বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাজনীতির কবি
মিলন সরকার । বুধবার, ৩০ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৫:০৫
বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ একসূত্রে গাঁথা তিনটি শব্দ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি দর্শন, একটি চেতনা। যে চেতনা ধারণ করে তরুণ ও যুব প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হয় দেশ এগিয়ে নিতে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের পেছনের মানুষটির বেড়ে-ওঠা কল্পরাজ্যের গল্পকেও হার মানায়। তাঁর এই ভাষণের যুগান্তকারী ভূমিকা কেবল অবিশ্বাস্য নয়, চমকপ্রদও বটে।
তাই এই মানুষ ও তার ভাষণ— দুই-ই ইতিহাসে কালজয়ী দৃষ্টান্ত হয়ে আছে এবং থাকবে। আমরা অবগত আছি যা গল্প ও বাস্তবকে হার মানায়, তা হয়ে ওঠে কিংবদন্তি বা কিংবদন্তিতুল্য। তিনি আর্কেটাইপ নন, লিজেন্ড। ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার নেতৃত্ব দেওয়া যে কোনো বিচারে অসাধারণ ঘটনা।
বাঙালি জাতির রক্তমাখা সংগ্রামী ইতিহাসের সঙ্গে মার্চ মাসের সম্পর্ক গভীর। বাঙালি জেগেছে মার্চে, স্বাধীন বা মুক্ত হবার ঘোষণাও দিয়েছে মার্চে। বাঙালি নিজেদের জাত চিনিয়েছে অগ্নিঝরা মার্চে। সুতরাং বাঙালি জাতির জন্য মার্চ মাস গুরুত্ববহ। ৭ মার্চের ভাষণে একজন মুজিব যেভাবে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দিয়েছেন মুক্ত হবার দিকনির্দেশনা। তেমনি শত বছর পূর্বে এই মার্চেই জন্মেছেন নির্মোহ, তেজস্বী এই বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম রাজনৈতিক কবি।
‘নিউজউইক’ ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন। একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয়, সেদিকেও তার সতর্ক দৃষ্টি ছিল।
তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি। তার এই সতর্ক কৌশলের কারণেই ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই জনসভার ওপর হামলা করার প্রস্তুতি নিলেও তা করতে পারেনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও শেখ মুজিবকে ‘চতুর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘শেখ মুজিব কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেলো, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না।’
ইউডি/অনিক

