বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তায় তারুণ্য ও যুবশক্তির ভাবনা

বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তায় তারুণ্য ও যুবশক্তির ভাবনা

বেলাল আহমেদ । মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:১০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তরুণ প্রজন্মের কাছে এক আদর্শের নাম এবং যুবশক্তির অন্তহীন প্রেরণার উৎস। তারুণ্যদীপ্ত যুবসমাজ একটি জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার, যাদের মেধা, প্রজ্ঞা, সৃজনশীলতা, সাহস ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণ ছিল তারুণ্য-নির্ভর, যিনি তরুণ ও যুবসমাজকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণদের সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন।

তারুণ্যের প্রতি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস ছিল অবিচল। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামেই ছাত্র-তরুণ-যুবকদের সম্পৃক্ত করেছেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ, ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সালের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন, ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িকতা, ছেষট্টিতে ছয় দফা, ঊনসত্তরে গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা- সবই বঙ্গবন্ধু তরুণ ও যুবক থাকা অবস্থায়ই করেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তরুণ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত শাসনতন্ত্র বা সংবিধান রেখে গেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সুস্পষ্টবোধ তরুণ-যুবকদের চিত্তে জাগ্রত করে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সদ্যস্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ শিক্ষা, কারগরিসহ সব ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিকরূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা এবং মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে সুসমন্বিত কল্যাণধর্মী ব্যক্তিজীবন ও প্রগতিশীল জীবনসৃষ্টির সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন করা হয়েছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অস্থির যুবসমাজকে সৃজনশীল ও মননশীল চর্চায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষার সম্প্রসারণ, অসাম্প্রদায়িক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ দেশে যুবরাজনীতির নবদিগন্তের সূচনা হয়। বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে যুবসমাজকে আত্মনিয়োগ করিয়ে এ দেশের যুবসমাজের আইকনে পরিণত হন এবং তিনি হয়ে ওঠেন যুবরাজনীতির অনুপ্রেরণার উৎস।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading