বঙ্গবন্ধু বাঙালির অগ্রযাত্রার পথপ্রদর্শক
সাজেদুল হাসান । রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:১৫
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের অগ্রযাত্রার পথপ্রদর্শক। স্বাধীনতা লাভের পর একটা জাতি কিভাবে আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভর হয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সে পথটি তিনি দেখিয়ে গেছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম লড়াইয়ের পর এ দেশটি যখন স্বাধীন হয় তখন তিনি এক বক্তৃতায় বলেছিলেন ‘স্বাধীনতা অর্জন যতটা কঠিন তা রক্ষা করা আরো কঠিন।’
দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে দেশবাসীকে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন তিনি। সদ্য স্বাধীন ভঙ্গুর অর্থনীতি তথা অবকাঠামো পুনর্গঠনে সীমাহীন কাজ করে বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতিকে মর্যাদার আসনে তিনিই অভিসিক্ত করে গেছেন।
জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেয়াটা ছিল একটি অনন্য উদাহরণ। অতি স্বল্প সময়ে সংবিধান উপহার দেয়া কোনো দেশের পক্ষেই সম্ভব ছিল না। জাতি রাষ্ট্র গঠন করে তার ভবিষ্যৎ রূপ কল্পনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি সংবিধানের মতো দুরূহ কাজটি সেরে নিয়েছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই সেটা সম্ভব হয়েছিল।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কেবল একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশই উপহার দেননি, তিনি একটি দেশের সমৃদ্ধি ও জাতি গঠনের নানা দিক নিয়ে চিন্তা করেছেন। বাঙালি জাতির ন্যায্য দাবির প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন দৃঢ়চেতা শুদ্ধ মানুষ। কেবল মানুষের কল্যাণে সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর আবার যেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান।
হয়তো বাঙালির ভাগ্য ফেরাবার লক্ষ্যেই পরম সৃষ্টিকর্তার অপার লিলার অনুষজ্ঞ হিসেবে শেখ হাসিনা ও রেহানার বেঁচে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের হাল কে ধরবে? কে দেবে নেতৃত্ব? এমন পরিস্থিতির দোলাচালে ১৯৮১ সালের জুন মাসে শেখ হাসিনা স্বদেশের মাটিতে ফেরেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা যেন গণতন্ত্রেরই পুনঃযাত্রা। শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন। দলে ফিরে আসে প্রাণ। বাঙালি আবার স্বপ্ন দেখে সোনার বাংলার।

