বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির হাতেখড়ি
সামসুল হক । বুধবার, ১৮ মে ২০২২ । আপডেট ০৯:৪৫
১৯৪১ সালে শেখ মুজিব ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। বাংলা পরীক্ষার দিন প্রচণ্ড জ্বর হয়। গোপালগঞ্জের সব ডাক্তারকে ডেকে আনলেন তার আব্বা। সব বিষয়েই তিনি ভালো নম্বর পেয়েছিলেন। শুধু বাংলায় কম। শেখ মুজিবের লেখা বই পড়ে এখন আমরা জানি, তিনি বাংলায় ভালো ছিলেন, অসুস্থ না হয়ে পড়লে তিনি নিশ্চয়ই বাংলাতেও ভালো নম্বরই পেতেন। যাহোক, দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।
এই সময় থেকেই মুসলিম লীগের মধ্যে দুটো অংশ। একটা অংশ ঢাকার নবাব পরিবারের নেতৃত্বাধীন, রক্ষণশীল। আরেকটা অংশকে বলা হতো প্রগতিশীল। আবুল হাশিম তাদের তত্ত্ব শেখাতেন। ক্লাস নিতেন। বঙ্গবন্ধু সেই ক্লাস করতেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই সময় আবুল হাশিম সাহেব মুসলিম লীগ কর্মীদের মধ্যে একটা নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করেন এবং নতুনভাবে যুক্তিতর্ক দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করতেন যে পাকিস্তান দাবি হিন্দুদের বিরুদ্ধে নয়, হিন্দু–মুসলমানদের মেলানোর জন্য এবং দুই ভাই যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সুখে বাস করতে পারে তারই জন্য। তিনি আমাদের কিছুসংখ্যক কর্মীকে বেছে নিয়েছিলেন, তাদের নিয়ে রাতে আলোচনা সভা করতেন মুসলিম লীগ অফিসে। হাশিম সাহেব পূর্বে বর্ধমানে থাকতেন, সেখান থেকে মুসলিম লীগ অফিসে একটা রুমে এসে থাকতেন, কলকাতায় আসলে। মুসলিম লীগ অফিসটা শহীদ সাহেব ভাড়া নিয়েছিলেন। তাকেই ভাড়া দিতে হয়েছে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। হাশিম সাহেব আমাদের বললেন, “একটা লাইব্রেরি করতে হবে, তোমাদের লেখাপড়া করতে হবে। শুধু হিন্দুদের গালাগালি করলে পাকিস্তান আসবে না।”
হাশিম সাহেব বলতেন, মুসলিম লীগকে প্রতিক্রিয়াশীলদের হাত থেকে উদ্ধার করতে হবে। গ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। উপরের তলার প্রতিষ্ঠান করলে চলবে না। জমিদারদের পকেট থেকে প্রতিষ্ঠানকে বের করতে হবে। তিনি শহীদ সাহেবের সাথে পরামর্শ করে সমস্ত বাংলাদেশ ঘুরতে আরম্ভ করলেন। চমৎকার বক্তৃতা করতেন। ভাষার উপর দখল ছিল। ইংরেজি বাংলা দুই ভাষায় বক্তৃতা করতে পারতেন সুন্দরভাবে।’
কাজেই বঙ্গবন্ধু মুসলিম লীগ করেছেন, পাকিস্তান আন্দোলন করেছেন, তা যেমন সত্য, তেমনি সত্য যে তিনি মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশটাকে ধারণ করতেন, সেটারই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ইউডি/সুস্মিত

