প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় শিশু-কিশোর

প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় শিশু-কিশোর

ড. এম মেসবাহউদ্দিন সরকার । মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ । আপডেট ১০:১৫

কলাবাগান এলাকার শিশু-কিশোরদের এবারের ঈদ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তেঁতুলতলা মাঠটি তাদের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে, মাঠটিতে শিশু-কিশোররা গত পঞ্চাশ বছর যাবত যেমন খেলাধূলা করত, এখন থেকে সেভাবেই চলবে শিশু-কিশোরদের এই চাওয়া-পাওয়া। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিশু এক একটি রাসেল। তাই এই আন্দোলনে জয়ী হলেন পরিবেশকর্মী, সমাজকর্মী ও শিশু-কিশোররা। রাসেলের মতো শিশু-কিশোররা এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে স্মরণীয় হয়ে থাকলেন মাঠ দখলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না বেগম ও তার কিশোর ছেলের বিনা ওয়ারেন্টে ও বিনা মামলায় থানায় ১৩ ঘণ্টা আটক রাখার ঘটনা। নিষ্পাপ ওই কিশোরকে এভাবে থানার লকআপে আটকে রাখা প্রচলিত শিশু-আইন ও সংবিধানবিরোধী। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনে ফৌদজারি অপরাধ ছাড়াও জাতিসংঘের শিশু সুরক্ষা সনদের পরিপন্থী। সে হিসেবে কলেজ পড়ুয়া ১৭ বছরের কিশোরটি সৌভাগ্যবান। পরিবেশকর্মী রত্না বেগমকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ কোন মামলা ছাড়াই। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। ১৭ বছরের কিশোরটিকে লকারে ঢোকানোর সময় ওই পুলিশ একবারও ভাবেনি যে, ঐরকম একটি সন্তান তার নিজেরও আছে। কিশোরটি যখন ১৩ ঘণ্টা বিনা অপরাধে আবদ্ধ ছিল, তার মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিল, কি ধারণা পোষণ করল সে দেশের পুলিশ সম্পর্কে? মা ও ছেলেকে একসঙ্গে একই রুমে রাখার জন্য মা রত্না বেগমের বারংবার অনুরোধও শোনেনি পুলিশ। তাহলে এই ছেলেটি কিভাবে শিখবে যে, পুলিশ জনগণের বন্ধু!

উল্লেখ্য, এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে কলাবাগানে থানা স্থাপনের জন্য স্থানীয় সাংসদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার দেন। সকল প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ প্রশাসন ২৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪১ হাজার ৭১০ টাকা পরিশোধ করে সেখানে নির্মাণ কাজে হাত দেয়। জনগণের নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেজন্য থানাও দরকার। কিন্তু খেলার মাঠও কি কম জরুরী? তাহলে প্রশাসনের এতটা ধাপে খেলার মাঠটিকে টিকিয়ে রাখার চিন্তা কারও মাথায় আসেনি কেন? আর থানা ভবনের জন্য খেলার মাঠকেই বেছে নিতে হবে কেন? ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে কিংবা ফুটপাথের ওপরও অনেক পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। এতে জনগণের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিন্ত হয়েছে, তা নিরূপণ করতে না পারলেও পথচলায় যে ভোগান্তি বেড়েছে, তা বলা যায়। নগর পরিকল্পনায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের জন্য ন্যূনতম একটা খেলার মাঠ লাগে, যার আয়তন ন্যূনতম এক একর (তিন বিঘা) হওয়ার কথা। ঢাকা শহরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি পাড়া-মহল্লায় প্রতি ১২,৫০০ মানুষের জন্য দুই থেকে তিনটি খেলার মাঠ থাকা উচিত। কলাবাগান একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। আনুমানিক ৩০ হাজারের মতো মানুষের বসবাস এবং এখানে ৪-৫টি খেলার মাঠ থাকার কথা। এভাবে সমস্ত ঢাকায় দরকার ১৩০০ মাঠ। কিন্তু আছে মাত্র ২৩৫টি। আবার এই মাঠগুলোর মধ্যে মাত্র ৪২টি মাঠে আছে সাধারণের প্রবেশাধিকার, প্রতিষ্ঠানের অধিকারে আছে ১৪১টি এবং কলোনির মাঠ আছে ২৪টি। এর বাইরে ঈদগাহ মাঠ আছে ১২টি। আর ১৬টি মাঠ দখল করে আছে কোন না কোন সাংস্কৃতিক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকা উত্তরে ৩৬টি ওয়ার্ডে মাঠের ঘাটতি আছে ৬১০টি, আর দক্ষিণে ৫৬টি ওয়ার্ডে মাঠের ঘাটতি ৪৬১টি। একটিও মাঠ নেই এমন ওয়ার্ডের সংখ্যা ৪। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে খেলার মাঠের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, খেলার মাঠ, পার্ক এবং খোলা জায়গার সঙ্কট কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। পরিবেশকর্মী সৈয়দা রত্না বেগম ও তার কিশোর ছেলের মাঠ রক্ষার এই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর শুভ দৃষ্টি পড়েছে। শিশু-কিশোররা ফিরে পেয়েছে তাদের প্রাণের মাঠ, সরব হলো তাদের হৈচৈ ও কলরব। দূরদৃষ্টিপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিমেষে জয় করে নিলেন এলাকার মানুষ ও শিশুদের মন।

লেখক: অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading