পরিবার থেকেই মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠুক প্রতিটি শিশু

পরিবার থেকেই মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠুক প্রতিটি শিশু

রাশেদা আক্তার । শনিবার, ২১ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:২০

আজকের শিশু আগামীর মানবসম্পদ। আর মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য শিশুর জীবনের শুরুর বছরগুলোতে যত্নশীলতার বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ একটি শিশুর বিকাশের ভিত্তি গড়ে ওঠে জীবনের প্রথম দিকের বছরগুলোর পরিচর্যায়।তাই শিশুর বিকাশে শিশু বা সন্তানদের প্রারম্ভিক বিকাশে অভিভাবক/ বড়দের করণীয় ও যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবার হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানেই নির্ধারণ হয় একটি শিশু কি রকম মানুষিকতা নিয়ে বেড়ে উঠবে। তাই পরিবার ও সমাজে শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার পেছনে বড়দের ভূমিকা অত্যধিক।শৈশব হচ্ছে অবারিত আনন্দে বেড়ে ওঠার সময়। শৈশবে শরীরের বৃদ্ধি ও মনের বিকাশ একসঙ্গে সঠিকভাবে বৃদ্ধি হতে থাকলে সত্যিকার অর্থে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি শিশু সুস্থ সবল, উদ্যমী ও দক্ষ হয়ে উঠে। ।
শিশুর প্রথম পাঁচ বছরকে প্রারম্ভিক শৈশবকাল বলা হয় এবং শৈশবের বিকাশকে বলা হয় শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ। প্রধানত পারিবারিক শিক্ষা ও সচেতনতার উপর শিশুর ভবিষ্যত মানুষিক বিকাশ নির্ভর করে।

প্রারম্ভিক কালে শিশুরা পরিচিত মুখ ও মুখের অভিব্যক্তি দেখে এবং বুঝে।আর পরিচিত জনের কণ্ঠস্বর শিশুকে উৎসাহিত করে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আচার-আচরণের বৈশিষ্ট্যর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে উঠে শিশু। একটি শিশু পৃথিবীতে আগমন করার পর তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবার।আর সেই শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন মা-বাবা ও অন্যান্য সদস্যরা। শিশুদের উন্নতচরিত্র গঠনেও মূখ্য ভূমিকা পালন করে পরিবারের সদস্যরা।

তাই শিশুর আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর চাহিদা, অধিকার ও মঙ্গলের জন্য পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যা শিশুর উপযুক্ত প্রারম্ভিক শৈশবকালীন বিকাশে সহায়ক হবে এবং তারা সফলতার সঙ্গে বিদ্যালয়-উত্তরণে সক্ষম হবে। শিশুর প্রারম্ভিক সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মনোবিদ ও শিশু বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করে বলেন। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে চারটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের শিশুদের মাঝেই আমরা ভবিষ্যৎ পৃথিবী দেখি। তাই শিশুদের মেধা, প্রারম্ভিক বিকাশ ওঠে চরিত্র গঠনের দায়িত্ব আমাদের ওপরই বর্তায়। মূলত শৈশব শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে পরিবার ও সমাজ থেকে শিশু যে ধরনের শিক্ষা তারা পেয়ে থাকে পরবর্তী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটে। শিশুদের এ বিষয়টি মূলত নির্ভর করে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তাকে কেমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণের দিকে তাগিদ দেয়।শিশুদের তথাকথিত শিক্ষায় নয় সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলার লক্ষ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা সব সময় অব্যাহত রাখতে হবে। কোনভাবেই শিশুকে তুচ্ছ করা যাবে না।

বড়দের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে শিশুদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় করে তুলতে হবে।এতে প্রকৃতি ও পরিবেশের পাশাপাশি শিশু চিনবে তার শিকড়। ফলে তার চিন্তা-চেতনায় বিভিন্ন ইতিবাচকতা আপনা থেকেই তৈরি হবে। শিশুদের কৃতভুলকে ভালোবাসার মাধ্যমে বুঝিয়ে বলতে হবে। তাদের সঙ্গে রেগে না গিয়ে সব সময় কোমল আচরণ করতে হবে।ফলে তারা বিনয় হতে শিখবে। স্মার্টফোনের আসক্তি শিশুদের জন্য চরম ক্ষতিকর। আর পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর সঙ্গে কথা বলে,শব্দ ও ধ্বনির মাধ্যমে আনন্দ দিয়ে, দেশাত্মবোধক গান, নাতে রাসূল, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে তাদের লুকায়িত প্রতিভাগুলো আবিষ্কারের চেষ্টা করতে হবে।

এসময় তাদের ভাষার মৌলিক চারটি দক্ষতা শোনা- বলা-পড়া-লেখা এসব বিষয়ে আন্তরিকতা ও যত্ন সহকারে শেখানো ও অনুশীলন করা দরকার। আর কোনো অবস্থাতেই তাদের উপর মাত্রাতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেয়া যাবে না। আর আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার চাপ বেশি। বিশেষ করে প্রাইভেট স্কুল গুলোতে এতে তাদের সুপ্ত প্রতিভা সহজে বিকাশ লাভ করে না। তাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারেও উদ্যোগ নিতে হবে। মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা ও অনুরাগ এবং স্নেহশীলতা ছাড়া শিশুর সুষ্ঠু প্রারম্ভিক বিকাশ সম্ভব নয়। আর প্রতিটি শিশু তার পরিবার থেকে নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষা নিয়ে মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠুক।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading