টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ

টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ

রোকনুজ্জামান রঞ্জন । সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:৫০

স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে। চলতি বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫১ বছরে দেশের উন্নয়ন লক্ষণীয় এবং প্রশংসনীয়। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে সরে এখন আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে জায়গা করে নিচ্ছি। এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্জনের খাতায় আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় যুক্ত হয়েছে, তা হচ্ছে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে বিশ্বে এগিয়ে থাকা ৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যেখানে অনেক উন্নয়নশীল দেশই এসডিজি অর্জনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেখানে মহামারীকালেও বাংলাদেশের এই অর্জন অভাবনীয়।

জাতিসংঘ ২০০০-২০১৫ সালে ১৫ বছর মেয়াদি একটি লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করে, যা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি নামে পরিচিত। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রশংসনীয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ১৫ বছর মেয়াদি আরো একটি লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়, যার প্রধান ও একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১৭টি উল্লেখযোগ্য ও সময়োপযোগী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে দারিদ্র্যতা দূর করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত ও লিঙ্গবৈষম্য প্রতিরোধ অন্যতম। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস বা এসডিজির ১৭টি গোল বা লক্ষ্য হলো: দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন এবং টেকসই কৃষ্টির প্রসার, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা অর্জন ও নারী ক্ষমতায়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা, সহজলভ্য জ্বালানি, সবার জন্য কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, অন্তঃ ও আন্তঃ দেশীয় অসমতা কমিয়ে আনা, টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা, পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন ধরন নিশ্চিত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জরুরি কর্মব্যবস্থা গ্রহণ, সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার, বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারত্ব। লক্ষ্যগুলো থেকে এ কথা সহজেই বোধগম্য যে, এসডিজি কোন একটি দেশের জন্য নয়, এটি মানবসভ্যতার বৃহত্তর কল্যাণের জন্য।

এসডিজির সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে আমাদের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: সম্পদের সংহতকরণ ও মানোন্নয়ন। আমাদের পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি ফলপ্রসূ করতে হবে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। দেশের প্রতিটি কোণায় কোণায় বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে যাতে করে আমরা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারি। অবৈধ অর্থ প্রবাহ বন্ধ করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশ হলে কম সুদে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। সেগুলো মোকাবেলা করতে হতে হবে এবং উত্তরণের পথ বের করতে হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। টেকসই উন্নয়নে সুশীল সমাজের অবদানের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং নিকট ভবিষ্যতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করার মত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। টেকসই উন্নয়নে একাধারে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উৎকর্ষ সাধিত হয় যা একটি সমাজ তথাপি একটি দেশের আমূল পরিবর্তন করতে সক্ষম।

বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার রোডম্যাপ রয়েছে। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন এবং ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য সকলকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। টেকসই উৎপাদন ও ভোগের জন্য সরকার, উৎপাদনকারী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিককে এক প্ল্যাটফর্মের নিচে এসে কাজ করতে হবে। এমডিজিতে ৮টি লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা ৮টি পুরস্কার পেয়েছিলাম। এসডিজিতেও প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। তবেই আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading