রবীন্দ্রনাথ মূলত আমাদের পূর্ববঙ্গের: কে এম খালিদ

রবীন্দ্রনাথ মূলত আমাদের পূর্ববঙ্গের: কে এম খালিদ
state_দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:০৮

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ মূলত আমাদের পূর্ববঙ্গের। কারণ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশে অবস্থান তাঁকে পরিপূর্ণ রবীন্দ্রনাথ করেছে, মাটি ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় আত্মীয়তার বন্ধনে বেঁধেছে। এদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে কবির স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা। জমিদারি পরিচালনা করতে এসে এসব জায়গায় থেকেছেন কবি, রচনা করেছেন মহামূল্য সাহিত্যকর্ম।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিকালে রাজধানীর দক্ষিণ পূর্বাচলে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি) এর স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘উৎসারিত আলো’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কবির স্মৃতিবিজড়িত অন্যতম স্থান শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইল সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এই এলাকার জমিদারির মালিকানা পান। জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম তিনি শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালে। কৈশোর এবং যৌবনে প্রায়ই তিনি জমিদারি দেখভাল করতে শিলাইদহ আসতেন, থাকতেন এ কুঠিবাড়িতেই। ১৮৯১ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে অল্প বিরতিতে কবি নিয়মিত কুঠিবাড়িতে অবস্থান করেছেন। এ বাড়িতে বসেই কবি রচনা করেছেন তাঁর অমর সৃষ্টি সোনারতরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবদ্য ও খেয়া কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতাসহ অনেক উল্লেখযোগ্য রচনা। কবিগুরু যে কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পেয়েছিলেন, সেই ‘গীতাঞ্জলী’র ইংরেজি অনুবাদও শুরু করেন এখানেই।

জন্মবার্ষিকীতে কবিগুরুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এসইউবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট ডা: এ এম শামীম তার সভাপতির ভাষণে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পের প্রতিটি শাখায় তার অনায়াস বিচরণ সত্যিই বিস্ময়কর। কবির সমস্ত সৃষ্টির মূলে নিহিত মানবতাবাদ তাঁকে বিশিষ্টতা দান করেছে। শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের সাধক। রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবোধ বাঙালির অনন্ত প্রেরণার উৎস।

এসইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল কবীর তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছর রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী নতুনের বার্তা নিয়ে আসে, যা কালের আবর্তে কখনো মলিন হয় না। প্রাণে নিয়ে আসে উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও উচ্ছলতা। বাঙালির আবেগ-অনুভূতি, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা প্রভৃতি খুঁজে পাওয়া যায় রবীন্দ্র লেখনীতে। বিশ্বায়নের এই যুগে যে সংকট, অশান্তি যুদ্ধাবস্থা, সমাজের সব অনাচার-অবিচার দূরীকরণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমাদের কবির কাছ থেকে অনেক কিছু জানার ও শেখার রয়েছে। এ সময় ড. আনোয়ারুল কবীর কবির লেখনী থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী শামা রহমান, অণিমা রায় প্রমুখ। আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফা। এছাড়া স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি) এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা, গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।

ইউডি/সুস্মিত

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading