পুরোনো স্মার্টফোন যেসব কাজে লাগাতে পারেন
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০২ জুন ২০২২ । আপডেট ১২:০৫
বাজারে নতুন কোনো ফোন এলেই সেটি কেনার জন্য মন উসখুস করতে থাকে অনেকের। যারা সারাক্ষণ স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকেন, তারা তো একটু ঘন ঘনই ফোন বদলান। তবে পুরোনো ফোনটি কি করেন? হয় বিক্রি করে দেন না হয় বাড়িতে পড়েই থাকে। ফেলে না রেখে এটিকে কাজে লাগাতে পারেন। বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করছেন সবাই। তবে অনেকে সাধ্য না থাকায় উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা কিনতে পারেন না। তারা পুরোনো স্মার্টফোনটিকেই এই কাজে লাগাতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক আর কী কী কাজে লাগাতে পারবেন পুরোনো স্মার্টফোন-
ই রিডার- পুরোনো স্মার্টফোনকে ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য প্রথমে এতে থাকা আগের সব অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলুন। প্রতিটি রিডিং অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে হবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে লাইব্রেরি ডাউনলোড করে নেওয়ার পর আর ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না। আপনি যেখানেই যান না কেন পকেটের ভেতরেই থাকবে ই-বুক এবং অডিও বুকের বিশাল লাইব্রেরি।
ওয়েবক্যাম হিসেবে- পুরনো স্মার্টফোনটি খুব ভালো ওয়েবক্যাম হয়ে উঠতে পারে। স্মার্টফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করতে প্রথমে ফোনটিকে কম্পিউটারেরর সঙ্গে যোগাযোগ করার উপযোগী করে তুলতে হবে। এ কাজের জন্য বিনামূল্যে অনেক অ্যাপ আছে। এসব অ্যাপের যে কোনো একটি বাছাই করে ওয়াইফাই অথবা ক্যাবল ব্যবহারের মাধ্যমে ফোনটিকে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিতে হবে।
গেমিং ডিভাইস- পুরনো স্মার্টফোনকে শক্তিশালী গেমিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। রেট্রো গেম ফাইলগুলো সাধারণত ছোট হয়। তাই পুরোনো স্মার্টফোনও শত শত গেম সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
কম্পিউটার টার্মিনাল হিসেবে- অনেক সময় এমন হয় যে ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপ বাড়িতে রেখে বাড়ির বাইরে গেলেন। এমন সময়ই জরুরি কোনো ফাইলের প্রয়োজন হলো। এক্ষেত্রে আপনার তথ্যের সঙ্গে দূরবর্তী কোনো সংযোগের উপায় থাকলে ব্যাপারটি খুবই সহজ হতো। আপনার পুরোনো স্মার্টফোনটিকেই এ কাজে লাগাতে পারেন। গুগল ক্রোম রিমোট ডেস্কটপ এক্সটেনশন ইনস্টল করে কম্পিউটারকে দূরবর্তী স্থান থেকেও ব্যবহার করতে পারবেন। এক্সটেনশনে আপনার কম্পিউটারের একটি নাম দেওয়ার পর একটি পিন তৈরি করতে হবে। এ কাজটি শেষ হওয়ার পর স্মার্টফোনটিতেও ক্রোম রিমোট ডেস্কটপ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে।
সার্বজনীন রিমোট- পুরোনো স্মার্টফোনটি বাসার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী পরিচালনার ভালো একটি কমান্ড সেন্টার হতে পারে। শুরুতেই ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট দিয়ে যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় সব মুছে ফেলতে হবে। এরপর টিভি, মিউজকসহ অন্যান্য যেসব সামগ্রী নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন সেগুলোর প্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলো ডাউনলোড করে নিন। পাওয়ার, ভলিয়ম এবং চ্যানেল পরিবর্তনের মতো টিভির কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে প্লে স্টোর থেকে ইউনিভার্সাল রিমোট অ্যাপ নামিয়ে নেওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেটফ্লিক্স, হুলো এবং এইচবিও ম্যাক্সের মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে যা পুরনো ফোনগুলোয় খুব ভালো কাজ করে।
ইউডি/সুস্মিত

