বিশ্ব মানবতার পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন বঙ্গবন্ধু
পেহনাজ উপমা । সোমবার, ৩০ মে ২০২২ । আপডেট ১২:৩০
বিশ্বের মুক্তিকামী নিপীড়িত মেহনতী মানুষের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। বাঙালীর মুক্তি সংগ্রাম, তাদের অধিকার আদায়ে সহ্য করেছেন জেল, জুলুম, অত্যাচার। শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি।
গণমানুষের পক্ষে তার এই সাহসী অবস্থান ও বিশ্ব মানবতার পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও বাঙালী জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য গৌরবোজ্জ্বল মহান দিন। জাতির পিতার এই পদকপ্রাপ্তি অন্যান্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘসহ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য পদ লাভকে ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। দেশে ফিরে এসেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়- এই মতবাদে পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল স্পষ্ট।
১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্বশান্তি পরিষদের প্রতিনিধিরা যোগদান করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের উন্মুক্ত প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। বিশ্বশান্তি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের বিশাল সমাবেশে বিশ্বশান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববন্ধুর সম্মান পেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘এ সম্মান কোন ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়। এ সম্মান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহীদদের, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানীদের। জুলিও কুরি শান্তি পদক সমগ্র বাঙালী জাতির।’ বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘জুলিও কুরি’ পদক।
পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিশ্ব মানবতার পথেই হাঁটছেন উত্তরাধিকারী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নিজ দেশের অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক নানাবিধ সমস্যার কথা না ভেবে শুধু মানবিক কারণে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে আজ ‘মাদার অব হিউম্যানিটির’ স্বীকৃতি পেয়েছেন শেখ হাসিনা।
ইউডি/অনিক

