শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী অর্জনে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ
সুমাইয়া রানি সরকার । সোমবার, ৩০ মে ২০২২ । আপডেট ১২:২৫
সরকারের গণমুখী কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে এখন সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ। স্কুলে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্রছাত্রীর সমতা, নারী শিক্ষায় অগ্রগতি, ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়াসহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতিকে অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করছে।
সত্যিকার অর্থেঈ শিক্ষাক্ষেত্রে ৫০ বছরের অর্জন বিশ্বের বহু দেশের কাছে অনুকরণীয়। বাংলাদেশ শিক্ষায় সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা আর শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্রছাত্রীর সমতা, নারী শিক্ষায় অগ্রগতি, ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়াসহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ।
প্রাথমিক স্কুলে মোট ভর্তির হারে শতভাগসহ অন্য শিক্ষা খাতে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। নারী শিক্ষার অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ছেলেমেয়ের ভর্তির হার সমান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের ভর্তির হারও বাড়ছে। শিক্ষায় সরকারের অন্যতম সাফল্য জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করা। এটির বাস্তবায়ন চলছে। প্রতি বছর কোটি কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে, যা পৃথিবীতে নজিরবিহীন। প্রতিবছর ১ জানুয়ারিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই পৌঁছে যাচ্ছে। পালিত হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ছয়টি।
বর্তমানে দেশে ৪৮টি পাবলিক ও ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। এক সময় বছরে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ইন্ডিয়াতে উচ্চশিক্ষা নিতে যেত, এখন যায় না বললেই চলে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার্থীদের এই পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে বিপুলসংখ্যক তরুণ শিক্ষা অর্জন করছে। পুঁথিগত অর্থাৎ সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ দেশগুলোতে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উন্নয়নের বড় কারণ কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন। সিঙ্গাপুরে এ শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ ও মালয়েশিয়ায় ৪০ শতাংশ। যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ায় কারিগরি শিক্ষার হার ১৭ থেকে ৫৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার ছিল ১ শতাংশেরও কম। কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
পিছিয়ে পড়া মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করেছে বর্তমান সরকার। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে মাদ্রাসা অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ শিক্ষায় অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। সাধারণ বিষয়ের মতো তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান বিষয় চালু করা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় এনে বিশ্বমানের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দেশে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওলামা, পীর-মাশায়েখ, এদেশের ইসলামী চিন্তাবিদ ও মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ৮০ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে এ বিষয়ে পারদর্শী তরুণ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়কে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার সম্পর্কে জানত না। এখন প্রায় প্রতিটি স্কুলে রয়েছে এ যন্ত্র। মাধ্যমিক শিক্ষার ২৩ হাজার ৩৩১টি প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। ডিজিটাল কনটেন্ট ও ভিডিও ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো বিশ^ রয়েছে এখন শিক্ষার্থীদের হাতের মুঠোয়।
ইউডি/অনিক

