রতন টাটা: বিশ্ব জয় করা ইন্ডিয়ান সফলতম ব্যবসায়ী
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:০০
রতন টাটার জীবনী অনেকটাই সিনেমার গল্পের মত। বাবা ছেড়ে যাওয়ার পর অসহায় মা ও ছেলেকে ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন দাদী। সেই ছেলে বড় হয়ে খুব ছোট একটা চাকরি নিয়ে ঢোকেন পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে, তারপর এক সময়ে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে বসেন নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে। ইন্ডিয়ান শিল্পপতি রতন টাটার সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন মো. সাইফুল ইসলাম।
রতন টাটা সারাজীবন ধরে প্রমান করেন দৃঢ় সংকল্প, জেদ আর মানুষের কল্যাণকামী মানসিকতা থাকলে বিশ্ব জয় করা সম্ভব। ছোট একটি লোকাল কোম্পানীকে বিরাট এক আন্তর্জাতিক কোম্পানীতে পরিনত করেন। ২১ বছরের মিশনে পৃথিবীর ৬টি মহাদেশের ১০০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা।
রতন টাটা কে?
রতন টাটা হলেন ইন্ডিয়ান শিল্পপতি, সমাজসেবী এবং টাটা সন্সের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন, ১৯৯০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত। এবং আবার অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসাবে, অক্টোবর ২০১৬ থেকে ফেব্রুয়ারী ২০১৭ পর্যন্ত। এবং এর দাতব্য ট্রাস্টের প্রধান হিসাবে অবিরত ছিলেন। রতন টাটা ইন্ডিয়ার দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ (২০০৮) এবং পদ্মভূষণ (২০০০) এর প্রাপক। ছোট একটি লোকাল কোম্পানীকে বিরাট এক আন্তর্জাতিক কোম্পানীতে পরিনত করেন। ২১ বছরের মিশনে পৃথিবীর ৬টি মহাদেশের ১০০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা।
রতন টাটার জন্ম-শৈশব
ইন্ডিয়ার অন্যতম সফল শিল্পপতি স্যার রতন টাটা ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামশেদজি টাটার দত্তক পৌত্র এবং নেভাল টাটার পুত্র। তার মায়ের নাম সুনি টাটা। রতন টাটার বাবা মা যখন পৃথক হয়ে যান যখন তার দশ বছর বয়স ছিল। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর তার মা এতটাই অসহায় হয়ে পড়েন যে, রতন টাটার আশ্রয় হয় ‘জে.এন, প্রিতিত পার্সি’ নামের এক অনাথ আশ্রমে। হিউম্যানস অফ বোম্বে, নামক একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজের সঙ্গে কথোপকথনে রতন টাটা জানিয়েছেন, তার শৈশব অনেক আনন্দের সঙ্গে কেটেছে। যদিও মা বাবার ডিভোর্স নিয়ে তাকে ও তার দাদাকে অনেক টিটকারির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। দাদির সঙ্গে বেড়ে ওঠার ফলে তার দাদি তাকে জীবনের মূল্যবোধ শিখিয়েছিলেন।
রতন টাটার শিক্ষাজীবন
রতন টাটা ছোট বেলা থেকেই বেশ মেধাবী ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন স্কুলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর রতন টাটা মুম্বাই এর ক্যাথেড্রাল এ্যান্ড জন ক্যানন স্কুল এবং সিমলার বিশপ কটন স্কুলে পড়াশুনা করেন। ১৯৫৫ সালে নিউ ইয়র্কের রিভারডেল কান্ট্রি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন, এবং ১৯৫৯ সালে নিউ ইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে আর্কিটেকচার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া, ১৯৭৫ সালে রতন টাটা হার্ভাড ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল থেকে এ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে একটি কোর্স করেন।
রতন টাটার ক্যারিয়ার
বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী রতন টাটার শুরুটা হয়েছিল ছোটখাট চাকরি দিয়ে। পড়াশুনা শেষ করে রতন টাটা আমেরিকার জোনস এ্যান্ড ইমনস নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে কিছুদিন কাজ করেন। তারপর ১৯৬১ সালে তিনি টাটা গ্রুপে টাটা স্টিলের কর্মচারী হিসেবে রতন টাটার ক্যারিয়ার শুরু করেন। যেখানে তার প্রথম দায়িত্ব ছিল বিস্ফোরণ চুল্লি এবং চাউলের পাথর পরিচালনা করা। ১৯৯১ সালে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হয়ে তিনি টাটা গ্রুপের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনেছিলেন।
রতন টাটার টাটা গ্রুপে যোগদান
১৯৯১ সালে জে আর ডি টাটা রতন টাটার মেধা পরিশ্রম ও মানসিকতার মূল্য দিতেই টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯১ সালেই রতন টাটা চেয়ারম্যান হয়ে টাটা গ্রুপের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করেন।
২৬/১১ হামলায় মানুষের পাশে রতন টাটা
২০০৮ সালে মুম্বাই তাজ হোটেলে জঙ্গি হামলা হলে অনেক পরিবার স্বজন হারিয়ে, আহত হয়ে, কর্মচ্যুত বিপন্ন হয়ে পড়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে রতন টাটা তখন সেই সব কর্মীদের পাশে থেকেছেন, আর্তের সহায় হয়েছেন। এমনকি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজে উপিস্থিত থেকে সাহায্য করেছিলেন।
রতন টাটার পুরস্কার সমুহ
রতন টাটা ২০০০ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন ইন্ডিয়ার বিখ্যাত এই শিল্পপতি।
সমাজ সেবায় রতন টাটা
রতন টাটা শুধু শিল্পপতিই নন, তিনি একজন সমাজসেবী, মানব দরদি ও দূরদর্শী মানুষ। মানুষের পাশে থেকে মানব সমাজের কল্যাণের জন্য ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠা করে এ যেন এক নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছেন, যা আগামী দিনে নতুন প্রজন্মকে পথ দেখতে পারবে। রতন টাটা সারাজীবন ধরে প্রমান করেন দৃঢ় সংকল্প, জেদ আর মানুষের কল্যাণকামী মানসিকতা থাকলে বিশ্ব জয় করা সম্ভব।
ইউডি/অনিক

