বঙ্গবন্ধু ভালোবাসতেন খেলাধুলাও
আমিন হোসেন । মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ । আপডেট ১০:২৫
১৯৪০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের বয়স ২০। এরই মধ্যে তিনি কলকাতা গেছেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করেছেন, গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেছেন। তিনি গোপালগঞ্জ ছাত্রলীগের সম্পাদক। মুসলিম লীগ ডিফেন্স কমিটির হলেন সেক্রেটারি। এই অবস্থায় তার ঝোঁক রাজনীতির দিকে, আর ঝোঁক খেলাধুলার দিকে।
বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আমরা পাচ্ছি, ১৯৪০ সালে তিনি ফুটবল খেলছেন। টানটান উত্তেজনাময় এক ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে। শেখ মুজিব মিশন স্কুল ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন। তার আব্বা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি। তার আব্বার দলে টাকার অভাব ছিল না, তারা হায়ার করে খেলোয়াড় আনতেন। বেচারা স্কুলছাত্ররা, তাদের টিমে তো আর বাইরের খেলোয়াড় আসবে না, টাকা কই! তবু পাঁচ দিন খেলা ড্র হলো। স্কুলের টিম ক্লান্ত। আর অফিসার্স টিমে নতুন খেলোয়াড়। তারা তরতাজা। শেখ মুজিব কয়েক দিন বিশ্রাম চান, অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে সেই বিবরণ পাচ্ছি: আব্বা বললেন, “কাল সকালেই খেলতে হবে। বাইরের খেলোয়াড়দের আর রাখা যাবে না, অনেক খরচ।” আমি বললাম, “আগামীকাল সকালে আমরা খেলতে পারব না, আমাদের পরীক্ষা।”
গোপালগঞ্জ ফুটবল ক্লাবের সেক্রেটারি আব্বার কাছে আর আমার কাছে কয়েকবার হাঁটাহাঁটি করে বললেন, “তোমাদের বাপ-বেটার ব্যাপার, আমি বাবা আর হাঁটতে পারি না।” আমাদের হেডমাস্টার তখন রসরঞ্জন সেনগুপ্ত। আমাকে তিনি প্রাইভেটও পড়াতেন। আব্বা হেডমাস্টারকে খবর দিয়ে আনলেন। আমি আমার দলবল নিয়ে এক গোলপোস্টে আর আব্বা তার দলবল নিয়ে অন্য গোলপোস্টে। হেডমাস্টার বললেন, “মুজিব, তোমার বাবার কাছে হার মানো। আগামীকাল সকালে খেলো, তাদের অসুবিধা হবে।” আমি বললাম, “স্যার, আমাদের সবাই ক্লান্ত, এগারোজনই সারা বছর খেলেছি। সবার পায়ে ব্যথা, দু-চার দিন বিশ্রাম দরকার। নতুবা হেরে যাব।” এ বছর তো একটা খেলায়ও আমরা হারিনি, আর এ জেড খান শিল্ডের এই শেষ ফাইনাল খেলা।
কী মধুর এই বর্ণনা! বঙ্গবন্ধু কিন্তু খেলাপ্রিয় মানুষ ছিলেন। শেখ রেহানার কাছ থেকে জেনেছি, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর খবর যখন শেখ মুজিবের কাছে আসে, তখন তিনি হাফপ্যান্ট পরা, কেডস পরা, হাতে ব্যাডমিন্টনের র্যাকেট, এই সময় ফোন আসে। খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু কেঁদে উঠেছিলেন, ‘বস আর নাই’। এই সব বিবরণ থেকে আমরা এই পরিবারটির ক্রীড়াপ্রীতি সম্পর্কে জানতে পারি।
ইউডি/সুস্মিত

