মার্ক জাকারবার্গ: যেভাবে মাথায় এলো ফেসবুক তৈরির ভাবনা
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৯ মে ২০২২ । আপডেট ১৩:১০
মার্ক জাকারবার্গ হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্ক প্লাটফর্ম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। এই সামাজিক যোগাযোগটিতে বর্তমানে ১ বিলিয়নেরও অধিক মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। মার্ক জাকারবার্গের অভুতপূর্ব আবিষ্কার এর ফলে, আজ দেশ বিদেশের যেকোনো জায়গাতে থাকা লোকেরা পরস্পরে সংযুক্ত হয়ে থাকতে পারছেন। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন সাইফুল অনিক।
নিজের তৈরি ফেসম্যাশ ওয়েবসাইট থেকেই ফেসবুকের চিন্তা মাথায় আসে জুকারবার্গের। এরপর ২০০৪ সালে তার রুমমেট ও বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে ফেসবুক নির্মাণ করেন। ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি দ্য ফেসবুক ডটকম ডোমেইন কিনে ফেলেন তিনি। সাইটটি চালুর পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ১২০০ জন শিক্ষার্থী এতে রেজিস্ট্রেশন করেন।
মার্ক জাকারবার্গ কে?
মার্ক জাকারবার্গ একজন আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার। মার্ক জাকারবার্গের পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গ, যার আসল পরিচিতি হলো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। মার্ক জাকারবার্গ ফেইসবুকের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নিয়ন্ত্রক অংশীদার।
মার্ক জাকারবার্গ এর জন্ম ও পরিবার
মার্ক জাকারবার্গের জন্ম হয়েছিল ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। তিনি নিউ ইয়র্কের ডবস ফেইরি নামক জায়গায় জন্মগ্রহণ করেন। মার্ক এর বাবার নাম হলো এডওয়ার্ড জাকারবার্গ এবং মার নাম কারেন জাকারবার্গ। পেশাগত ভাবে মার্ক এর বাবা একজন দন্ত চিকিৎসক ছিলেন এবং মা ছিলেন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তার ছিল আরও তিন বোন র্যান্ডি, ডোনা এবং এরিএল।
মার্ক জাকারবার্গ এর শিক্ষাজীবন
মার্ক জুকারবার্গ পড়াশুনা শুরু করেন ‘মাধ্যমিক বিদ্যালয় এক্সিটার এ্যাকাডেমি’তে। সেখানা তিনি ভালো দক্ষতা দেখান এবং ক্লাশ ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। সাহিত্যেও মার্ক জাকারবার্গ মেধার স্বক্ষর রাখেন। ক্লাসিক সাহিত্যে মার্ক জাকারবার্গ বিশেষ ডিপ্লমা অর্জন করেন। কিন্তু জুকারবার্গের আগ্রহজুড়ে ছিল কম্পিউটার।
মার্ক জাকারবার্গ এর জুনকেট আবিষ্কার
চিকিৎসক পরিবারে জন্ম নেওয়া মার্ক জুকারবার্গের চিকিৎসক হবার প্রতি অনীহা ছিল। মার্ক জাকারবার্গের ঝোঁক ছিল কম্পিউটারের প্রতি। সে তার বাবার রিসিপশন নিয়ে ব্যাথিত ছিলেন। এসব ‘কন্টাক্ট সিস্টেম’ তার পছন্দ লাগত না। তাই সে বাবার কাজের সুবিধার্থে ‘জুকনেট’ নামে একটি মেসেজিং সিস্টেম তৈরি করেন। অতি সহজে এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেত। তখন মার্ক জাকারবার্গ এর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।
সফটওয়্যার তৈরি হাতের খেলমাত্র
মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ করে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানে অতি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। পড়ায় একজন ভালো ছাত্র হিসাবে নায়, এজজন প্রোগ্রামের হিসাবে। কারো যদি কোনো সফটওয়্যার তৈরির প্রয়োজন হত সবাই একসাথে আঙুল তুলত জুকারবার্গের দিকে। বলত এতো জুকারবার্গের কাজ, এটাত তার জন্য হাতের খেলমাত্র।
ফেসবুক তৈরির ভাবনা
২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ ফেসম্যাশ ডটকম নামে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর ঐ সাইটের জন্য নিজের কলেজের ডাটাবেজও হ্যাক করেছিলেন তিনি। হ্যাক করা হার্ভার্ড কলেজের ডাটাবেজ থেকে ছাত্রদের ছবি নিয়ে তা ফেসম্যাশে ব্যবহার করে ভিজিটরদের ‘হট’ অথবা ‘নট’ ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য কলেজের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এই সাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয় জুকারবার্গ। মূলত ঐ ফেসম্যাশ ওয়েবসাইট থেকেই ফেসবুকের চিন্তা মাথায় আসে জুকারবার্গের।
ফেসবুক আবিষ্কার
মার্ক তার তিন বন্ধু ডাসটিন মস্কোভিজ, ক্রিস হাগ্স এবং এদুয়ার্দো স্যাভেরিনকে নিয়ে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক তৈরি করেন। তারা হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কালীন সময়ে হলে বসে ফেসবুক নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে তারা ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। জুকারবার্গ হাভার্ডে দ্বিতীয় বর্ষে উঠে পড়ালেখা ছেড়ে দেন, শুধুমাত্র ফেসবুককে পূর্ণকালীন সময় দেবার জন্য।
প্রথমে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ, প্রোফাইল ও ছবি উপলোড এর জন্য এটা ব্যবহার করা হত। কিন্তু মার্ক যখন হাভার্ড ছেড়ে কোম্পানীকে ক্যালিফোর্নিয়ার পাওলো আলটোতে স্থানান্তর করলেন। হাভার্ড ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জন্য ফেসবুক ইউজ উন্মুক্ত করে দেন।
ফেসবুকের উত্থান
ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ মিলিয়নে। তবে এ সময় শুধু ১৩ বছরের উপরের বয়সের ছেলে ও মেয়েরাই এটি ব্যবহার করতে পারতেন। এসময় ফেসবুকে কোনো ছবি আপলোড করা, ওয়াল, নিউজ ফিড, ইভেন্ট, পেজ ইত্যাদি ফিচার ছিল না। অবশেষে ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে জুকারবার্গ শ্রুতিমধুর নামের কারণে ‘দ্য ফেসবুক’ কে সংক্ষিপ্ত করে ‘ফেসবুক’ রাখেন এবং এই নামে একটি ডোমেইন কেনেন। তবে এজন্য খরচ হয়েছিল দুই লাখ মার্কিন ডলার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
বর্তমানে তিনি মেটার মালিক। মেটা হচ্ছে ফেসবুকের নতুন নাম। তবে এখনো ফেসবুক পুরোনো নামেই পরিচিত হচ্ছে। মেটাকে করা হয়েছে ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ আরও বেশ কিছু প্ল্যাটফর্মের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান।
দি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফিল্ম
বেন মেজরিচ ‘এ্যাক্সিডেন্টাল বিলিয়নেয়ারস’ বইটির সমালোচনার ঝড় সহ্য করতে পারেন নি। তিনি বইটি চিত্রশিল্পী এ্যারন সরকিনের কাছে বিক্রয় করে দেন। এ্যারন সারকিন অবশ্য এটাকে নতুন রূপ দান করেন। এবং একটি প্রশংসনীয় ফিল্ম নির্মাণ করেন। যাকে আমার দি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফিল্ম নামে চিনি। এই ফিল্মে মার্কের ফেসবুক প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন ইন্টারেস্টিং বিষয় তুলে ধরা হয়। ফিল্মটি ২০১০ সালে রিলিজ হয়। এবং সে বছর অস্কারের জন্য মনোনীত হয়। মার্ক জুকারবার্গের অবশ্য দাবী ফিল্মটির অধিকাংশ চিত্র বাস্তবের সাথে মিল নেই।
ইউডি/অনিক

