সেলফিতে বিগড়ে যেতে পারে মুখের গড়ন
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:০৫
উৎসবের উদযাপন হোক বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত, স্মৃতিতে ধরে রাখতে সেলফি তুলতে দেখা যায় অনেককেই। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা, কেউই বাদ যান না এই প্রবণতা থেকে। কিন্তু জানেন কি সেলফিতে আদৌ ফুটে ওঠে না মুখের প্রকৃত গড়ন? বরং অনেকটাই বদলে যায় মুখের চেহারা। অন্তত এমনটাই দাবি আমেরিকার টেক্সাসের একদল গবেষকের।
সেলফিতে কীভাবে মুখের গড়ন বদলে যায় তা জানতে প্লাস্টিক সার্জন বার্ডিয়া আমিরলাকের নেতৃত্বে একদল গবেষক ৩০ জন ব্যক্তির উপর একটি পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন ছিলেন নারী ও সাতজন ছিলেন পুরুষ। প্রত্যেক ব্যক্তির তিনটি করে ছবি তোলেন গবেষকরা। প্রথম দু’টি ছবি তোলা হয় মুখ থেকে ১২ ও ১৮ ইঞ্চি দূর থেকে। সাধারণত হাত ভাঁজ করে ও সোজা করে সেলফি তুললে এই দূরত্বেই থাকে ফোনের ক্যামেরা। তৃতীয় ছবিটি তোলা হয় পাঁচ ফুট দূর থেকে। প্রতিটি ছবি তোলার সময়েই একই স্থানে বসে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
গবেষণার ফল বলছে, সেলফি ও সাধারণ ছবিতে দেখা গেছে বিস্তর ফারাক। ১২ ইঞ্চি দূর থেকে তোলা ছবিতে গড়ে ৬.৪ শতাংশ লম্বা দেখিয়েছে নাক। ১৮ ইঞ্চি দূর থেকে তোলা ছবিতে নাক শতকরা ৪.৩ ভাগ লম্বা দেখিয়েছে। অপরদিকে চিবুকের দৈর্ঘ্য সেলফিতে কমে যায়। ১২ ও ১৮ ইঞ্চি দূর থেকে তোলা সেলফিতে চিবুকের দৈর্ঘ্য কমে যথাক্রমে ১২ ও ১৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে সেলফির প্রবণতা। আর অনেক সময় নিজেকে কেমন দেখতে লাগছে তার উপর দাঁড়িয়ে আত্মপরিচয় নির্মাণের একটি প্রবণতাও দেখা যায় অনেকের মধ্যে। সেক্ষেত্রে সেলফি তোলার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেই মত অধিকাংশের।
বিজ্ঞানীরা বলেন, দিনে যারা তিনটি সেলফি তোলেন এবং প্রত্যেকটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, তারা অ্যাকিউট সেলফাইটিসে আক্রান্ত। আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় যদি কেউ সেলফি তোলেন, আর তা পোস্ট করতে থাকেন, তবে তিনি ক্রনিক সেলফাইটিসে আক্রান্ত। সেক্ষেত্রে এ ধরনের রোগীরা দিনে অন্তত ছয়টি করে সেলফি তোলেন।
আসলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই ক্রমাগত ঠেলে দিচ্ছে সেলফির দিকে। রাস্তাঘাটে, যে-কোনো মুহূর্তে, বন্ধুদের আড্ডা, বিয়েবাড়িসহ বিভিন্ন উপলক্ষে সেলফি তোলাটা এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়। একধরনের অবসেসিভ ডিজঅর্ডারের কারণেই এ সেলফি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তা এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে, বিপজ্জনক সেলফি তোলা থেকেও বিরত থাকছে না তারা।
ইউডি/অনিক

