বাঙালি জাতিসত্তাকে অমর করেছেন বঙ্গবন্ধু
দেলওয়ার হোসেন । শনিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:০০
আমাদের জাতিসত্তার ১৫০০ বছর এবং স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হচ্ছে আমাদের এই জাতিসত্তাকে অমর করেছেন একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। যিনি তার সারা জীবনের সংগ্রাম দিয়ে শুধুমাত্র একটি জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠা করেনি, একটি স্বাধীন দেশের জন্মও দিয়েছেন। তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি এবং আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু তার দেশের মাটিতে আরো জোরালোভাবে দিলেন জাতীয়তাবাদের ঘোষণা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অসম মরণ সংগ্রামে। জাতীয়তাবাদ না হলে কোন জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। এই যে জাতীয়তাবাদ, সে সম্পর্কে আমি একটা কথা বলতে চাই। ভাষাই বলুন, শিক্ষাই বলুন, সভ্যতাই বলুন আর কৃষ্টিই বলুন, সকলের সাথে একটা জিনিস রয়েছে, সেটা হলো অনুভূতি। অনেক দেশ আছে একই ভাষা, একই ধর্ম, একই সবকিছু, কিন্তু সেখানে বিভিন্ন জাতি গড়ে উঠেছে, তারা একটি জাতিতে পরিণত হতে পারে নাই। জাতীয়তাবাদ নির্ভর করে অনুভূতির ওপর।
আজ বাঙ্গালি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এই সংগ্রাম হয়েছিল যার ওপর ভিত্তি করে সেই অনুভূতি আছে বলেই আজকে আমি বাঙালি, আমার বাঙালি জাতীয়তাবাদ।’ (গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বরের ভাষণ) ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর আমরা যখন পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হই এবং এরপর তারা আমাদের সর্বপ্রথম আঘাতটি করে আমাদের জাতিসত্তার ওপর । তারা আমাদের আঘাত করেছিল ভাষা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে এবং আমাদের বিকাশমান সংস্কৃতির ওপর। দেশভাগের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যখন কলকাতা ছড়ে ঢাকা চলে আসেন তখন তিনি এই পাকিস্তানের অন্যায় ও অপশাসনের বিপক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত মূলত বঙ্গবন্ধু জাতিসত্তার বিকাশ ও জাতীয়তাবাদের ওপর যে আঘাতগুলো আসে সেগুলোর মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যান। বলা যায় বাঙ্গালির জাতিসত্তার বিকাশের পথে যে বাঁধা আসে সেগুলোর প্রতিবাদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রকাশ।
ইউডি/সুপ্ত

