বিশ্ব মঞ্চে সমৃদ্ধি উন্নয়নের আরেক নাম বাংলাদেশ
আরুফুজ্জামান কায়সার । মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:০০
স্বাধীনতার ৫১ বছরে শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে পা দিয়েছে। এটা বাঙালি জাতির গর্ভ ও আনন্দের বিষয়। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি এক কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে ৫১ বছরে পা দিয়েছে। এ দীর্ঘ সময় একটি জাতির ইতিহাসে একেবারে কম সময় নয়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, সংঘাত, গণতান্ত্রিক দ্বৈন-দশার মধ্যে দিয়েও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে নেই।
বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসা অর্জন করেছে। মানুষের জীবন যাত্রা উন্নতির পথে। গড় আয়ু বেড়েছে, কমেছে শিশু মৃত্যুর হার। মানুষের আয় বেড়েছে। এক সময় উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় মঙ্গা নামক শব্দটি জনগণ ভাগ্যের লিখন বলে মনে করলেও সে উত্তর জনপদে মঙ্গার অস্তিত্ব আর নেই। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও সুষ্ঠু কর্ম পরিকল্পনায় দেশ এখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে। কৃষি, শিল্প, শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করলেও নারী নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
প্রতি বছর শিক্ষার হার বাড়ছে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি হলেও দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। কৃষিতে বিপস্নব ঘটেছে। অধিক খাদ্য উৎপাদনের ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। কৃষি উপকরণের সহজলভ্য ও প্রাপ্ততায় কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও অধিকাংশ সময় কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হলে তাদের মধ্যে বলতে দ্বিধা নেই এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। কৃষকরা রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে ক্ষেত-খামারে দিন রাত পরিশ্রম করে ফসল ফলায় তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন না বিষয়টি দুঃখজনক।
এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, এ দেশের মানুষ খুবই কষ্ট সহিষ্ণু তারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রানান্তর চেষ্টায় তারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। দেশ-বিদেশি নানা কাজে নিয়োজিত থেকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরার ভূমিকায় পালন করছে বিদেশে কর্মরত প্রায় ৮০ লাখ কর্মজীবী নারী-পুরুষ। তাদের প্রেরিত অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ভারী করছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে এর চাহিদাও বাড়ছে। এই শিল্প প্রায় ১.৫ বিলিয়নের লোকের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে অর্জন করছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা- যা আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পোশাক শিল্পের তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানির অর্থ জাতীয় অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্যে অংশে পরিণত হয়েছে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্সের পর বৈশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্প। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দেশের অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কিরূপ অবদান রাখছে। এক কথায় বলতে গেলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্প। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এ শিল্পকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
কৃষি শিল্প, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন ঘটছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে দেশের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় প্রকল্পগুলোর কোনোটির বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনোটি বাস্তবায়নের পথে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে। আমাদের বহু প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে এখন বাস্তবায়নের পথে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড়াবে এবং জাতি হিসেবে এটা আমাদের গর্ব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে হবে গ্রামীণ অর্থনীতির। প্রান্তিক চাষি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন সার্বজনীন হবে না। যারা খাদ্যের জোগানদাতা তাদের সমস্যা অনুধাবন করতে হবে। কৃষক চায় তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য। তাই শুধু কৃষি উপকরণের সহজ লভ্যতায় নয় ধান, চাল, আলুসহ কৃষি পণ্যের উপযুক্ত মূল্য কৃষক যেন পায় তাদের যেন লোকসান গুণতে না হয় সেদিকে সরকারকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। সরকারকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রান্তিক কৃষক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তথা কৃষক সমাজের মুখে হাসি ফুটাতে না পারলে সরকারের উন্নয়ন ঢাকা পড়ে যাবে।
তাই সরকারকে অবশ্যই সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। দেশের উন্নয়নে সামাজিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি সামাজিক ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সর্বোপরি স্বাধীনতায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়।
ইউডি/অনিক

