রাজধানীতে পানির সংকট সমস্যা নিরসনে কালক্ষেপণ নয়

রাজধানীতে পানির সংকট সমস্যা নিরসনে কালক্ষেপণ নয়

শামিম আনসারি । সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১২:৪০

প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে রাজধানীতে পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এবার গ্রীষ্মের আগেই রাজধানীতে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহের কারণে রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা বাড়লেও ঢাকা ওয়াসার উৎপাদন কমেছে। এ অবস্থায় চাহিদার আলোকে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না ঢাকা ওয়াসা। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে অতিমাত্রায় দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। এবার রাজধানীবাসীর রোজা শুরু হয়েছে অতিরিক্ত দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।

পানির দেশ বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির সংকট ঘোরতর হয়ে উঠছে। দূষিত পানি পান করে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। রাজধানীর হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর ভিড়। রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ১০ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা থাকে ২৪৫ থেকে ২৫০ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহের সক্ষমতা ২৭৫ কোটি লিটার। পাঁচটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পানি পরিশোধন ও গভীর নলকূপের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে রাজধানীবাসীর চাহিদা পূরণ করে ওয়াসা। এ পানির ৬৬ শতাংশই ভূগর্ভস্থ এবং ৩৪ শতাংশ নদীর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার-উপযোগী করা হয়। শুষ্ক মৌসুম আসতেই রাজধানীর কিছু জায়গায় পানির সংকট শুরু হয়। ওয়াসার পাম্প নষ্ট হলে সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।ওয়াসা আর দুর্নীতি-অনিয়ম সমার্থক হয়ে ওঠায় বিশুদ্ধ পানি পানের অধিকার হারাচ্ছে নগরবাসী। ওয়াসার পানি না ফুটিয়ে পান করে ডায়রিয়া, কলেরাসহ নানা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। বিশুদ্ধ পানি পান মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার পূরণে সরকার যত্নবান হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।

রোজার প্রথম দিন থেকেই তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সড়কের ভয়াবহ যানজট, গ্রীষ্মের দাবদাহ, অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি, গ্যাস সংকট, পানি সংকট-এমন বহু সংকটে এখন মানুষ হাঁসফাঁস করছে। এ অবস্থার অবসান জরুরি। চৈত্রের দাবদাহের মধ্যে রোজা রেখে মানহীন পানি নিয়ে রাজধানীবাসীকে এমন বিপাকে পড়তে হবে কেন? ওয়াসার পানির পাইপলাইনে স্যুয়ারেজ বর্জ্য ঢুকে পড়ায় মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজধানীর ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ ওয়াসার মানহীন পানি। গ্রীষ্ম মৌসুমে রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা বাড়বে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল, রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা। অনেকেই এখন জীবনযাপন স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ওয়াসার গাড়িতে সরবরাহকৃত পানি ক্রয় করছেন। পানির গাড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ চাহিদামাফিক সেটাও সরবরাহ করতে পারছে না। জানা গেছে, মোহাম্মদপুর-লালমাটিয়া, উত্তরা, নতুনবাজার-ভাটারা-বাড্ডা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি সংকটের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

উৎপাদনে সংকট সৃষ্টির কারণে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মানহীন পানির সরবরাহ কতদিন অব্যাহত রাখবে, এটাই মূল প্রশ্ন। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, পানি ফুটিয়ে খেতে হবে। তাহলে এত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, এত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচের প্রয়োজন কী, এ প্রশ্ন নগরবাসীর। নগরবাসীকে নিরাপদ পানি দেওয়ার অঙ্গীকার করে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে; অথচ ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি নিয়ে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত ওয়াসার কর্মচারীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি নিয়ে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরবরাহকৃত পানির গুণগত মান কবে বাড়বে এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায় না। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। কোনো কোনো এলাকার পানি এতটাই ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত তা ফুটিয়েও পান করা যায় না। বস্তুত ওয়াসার কর্মীদের অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান যে বাড়বে না, তা বলাই বাহুল্য।

লেখক- সিনিয়র সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading