স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অবশেষে অ্যাকশন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অবশেষে অ্যাকশন
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৭ মে ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২ । আপডেট ১২:৩২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে অনুমোদিত ও আবেদন করা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। আর এই সকল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগেরও সীমা নেই। এরই আলোকে দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার তিন দিনের (৭২ ঘণ্টা) মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ের পর নিবন্ধনহীন কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে অধিদপ্তর। বিস্তারিত লিখেছেন সাদাত কবির

বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বারংবার ঘোষণা দিয়েও স্বাস্থ্যঅধিদপ্তর এদের টনক নাড়াতে পারেনি। তাই এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নিয়েছে অধিদপ্তর। তিন তিনের মধ্যে এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করার নির্দেশ দিলো। আর তাতে ভুক্তভোগীরাও দেখছে আশার আলো। অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গত বুধবার (২৫ মে) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গণমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের সংবাদটি আসে বৃহস্পতিবার (২৬ মে)। বিষয়টি নিশ্চিত করে অধিদপ্তদরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. বেলাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি, সেগুলো অবৈধ। আমাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের পর যদি নিবন্ধনহীন কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মনিটরিং ও সুপারভিশন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে হবে। অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

নিবন্ধনভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নের আওতায় আসতে হবে: যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন গ্রহণ করেছে কিন্তু নবায়ন করেনি, তাদের নিবন্ধন নবায়নের জন্য একটি সময়সীমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নবায়ন না করলে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

নিবন্ধিত ডাক্তার ছাড়া এনেস্থেসিয়া ও ওটি অ্যাসিস্ট নয়
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অপারেশন করার সময় এনেস্থেসিয়া দেওয়া ও ওটি অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ডাক্তার ছাড়া অন্যদের রাখা হলে সেসব প্রতিষ্ঠান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

লাইসেন্স পাওয়ার আগে কার্যক্রম নয়: যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধনের আবেদন করেছে তাদের লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে। লাইসেন্স পাওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক করোনাকালীন সময় থেকেই বলে আসছিলেন দেশে অনুমোদন ছাড়া কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক কাজ করতে পারবে না। তিনি বলেছিরেন, সব জেলায় তারা সব হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন করবে। যাদের লাইসেন্স নাই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তাদের সময় দেওয়া হবে নবায়ন করার। যেসব হাসপাতালে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য সময় দেওয়া হবে। ওই সময়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি বসাতে না পারলে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে জাহিদ মালেক বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক কাজ করতে পারবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২০ সালের এক হিসাবে অনুমোদন এবং যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই দেশের ১১ হাজার ৯৪০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯১৬টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। ৯ হাজার ২৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে কোনো কোনোটি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও অনুমোদন পাওয়ার আগেই চিকিৎসাসেবার কাজ শুরু করে। আবার কোনো কোনোটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেই অর্থে সেগুলোও অবৈধ। জানা যায়, ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে অনলাইন পদ্ধতিতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হয়। নিয়ম অনুযায়ী সব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার তাদের প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনলাইনে বাধ্যতামূলক। কোনো একটি শর্ত পূরণ না করতে পারলে অনলাইনে নিবন্ধন হয় না। আর তাই নবায়নও হয় না। তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত এর আওতায় আসেনি সবগুলো বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার। বিভিন্ন সময় অবৈধ ও অনিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলেও এর ধারাবাহিকতা খুব একটা লক্ষ করা যায়নি। ২০১৮ সালে ঢাকার ৩০টি প্রাইভেট ক্লিনিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বলেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সেই হাসপাতালগুলো আবারো চালু হয়। ২০১৯ সালে এমন কোনো পদক্ষেপই দেখা যায়নি। তবে ২০২০ সালে করোনা চলাকালে রিজেন্ট হাসপাতালের পর অনিবন্ধিত ও ভুয়া হাসপাতাল-ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আবারো কোমড় বেঁধে মাঠ নামে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন।

লাইসেন্স কীভাবে পাওয়া যায়: লাইসেন্স পাওয়ার জন্য হাসপাতালের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন শর্ত থাকে। সেগুলো পূরণ করলে তবেই মিলবে লাইসেন্স। লাইসেন্স দেয়া হয় ১০ বেডের হাসপাতাল বা ক্লিনিক হিসেবে এক বছরের জন্য। প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে একই নিয়ম। হাসপাতালের লাইসেন্স পেতে হলে কমপক্ষে তিনজন এমবিবিএস ডাক্তার, ছয়জন নার্স ও দুজন ক্লিনার থাকতে হবে। প্রত্যেকটি বেডের জন্য ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। অপারেশন থিয়েটার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। আর সেখানে কী কী আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকতে হবে তাও বলা আছে। এরসঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন নম্বার, বিআইএন নম্বার, পরিবেশ এবং নারকোটিকসের লাইসেন্স থাকতে হবে। অপারেশন থিয়েটারের জন্য নারকোটিকসের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তবে আউটডোর, ইমার্জেন্সি এবং অপারেশন থিয়েটার বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে লাইসেন্স দেয়। লাইসেন্স নিতে ঢাকায় ৫০ হাজার এবং জেলা উপজেলায় ৪০ হাজার টাকা লাগে। ১০ বেডই প্রাইভেট হাসপাতালের ইউনিট। এরপর বেড বেশি হলে আনুপাতিক হারে জনবল বাড়ে।

লাইসেন্স দেয় অধিদপ্তর; বাতিলের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের: শর্ত পূরণ না করলে অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স দেয়া হয় না। আর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়। লাইসেন্স বাতিলসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করে অধিদপ্তর। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে বা নবায়ন না করলে লাইসেন্স বাতিল করার বিধান থাকলেও অধিদপ্তর লাইসেন্স বাতিল করতে পারে না। পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তর মৌখিক এবং লিখিতভাবে তাদের সতর্ক করতে পারে। ১৫ দিন সময় দিয়ে হাসপাতাল সাময়িক বন্ধের জন্য নোটিস দিতে পারে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দিতে পারে।

করোনা কালীন সময়ে আলোচিত অবৈধ রিজেন্ট হাসপাতাল

ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের সঠিক সংখ্যা অজানা: দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদির মোট সংখ্যা কত? এ প্রশ্নটির উত্তর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের জানা নেই। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ব্যতিরেকে এ ধরণের কোনো প্রতিষ্ঠান দেশে স্থাপন করা যায় না। উদ্বেগের বিষয় হলো এর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। অনেকগুলোর লাইসেন্স বছরের পর বছর নবায়ন করা হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করার পর সেটা দিনের পর দিন ঝুলে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন পর্যন্ত করেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটিকে দশকের পর দশক উপেক্ষা করে এসেছিলো। ফলে দিনে দিনে অনিয়মের পাহাড় তৈরি হয়েছে। যেহেতু নজরদারি অনুপস্থিত তাই মান নিয়ন্ত্রণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজের মতো করে পরিচালিত হয়। এক ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার ভিতর দিয়ে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ ঘটছে। তাই এখানে কোনো ধরনের পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি।

অবৈধ ডায়াগনস্টিকে নামসর্বস্ব টেস্ট বাণিজ্য: সূত্র মতে, দেশজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নামসর্বস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই ওসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চালানো হয় রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা। তারা মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে নিরীহ মানুষকে ঠকাচ্ছে। একই রোগ পরীক্ষায় একেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একেক রকম রিপোর্ট পাওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে। নানা সমালোচনার মধ্যেও সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তারের সহায়তায় বছরের পর বছর চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের যথেচ্ছ টেস্টবাণিজ্য। অভিযোগ তুলেও প্রতিকার মিলছে না। বরং কমিশনের লোভে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল বিভাগকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে দেয়া হয় না।

স্বাস্থ্যসেবায় মাননিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাই প্রতিষ্ঠা হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবায় স্বাধীন ও স্বতন্ত্র কোনো মাননিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। তাই সরকারি ও বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানেই সেবামানের নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যবস্থাপনা বলে যে একটা বিষয় আছে সেটা দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কেউ মাথায় রাখে না। এক্ষেত্রেও কোনো ধরনের পেশাদারিত্বের বিকাশ ঘটেনি। তাই দেখা যায় প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবা নিয়ে অধিকাংশ সেবাগ্রহীতার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৭ মে ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বিপুল জনবল: বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বেসরকারি খাতের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুমোদন, সেবা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়ন এবং সেবামূল্য নির্ধারণে স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। কিন্তু এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবল অত্যন্ত কম। হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। এর শাখা প্রশাখা আগের চেয়ে অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই খাতটির বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিপুল জনবলের প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য। বর্তমান বাস্তবতায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার কলেবর সরকারি সেবার প্রায় দ্বিগুণ। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় বিদ্যমান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্বারা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও বিকাশ সম্ভব নয়। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সরকারি ও বেসরকারি সেবা বিভাগে বিভক্ত করা প্রয়োজন।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading