ইমরান খানের মসনদ টালমাটাল

ইমরান খানের মসনদ টালমাটাল

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:২০

ক্রিকেট মাঠে নেতা হিসেবে করেছেন বিশ্বজয়। কিন্তু রাজনীতির মাঠে এসে যেন মুদ্রার উল্টোদিকটাই দেখতে হচ্ছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো বড় ধরণের সংকটে পড়তে যাচ্ছেন তিনি। তাতে পাকিস্তানের অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পূর্ণমেয়াদের আগেই ইমরান খান হারাতে পারেন তার মসনদ। বিস্তারিত লিখেছেন মো. আসাদুজ্জামান

পাকিস্তানের অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা, স্বাধীন আমেরিকা-বিরোধী পররাষ্ট্র নীতি ধারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া ও জাতীয়তাবাদের কথা বলে ২০১৮ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। ক্ষমতায় আসার পর শুধু আমেরিকার বিরোধিতা করা ছাড়া তার অন্যান্য প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো তার পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। সঙ্কট এমন পর্যায়েই পৌঁছেছে যে তার মসনদ যে কোনো সময়েই হারাতে হবে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশ শাসনে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে গত ৮ মার্চ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধী দলগুলো। এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির জন্য অধিবেশন ডাকতে স্পিকার আসাদ কায়সারের প্রতি লিখিত আবেদন জানান তারা। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, লিখিত আবেদন জমার ১৪ দিনের মধ্যে স্পিকারকে আলোচনার জন্য অধিবেশন ডাকতে হবে। সে অনুযায়ী, গত ২২ মার্চের মধ্যে অধিবেশন আয়োজন করার কথা ছিল। তবে ওই দিন থেকে জাতীয় পরিষদে ওআইসির দুই দিনব্যাপী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হওয়ায় তা আর হয়নি। গত শুক্রবার অধিবেশন বসে। কিন্তু সদ্য প্রয়াত জাতীয় পরিষদ সদস্য খায়াল জামানকে শ্রদ্ধা জানাতে অনাস্থা প্রস্তাব ভোটে না তুলেই অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। পরে এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের কড়া সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় নেতারা।

ইমরান খানের দল

অনাস্থা প্রস্তাব তোলেন নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ: অবশেষে সোমবার (২৮ মার্চ) পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হলে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতা শাহবাজ শরিফ প্রস্তাবটি পেশ করেন। বিরোধী নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ প্রস্তাবটি তোলার পর এর পক্ষে থাকা এমপিদের সংখ্যা গণনার জন্য তাদের দাঁড়াতে বলেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি। সদস্যদের সংখ্যা গণনার পর অনাস্থা প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য অনুমোদন করা হয়। একইসঙ্গে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণা দেন ডেপুটি স্পিকার। সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টে উপস্থিত এমপিদের ২০ শতাংশের সমর্থন পেলেই প্রস্তাবটি আলোচনা বা ভোটাভুটির জন্য গৃহীত হয়। তবে কোনও প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে এ নিয়ে ভোটাভুটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

শাহবাজ শরিফ

১৭২ রান করতে পারবেন বিশ্বকাপজয়ী কাপ্তান?: ৩৪২ সদস্যের ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি’তে ইমরানের দল পিটিআই-এর রয়েছে ১৫৫ জন সদস্য। ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজন ১৭২ জন সদস্যের সমর্থন। পিটিআই-এর ১৫৫ ছাড়াও অন্তত ছ’টি রাজনৈতিক দলের ২৩ জন সদস্যের সমর্থন রয়েছে ইমরানের পক্ষে। কিন্তু সূত্রের দাবি, ইমরানের দলের অন্তত ২৪ জন অ্যাসেম্বলি সদস্য বিদ্রোহী হয়ে বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ফলে ইমরানের সরকার টেকানো কঠিন।

‘বিদেশি অর্থে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র’: এদিকে, এই অনাস্থা প্রস্তাবে ষড়যন্ত্র দেখছেন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, তার সরকারের পতন ঘটাতে বিদেশ থেকে অর্থ ঢালা হচ্ছে। রবিবার ইসলামাবাদের প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল সমাবেশ করেন ইমরান। সেখোনে তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তিমত্তারও জানান দিয়েছেন। বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই অনাস্থা প্রস্তাব তোলা হচ্ছে ইমরান ভাষণে দাবি করেন। খবর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার। এদিন ইমরানের সমাবেশে লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়। দুই ঘণ্টার দীর্ঘ ভাষণে ইমরান শুরুতে সরকারের নানা অর্জন তুলে ধরেন। এরপর তুলোধুনো করেন বিরোধীদের। শেষে ষড়যন্ত্রের কথা তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতিতে বৈদেশিক প্রভাবের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার সরকারের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইমরান খান বলেন, বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। আমাদের লোকজনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করছে। আমাদের চাপ দিতে কোন জায়গা থেকে এসব করা হচ্ছে, তা আমরা জানি। আমরা কারও নির্দেশনা মেনে নেব না। প্রত্যেকের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব আছে। কিন্তু আমরা কারও কাছে নিজেদের সমর্পণ করব না,বলেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিছুই চাপা থাকে না: ইমরান বলেন, আমরা এই চক্রান্ত সম্পর্কে কয়েকমাস ধরেই জানি। আমরা তাদেরকেও চিনি যারা এই লোকগুলোকে একাট্টা করেছে (বিরোধীদলগুলো)। কিন্তু সময় বদলেছে। এটা জুলফিকার আলি ভুট্টোর আমল না। এটা স্যোশাল মিডিয়ার যুগ। এখানে কোনো কিছুই চাপা থাকে না, বলেন তিনি। আমরা জানি কোন জায়গা থেকে আমাদের চাপে ফেলা হচ্ছে। আমাদের লিখিত হুমকিও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমরা জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেব না।

ভবিষ্যৎ টের পেয়েই বিশাল সমাবেশের আয়োজন: রাজনৈতিক বিশ্লেণকরা বলছেন, আস্থাভোটের ফল আন্দাজ করেই ইসলামাবাদে সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগে ভরা ভাষণ দিয়েছেন ইমরান। তার আসল লক্ষ্য আস্থাভোট নয়, বরং সাধারণ নির্বাচন। জনসভায় উপস্থিতির হার যদি ভোটবাক্সের ফলের সামান্যতম ইঙ্গিতও বহন করে, তা হলে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যেতে পারেন ৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ দেওয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

দলীয় নীরবতা সঙ্কট আরও বাড়াচ্ছে : পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির আগে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অন্তত ৫০ জন মন্ত্রীকে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে না, যা নিয়ে চলছে গুঞ্জন। দেশটির একটি প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক লিখেছে, বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তৎপর হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের এই মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। পত্রিকাটি লিখেছে, পিটিআইয়ের মন্ত্রীদের এই নীরবতা গুঞ্জনকে আরও উসকে দিচ্ছে। দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের অনুপস্থিতিতে এই বার্তা দিচ্ছে যে, তারা হয়ত বিকল্প কিছু ভাবছেন, হয়ত সঠিক সময়ে মুখ খোলার অপেক্ষায় আছেন। অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এখনও ভালো সমর্থনই পাচ্ছেন ইমরান খান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি, তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী হাম্মাদ আজহার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পারভেজ খট্টক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ বেশ জোরেশোরে ইমরান খানের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

অনাস্থার পক্ষেই সমর্থন দেবেন ইমরানের ডজনখানেক সদস্যও: বিরোধী নেতারা এমন দাবিও করেছেন যে, ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের ডজনখানেক সদস্যও অনাস্থার পক্ষে সমর্থন দিতে পারেন। দলটির অন্তত ডজনখানেক আইনপ্রণেতা মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে না পারার জন্য নেতার দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। পাকিস্তানে কোনো প্রধানমন্ত্রীর পুরো মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড নেই। ইমরান যদি আস্থা ভোটে উৎরাতে ব্যর্থ হন, সেই রেকর্ড আরও দীর্ঘায়িত হবে।

অর্থনীতি তছনছই কাল হয়ে দাঁড়াল: মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে সঙ্কটের জেরে পাকিস্তানেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা আগের সরকারের কাছ থেকে ইমরানের সরকারের ঘাড়ে চেপেছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশার এই দায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরানের ওপরই চাপছে এখন। পাশাপাশি, তার ভ্রান্ত অর্থনৈতিক নীতি, ক্ষমতায় বসার প্রথম বছরে একাধিকবার অর্থবছরের মেয়াদ বদলানোসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তানকে ভুগতে হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তান আমেরিকার সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। পরমাণু অস্ত্রধারী দেশটি প্রতিবেশী আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অধীনে পাকিস্তান ধীরে ধীরে আমেরিকার প্রভাব বলয় থেকে সরে চীনের আরও ঘনিষ্ট হয়ে উঠেছে, রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে ইমরানের জন্য রাজনৈতিক হুমকি মূলত তার দেশের ভেতরে। মূল্যস্ফীতির হার দুই অংকের ঘরে, ফলে সর্বত্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সমালোচনা বেড়েই চলেছে। বলা হচ্ছে, ইমরান দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েছেন।

সরে গেছে সামরিক বাহিনীর ছায়াও: সামরিক বাহিনীর ছায়ায় ইমরান প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন, সেই ছায়া এখন তার ওপরে আর নেই। মূলত তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদকে সামরিক বাহিনীর প্রধানের পদ দিতে গিয়ে তিনি সামরিক বাহিনীর সমর্থন হারিয়েছেন। পাকিস্তানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা ইমারানের ওই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া

৬০০ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ: প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম অভিযোগ করেছেন, ইমরান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবি মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ঘুষের অঙ্ক প্রায় ৬০০ কোটি পাকিস্তানি টাকা বলে দলীয় এক সমাবেশে অভিযোগ করেছেন মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেত্রী। বিতর্ক আরও বেড়েছে পাকিস্তানরে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দ বাদ দেওয়ায়। উধাও হয়েছে চ্যানেলের ভেরিফায়েড টিক চিহ্নও। ইউটিউবের নিয়ম অনুযায়ী, যে সব ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফায়েড সেগুলোর নামের পাশে নীল টিক চিহ্ন থাকে। তবে চ্যানেলের নাম পরিবর্তন করলে সেটির ভেরিফায়েড টিক পরিবর্তন করা হয়।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৯ মার্চ ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

ভাগ্যে কী আছে ‘জানা যাবে ৪ এপ্রিল’: বিশ্বকাপে জিতে দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন বেশ সহজেই। সেটাকে পুঁজি করে রাজনীতিতে আসলেও দল পরিচালনায় ইমরানের ব্যর্থতাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল। সবকিছু মোকাবেলা করে তার এখন মসনদে টিকে থাকাটা কঠিন হয়েই দাঁড়িয়েছে। যেহেতু সোমবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে ৪ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাব উপস্থাপনের তিনদিন পূর্ণ হওয়ার পর থেকে সাত দিনের মধ্যে ভোট আয়োজন করতে হয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয়, সরকার সর্বোচ্চ সময়ই নিতে যাচ্ছে।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading