রূপকল্প ২০৪১: এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

রূপকল্প ২০৪১: এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:৩৫

মহামারি করোনার প্রকোপে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটকে আরও বেগবান করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই সংকট মোকাবেলায় দেশের সবাইকে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও দেশে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকার আক্ষেপ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। বিস্তারিত লিখেছেন সাইফুল অনিক

সংকট মোকাবেলায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার জন্য যতটুকু সম্ভব খাদ্য উৎপাদনে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (১১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী রাখা উচিত নয়: শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড -১৯ মহামারীর দুটি তরঙ্গের পরে, এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব আরেকটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। তাই, আমাদের নিজেদের ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে এবং সেজন্য এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী রাখা উচিত নয় বরং আমরা যে যা করতে পারি তা উৎপাদন করতে হবে। সরকার প্রধান বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত তার জমি থেকে কিছু না কিছু উৎপাদন করা যা শুধু তাদের চাহিদাই মেটাবে না, দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হতেও সাহায্য করবে।শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব সংকটের কারণে দেশ যাতে কোনো সংকটের সম্মুখীন না হয় সেজন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

আত্মকর্মসংস্থানে সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা নিরাপদ করতে আমাদের এখনই এর বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের পরে অনেক সমস্যা হবে, তা এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং আমাদের (বিদেশী) রিজার্ভের উপর চাপ কমাতে হবে এবং আমাদেরকে অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে। তিনি দেশের যুবসমাজকে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেন যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থানে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে। তিনি বলেন, তাদের সৃজনশীলতা এবং প্রতিভাকে ব্যবহার করে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

রূপকল্প ২০৪১ বাংলাদেশকে এগিয়ে দেবে: আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় তিনি তার দেয়া প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এর উল্লেখ করে বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি এখন উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হবে। সময়ের সঙ্গে এই রূপরেখা যুগোপযোগীকরণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ আগামীতে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধ করে সময়মতো: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাচ্ছে, এ রকম একটা কথা রটাচ্ছে। আমরা উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা নিচ্ছি এটা ঠিক। কিন্তু সবসময় আমাদের একটা হিসেব থাকে। আমরা কিন্তু ডিফল্টার না। আমরা যেখান থেকে যত ঋণ নিয়েছি প্রত্যেকটা ঋণ আমরা কিন্তু সময় মতো পরিশোধ করেছি। আমরা কিন্তু যত রকম দুর্দশা হোক, এমনকি করোনার মাঝেও আমরা কিন্তু ঋণ খেলাপি হইনি।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১২ এপ্রিল ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল নেই: দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকার বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, অপজিশন বলতে দুটো পার্টি আছে। দুটোই একেবারে সংবিধান লঙ্ঘন করে, আর্মি রুলস ভঙ্গ করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি মিলিটারি ডিকটেটরদের হাতে গড়া। জনগণের কাছে তাদের অবস্থান নেই। তিনি বলেন, কাজেই তাদের ঠিক মাটি ও মানুষের সাথে যে সম্পর্ক থাকে, সেই সম্পর্কটা তাদের মাঝে নেই। তাদের কাছে ক্ষমতাটা ছিল একটা ভোগের জায়গা। সেই ক্ষেত্রে আসলে অপজিশন তাহলে কোথায়? এখানে একটা পলিটিক্যাল সমস্যা কিন্তু আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলতে গেলে অনেক দল দরকার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, উন্নত বিশ্বে দেখলে আপনারা দেখবেন সেখানে কিন্তু মাত্র দুই দল হয়ে গেছে এখন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুই দলের বেশি শক্তিশালী দল নাই।

মানুষের কল্যাণমুখী রাজনীতি টিকে থাকে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাটা যদি মানুষকে ঘিরে হয়, মানুষের কল্যাণমুখী হয়, সেই রাজনীতি কিন্তু টিকে থাকে, সেটাই চলে।শেখ হাসিনা বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ একটা দল, যে দলটা সেই ১৯৪৯ সালে তৈরি। বিরোধী দল থেকে একেবারে সাধারণ মানুষকে নিয়ে এই দলটা গড়ে তোলা।

জনগণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত আওয়ামী লীগ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করতে অনেক সাহায্য করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা দেশের মাটি ও জনগণ থেকে উঠে এসেছে। এ কারণে দলটির সমস্ত চিন্তাভাবনা সর্বদা দেশ এবং এর জনগণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য যেমন বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করেছে তেমনি কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করতে এবং দূর করতে নিয়মিত বৈঠক করছি। একাংশের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, তিনি পত্রপত্রিকার লেখালেখি পড়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন না, এটাই বাস্তবতা। কারণ তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তিনি বলেন, আবার নির্বাচনে আমি তো জানি আমেরিকার প্রায় ২৫ শতাংশ সংগঠন ইলেকশনই করে না। ইলেকশন করার বিষয়ে একটা অনীহা চলে আসে মানুষের। এটাও কিন্তু অনেক দেশে দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশটা ধীরে ধীরে ওরকম হয়ে যাচ্ছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত আমলের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘পেছনে থেকে তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে একবার ক্ষমতায় আনতে পারে, যেটা ২০০১ সালে এনেছিল। কিন্তু তার পরিণতি কি ছিল? বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, বাংলা ভাই সৃষ্টি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, ৫শ’ জায়গায় একদিনে বোমা হামলা, অপজিশনে থাকা আমাদের ওপর গ্রেনেড হামলা, অপজিশনের অনেক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা।’ তিনি বলেন, এ রকম সন্ত্রাসী কর্মকা- সেই সময় সারা দেশজুড়ে ঘটেছিল যার জন্য ইমার্জেন্সি এলো, এটা হলো বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিগত তিন বছরের কাজের ওপর একটি বিবরণ উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমম্বয়ক জুয়েনা আজিজ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading