সামাজিক বনায়ন: বাংলাদেশের সাফল্যও কম নয়

সামাজিক বনায়ন: বাংলাদেশের সাফল্যও কম নয়

কিফায়েত সুস্মিত । শনিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১২:৫০

বাংলাদেশে সামাজিক বনায়ন গ্রামীণ জনপদে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র-বিমোচনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সেই সাথে সামাজিক বনায়ন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন উপশম ও অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বন বিভাগ ১৯৬০ দশকের শুরুর দিকে বন সমপ্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বপ্রথম বনায়ন কর্মসূচি বনাঞ্চলের বাইরে জনগণের কাছে নিয়ে যায়। অতঃপর ১৯৮১-৮২ সাল হতে উত্তরবঙ্গের সরকারী বনভূমিতে বনায়নের জন্য বৃহত্তর ৭টি জেলায় কমিউনিটি ফরেষ্ট্রী প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণে অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের প্রচলন করে। সরকার ২০০০ সালে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমকে ১৯২৭ সালের বন আইনে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে আইনি কাঠামোতে নিয়ে আসে।

সামাজিক বনায়নকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকার ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা প্রবর্তন করে। যাহা আরো কার্যকর ও সুযোপযোগী করার লক্ষ্যে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংশোধনী আনা হয়। সংশোধিত বিধিমালায় সরকারী বন ভূমিতে বনায়নের জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বন বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় ১৯৮১-১৯৮২ সাল হতে ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯৯,৩১৩.৭৮ হেক্টর এবং ৭৩,২২৩.৩৬ কিলোমিটার বাগান সৃজন করা হয়েছে। এছাড়া বিগত ৪ বছরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড আওতাভূক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী, স্বল্পমেয়াদী ও নন-ম্যানগ্রোভ ২৯৫৫ হেক্টর ব্লক বনায়ন এবং সড়ক, রেলপথ ও বাঁধ সংযোগ সড়কে ২৬৪১ কি.মি. স্ট্রীপ বনায়ন করা হয়েছে। সৃজিত বাগানে প্রায় ৭ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৮ জন উপকারভোগী সম্পৃক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে মহিলা উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫৪২ জন । ২০০২ সাল হতে ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ব্যাপক বনায়নের লক্ষ্যে ১০ কোটি ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার টি চারা বিক্রয় ও বিতরণ করা হয়েছে।

শুরু হতে ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সামাজিক বনায়নের আওতায় ৪৩ হাজার ৯৪৩ হেক্টর এবং ১৮ হাজার ৩৬২ কিলোমিটার বাগান কর্তন করা হয়েছে। উৎপাদিত কাঠ বিক্রয় করে ১২২৭ কোটি ৮২ লক্ষ ১৮ হাজার ৯১০ টাকা পাওয়া গেছে। এযাবৎ ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৮৫৪ জন উপকারভোগীর মাঝে বিতরনকৃত লভ্যাংশের পরিমাণ ৩৮৩ কোটি ২৩ লক্ষ ৫ হাজার ৪৫ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত পুনঃ বনায়নের কাজে বৃক্ষরোপন তহবিলে টিএফএফ (ঞঋঋ) ১১০ কোটি ২০ লক্ষ ১৭ হাজার ৩ শত ৮৫ টাকা জমা রয়েছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সরকারী রাজস্ব আয়ের পরিমান হয়েছে ৪৩৩কোটি ৫৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ২ শত ৩২ টাকা। এছাড়া ভূমি মালিক ও ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্যদের মাঝে ২১৮ কোটি ৪৯ লক্ষ ৭৩ হাজার ২১৪ টাকা বিতরণ করা হয়।

বনায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনাও সর্বদা সবাইকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি সবসময়ই বলেন, আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এ দেশ আমাদের। আজকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে, আমাদের সবুজ বাংলাকে আরও সবুজ করতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে আমরা সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে চাই।আমরা চাই যে একটা ফলজ, একটা বনজ, একটা ভেষজ এ ধরনের গাছ লাগাবেন। পরিবেশ রক্ষায়, নিজের আর্থিক সচ্ছলতা ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী সেটা হলো ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা। সরকার প্রধান বলেন, আপনারা সবাই গাছ লাগাবেন এবং গাছের যত্ন নেবেন। শুধু গাছ লাগালে হবে না, গাছ যাতে টিকে থাকে সে জন্য যত্ন নিতে হবে। এ গাছ ফল দেবে, কাঠ দেবে অথবা ওষুধ দেবে; নানাভাবে উপকৃত হবেন। আসুন আমরা সবাই মিলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করি এবং আমাদের সোনার বাংলাকে আরও সোনার সবুজ বাংলা করি। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। আমরা এগিয়ে যাব। (তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর)

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading