শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হবে দেশের মানুষ
নজরুল ইসলাম সেজান । রবিবার, ২২ মে ২০২২ । আপডেট ০৯:৪৫
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ একদিন সম্পদে শান্তিতে বিশ্বের একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। সেভাবেই তিনি নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু ঘাতকের দল তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। তারা ষড়যন্ত্র করে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর এ দেশের ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশবিরোধী গোষ্ঠী। এরা বন্দুকের নল ও বাংলাদেশের কতিপয় শত্রম্নরাষ্ট্রের সহায়তায় ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানি মৌলবাদী ভাবধারায় বাংলাদেশ পরিচালনা করে। ফলে সীমাহীন দুর্নীতি, মৌলবাদ, হত্যা, গুম, ইত্যাকার বিষয় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দীর্ঘ একুশ বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এই দুঃশাসকের দল শাসনের নামে বাংলাদেশকে শোষণ করতে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ।
২০০১ সালে আবার দেশদ্রোহী মৌলবাদী চক্রের কূটকৌশলের কাছে হেরে যায় আওয়ামী। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন তৎকালীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থেকে এ দেশে একের পর এক বোমা হামলা চালিয়ে বাংলাদেশের জনজীবন ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড স্থবির করে দেয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরও তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নীলনকশা আঁটে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের সেই নীলনকশা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শত শত বাধা ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে যেভাবে বাংলাদেশকে পরিচালনা করছেন তা শুধু এশিয়ার বুকেই নয়, গোটা পৃথিবীতেই অনন্য নজির স্থাপন করেছে। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়- বাংলাদেশের অধিক জনসংখ্যার চাপ থাকা সত্ত্বেও মানবিক কারণে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেন এবং ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব অর্জন করেন।
বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে কোন অবস্থানে আছে তা বোঝানোর জন্য পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা মেট্রোরেলের মতো বৃহৎ বৃহৎ প্রকল্পগুলো নয়, জিডিপির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে সত্যিই বাংলাদেশ কীভাবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। একমাত্র আওয়ামী লীগের আমলেই বাংলাদেশের জিডিপি ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। বাংলাদেশে বহু দল ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কোনো দলই আওয়ামী লীগের মতো অর্থনৈতিক সাফল্য দেখাতে পারেনি। করোনা মহামারির কারণে সারা দুনিয়া যেখানে সমস্যাগ্রস্ত সেই পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রেখেছে এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। শেখ হাসিনা সরকার যতবারই বাংলাদেশের ক্ষমতায় আরোহণ করেছেন, ততবারই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছেন। যতদিন শেখ হাসিনার হাতে থাকবে দেশ, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ। কতিপয় সুজনের কুজন আর জনসম্পৃক্ততাহীন দলছুট নেতাদের ষড়যন্ত্রে এ দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীও ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার বারবার পুনর্ব্যক্ত করছেন। এখন আমাদের উচিত হবে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য যারা দেয় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই সঙ্গে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই একটি সুখী-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হবে। আমাদের এখন ধৈর্য ধরে দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে যার যার কাজ করতে হবে। সব বাধা ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এগিয়ে যাক ভবিষ্যতের বাংলাদেশ, এটাই সব আশাবাদী মানুষের প্রত্যাশা।
ইউডি/সুস্মিত

