ঈদে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় পর্যটনখাত

ঈদে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় পর্যটনখাত

বায়েজিদ মোস্তফা । রবিবার, ১ মে ২০২২ । আপডেট ২০:০৩

মহামারির মধ্যে দুই বছরের মন্দার পর ঈদের ছুটিতে পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন ঈদে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এতে চলমান মন্দা কাটানোর আশা করছেন তারা। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) নেতারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ২০২০ এবং ২০২১ সালে কোভিডের কারণে এই ধরনের ভ্রমণের উলেস্নখযোগ্যভাবে ধাক্কা লাগে। এরই মধ্যে ছুটির মধ্যে পর্যটকদের ব্যাপক চাহিদার কারণে বিমানের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঈদ হচ্ছে পরিবার-পরিজন নিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময়। ঈদের ছুটিতে গ্রাম হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল আর শহর থাকে জনশূন্য। বন্ধুবান্ধব একসঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য শহরের কৃত্রিম ব্যস্ততা ঘেরা পরিবেশ ছেড়ে নাড়ির টানে ছুটে চলে বাড়ি। বিশেষ করে ঈদের সময় মানুষ ভ্রমণ ও বিনোদনের জন্য আলাদা বাজেট রাখে। অনেকে দেশের অভ্যন্তরে ঘোরাঘুরি করে, আবার অনেকে দেশের বাইরে যেতে পছন্দ করে।

ঈদের ছুটিতে মানুষ প্রিয়জনদের দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণ করে এবং বিনোদনের জন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমায়। ঈদের ছুটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। অভ্যন্তরীণ পর্যটন স¤প্রসারণের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমৃদ্ধ হবে। পর্যটকেরা যেন নিরাপদে তাদের অবকাশ যাপন করতে পারে, সে জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পাহাড় ঘেরা বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণগুলোতে প্রকৃতি প্রেমীদের ঢল নামে। করোনার প্রভাব কমে আসায় ঈদকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের পর্যটন আকর্ষণ উল্লেখ্য, মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি, চিম্বুক, সাজেক, আলুটিলা গুহা, কাপ্তাইলেক, ঝুলন্তসেতু, শৈল প্রপাতসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠবে। প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করা ও সান্নিধ্য পেতে আমাদের কার না ভালো লাগে। আর যদি এটি হয় সমুদ্র তাহলে তো আর কথাই নেই। সমুদ্র সৈকতে সার্ফিং, সূর্যস্নান, সৈকতে হাঁটাহাঁটি, ঘড়ি ওড়ানো, প্যারাসেলিং, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা পর্যটকদের কাছে অনন্য মাত্রা যুক্ত করে। বিশ্বায়নের যুগে কর্মব্যস্ত জীবনে বিনোদনের বিকল্প নেই, তাই ঈদ আরও আনন্দময় করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সুযোগ বেড়েছে। ট্যুর অপারেটররা দেশ ও বিদেশ ভ্রমণের আকর্ষণীয় প্যাকেজ অফার করে তার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও তরুণ পর্যটকদের কাছে প্রথম পছন্দ বাংলাদেশের কক্সবাজার, কুয়াকাটা, বান্দরবান, রাঙামাটি, সিলেট, খাগড়াছড়ি ও কুমিল্লা ছাড়াও ভারত (কলকাতা, শিমলা, মানালি), নেপাল, ভুটান। উচ্চবিত্তদের পছন্দ থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, মিসর, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশ।

বিনোদন পিপাসু মানুষ বাজেট প্যাকেজের সুযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে থাকে। যারা পরিবার-পরিজন নিয়ে এক দিনের ভ্রমণে যেতে আগ্রহী, তাদের কাছে ঢাকার নিকটবর্তী পর্যটনকেন্দ্র পদ্মা রিসোর্ট, গাজীপুরের ঢাকা রিসোর্ট, এলেঙ্গা রিসোর্ট, ড্রিমল্যান্ড রিসোর্ট, ভাওয়াল রিসোর্ট ও নড়াইলের অরুণিমা রিসোর্ট ও গলফ ক্লাবের পর্যটক চাহিদা বেশি। দেশের অভ্যন্তরে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সেন্ট-মার্টিন, সুন্দরবন, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, রাতারগুল, বিছানাকান্দি ও সিলেটের চা-বাগান পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। সুতরাং উল্লেখ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর যাতায়াত ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন।

ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য আবাসন কক্ষগুলোর মূল্য, খাবারের দাম, পর্যটন পণ্যের মূল্য যেন অহেতুক বৃদ্ধি না পায় সেই লক্ষ্যে পর্যটন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার একটি তদারকি কমিটি থাকা প্রয়োজন।
এই দিকে ঈদকে কেন্দ্র করে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজ ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য আবাসন কক্ষগুলোর মূল্য, খাবারের দাম, পর্যটন পণ্যের মূল্য যেন অহেতুক বৃদ্ধি না পায় সেই লক্ষ্যে পর্যটন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার একটি তদারকি কমিটি থাকা প্রয়োজন। ছুটিতে মানুষ যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজ জেলায় ঘুরতে যায় তখন জেলা ভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিনোদন প্রেমীদের ভিড় বাড়ে। তাই জেলা ভিত্তিক পর্যটন স্থাপনাগুলো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা খুবই প্রয়োজন।

লেখক- সাংবাদিক।

ইউডি/সিফাত

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading