা প্রচুর বিদেশি রেমিট্যান্স উৎপাদন করতে পারে। আউটসোর্সিং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আমার দুর্দান্ত মাইলকে প্রভাবিত করেছে এবং যতক্ষণ না সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে এবং যদি সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয় ততক্ষণ এই দেশগুলোর অর্থনীতির সার্থকতা অব্যাহত থাকবে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading