গণপরিবহন হিসেবে রেলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হোক

গণপরিবহন হিসেবে রেলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হোক

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৩ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:২৫

রেলের ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। আসলে যে কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য রেলের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশ বান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেল একটি জনপ্রিয় পরিবহন। আমাদের সীমিত সম্পদ, জনসংখার আধিক্য, নিম্ন আয় ও কৃষিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্ব ব্যাপক। যাতায়ত সুবিধা নিশ্চিতে, বেকার জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানে, পণ্য পরিবহনে, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের ব্যাপক প্রসারে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে রেলকে আধুনিক ও জনপ্রিয় করে তোলার বিকল্প নেই।

উপমহাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদীপথের গুরুত্ব থাকলেও রেলপথের আবির্ভাব নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, ঘটিয়েছে অভাবিত উন্নয়ন। রেল ব্যবস্থাকে উপমহাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয় আধুনিকতার পথে প্রথম পদক্ষেপ। শিল্পায়ন, নগরায়ন, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও আর্থ-সামাজিক বিনির্মাণে রেলওয়ে পালন করেছে অভূতপূর্ব ভূমিকা। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার দর্শনা জগতী সেকশনে ৫৩ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের এ অঞ্চলে রেলের গোড়াপত্তন হয়। শুরু থেকেই রেল এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পালন করে আসছে যুগান্তকারী ভূমিকা।

ঔপনিবেশিক শাসনামলে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলপথ ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। এরই মাঝে ঘটেছে শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বেড়েছে জনসংখ্যা। তার সাথে সঙ্গতি রেখে বেড়েছে জনগণের চাহিদা, সড়ক পথের ঘটেছে অভূতপূর্ব বিস্তার। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমাদের শহর জীবন হয়েছে জনাকীর্ণ, অতি যান্ত্রিকতায় পূর্ণ এবং এখানে জনসংখ্যা বেড়েছে অতিমাত্রায়। ফলে সড়ক পথের উপর পড়ছে অতিরিক্ত চাপ, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্যও কম নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশে দেশে সড়ক পথের অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু রেলওয়ের মাধ্যমে একসাথে বেশি পরিমাণ মালামাল পরিবহনের সুবিধা, যানজট সমস্যা না থাকায়, ভূমির পরিমিত ব্যবহার, জ্বালানি খরচ সাশ্রয়, নিরাপদ যাতায়াত এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিবেশ দূষণ করার কারণে পৃথিবীজুড়ে সকল দেশেই রেলকে আবার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়া শুরু হয়েছে। অথচ, আমাদের দেশে এই খাতটি এখন পর্যন্ত চরম অবহেলার মধ্যে রয়েছে।

১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের শেষে এ দেশে কেবলমাত্র ৬০০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ছিল, তা বেড়ে এখন প্রায় ৪৯,৫০০ কিলোমিটার হয়েছে, যার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ৩৬,৫০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ১৯৪৭ সালের ২,৮০০ কিলোমিটার থেকে ২,৭০০ কিলোমিটারে নেমে গিয়েছিল। সম্প্রতি পার্বতীপুর হতে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পর্যন্ত এবং যমুনা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের আওতায় জামতৈল হতে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের ফলে রেলপথের দৈর্ঘ্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ২,৮৪৮ কিলোমিটার হয়েছে। এর ব্যাপ্তি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। যে সব জেলা অথবা থানা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নেই, সেসব জেলা ও থানাগুলোকেও রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সড়কপথে যাতায়াতের চেয়ে রেলপথে যাতায়াত অনেক বেশি আরামদায়ক। রেলে যাত্রীরা অনেক আরামে বসে যেতে পারে এবং এর কামরাগুলোতে যে সিট রয়েছে সেখানে দু সারির মধ্যে অনেক জায়গা থাকায় যারা দাঁড়িয়ে যায় তারাও স্বাচ্ছন্দে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। সিটে বসে প্রয়োজনে ঘুমাতে বা পড়ালেখা করতে পারে।

ট্রেন লাইনে সাধারণত কোনো যানজট থাকে না। সুতরাং নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো যায়। আমাদের দেশে সড়ক পথে অধিকাংশ সময় যানজট লেগে থাকে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ট্রেন একটি আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা। এর লাইনগুলো সাধারণত মসৃণ। যে কারণে যাতায়াতে ঝাঁকি কম লাগে। একটি স্টেশনে এসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় অপেক্ষা করে যাত্রী এবং মালামাল উঠানামা করার জন্য। যে কারণে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু, মহিলাসহ সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে। অন্যদিকে বাসগুলো স্টপেজে স্থিরভাবে দাঁড়ায় না। সে কারণে গাড়িতে উঠা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রেন যোগাযোগে দুর্ঘটনা, মৃত্যু এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading