টেক্সাসের স্কুলে হামলা: ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শোনাল ১১ বছরের সেরিলো

টেক্সাসের স্কুলে হামলা: ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শোনাল ১১ বছরের সেরিলো

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৯ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:২০

মিয়া সেরিলোর বয়স ১১। টেক্সাসের রব এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষার্থী সে। গত মঙ্গলবার বন্দুকধারীর হামলার সময় স্কুলে উপস্থিত ছিল মিয়া সেরিলো। হামলার মধ্যেও কীভাবে বেঁচে ফিরেছে সে, সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছে মার্কিন গণমাধ্যমের কাছে। ‘নিউ ডে’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় সেরিলো জানায়, সে নিজের শরীরে তার মৃত বন্ধুর রক্ত মেখে মড়ার ভান করে পড়ে ছিল।

গত মঙ্গলবার আমেরিকার দক্ষিণ টেক্সাসের উভালদে শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলে ১৮ বছর বয়সী বন্দুকধারী সালভাদর রামোস অতর্কিত হামলা করে। এতে ১৯ শিশুসহ ২১ জন নিহত হয়। এই হামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী মিয়া সেরিলো। সেরিলো জানায়, সে ও তার বন্ধুরা শ্রেণিকক্ষে বসে ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ মুভিটি দেখছিল। সেখানে ইভা মিরেলেস ও ইরমা গার্সিয়া নামের দুজন শিক্ষকও ছিলেন। তাঁদের পাঠদান তখন শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ শিক্ষকেরা জানতে পারেন, স্কুল ভবনে একজন বন্দুকধারী ঢুকেছে। তারপর একজন শিক্ষক দ্রুত শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করতে যান। কিন্তু তার আগেই বন্দুকধারী সেখানে চলে আসে। ঘটনা খুব দ্রুত ঘটছিল। বন্ধুকধারী ওই শিক্ষকের পেছনে পেছনে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে এবং শিক্ষকের চোখের দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, ‘গুড নাইট’। তারপরই সে গুলি করতে শুরু করে বলে জানায় সেরিলো।

বালিকা সেরিলো বলে, ‘ওই বন্দুকধারী গুলি করে একজন শিক্ষককে মেরে ফেলে। অন্য অনেক বন্ধুকেও গুলি করে। আমার চারপাশ দিয়ে বুলেট উড়ে যাচ্ছিল। মাথা ও কাঁধের ওপর ছোট ছোট অনেক টুকরো আছড়ে পড়ছিল। মিয়া সেরিলো জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষে হামলার পর বন্দুকধারী পাশের শ্রেণিকক্ষেও হামলা করে। সেখানে যখন গুলি চালাচ্ছিল, তখন শিক্ষার্থীদের চিৎকার ও কান্নার শব্দ সেরিলো শুনতে পেয়েছে। একপর্যায়ে গুলি থামিয়ে বন্দুকধারী ওই ব্যক্তি তীব্র শব্দে দুঃখের গান বাজাতে শুরু করে।’

সেই সময় সেরিলো ও তার বন্ধু মৃত শিক্ষকের কাছে একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পায়। সেই ফোন থেকে তারা ৯১১ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চায়। কিন্তু পুলিশ আসছিল না দেখে সেরিলোর ভয় বাড়তে থাকে। সে মনে করেছিল, বন্দুকধারী আবার তার শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসতে পারে এবং অবশিষ্ট যে কয়েকজন বেঁচে আছে, তাদেরও মেরে ফেলতে পারে। সে তখন তার পাশে পড়ে থাকা মৃত সহপাঠীর রক্ত নিজের শরীরে মেখে নেয় এবং মৃতের ভান করে পড়ে থাকে। সেরিলো জানায়, এভাবে সে প্রায় তিন ঘণ্টা পড়ে ছিল।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading