আপাদমস্তক সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ ছিলেন আমাদের বঙ্গবন্ধু
কাউসার শাখাওয়াত । বৃহস্পতিবার, ০২ জুন ২০২২ । আপডেট ১২:১৫
বাঙালির পরিচয় অর্থই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার আদর্শ ও চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন রাজনৈতিক, আইনতত্ত্ববিদ, কবি, দার্শনিক ও গবেষক। এমন কোনো গুণ নেই যা বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিল না। শেখ মুজিবুর রহমানের একক সত্তা আর বাঙালির সামগ্রিক পরিচিতি মিলেমিশে আজ এক দেহে মিশে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাই বাঙালির সকল সুকৃতি, বীরত্ব, দৃঢ়-চিত্ত সংকল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহক ছিলেন। বাংলা ও বাঙালির জন্য তিনি যেমন আমরণ যুদ্ধ করে গেছেন, তেমনি এ দেশ ও মাটির মূল সংস্কৃতিকেও তিনি ধারণ করেছেন মনে-প্রাণে। বাংলাকে ভালোবেসেই তিনি বাঙালিকে ভালোবেসেছেন। এক কথায় তিনি ছিলেন আপাদমস্তক এক সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।
সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি ছিল। তিনি যৌবনকাল থেকেই সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেছেন। বুলবুল ললিত কলা একাডেমি, ছায়ানটকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন, তাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে একটা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে যে মেলাটা হতো তাতে তিনি সমর্থন দিয়ে গেছেন। বেতার, টেলিভিশন বিকাশের ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন। তার একটা অনন্য কাজ হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার জন্য তিনি শিল্পকলা একাডেমিকে বেছে নিয়েছিলেন। বাঙালি সংস্কৃতির জায়গাটি বঙ্গবন্ধু এমনভাবেই ধারণ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুল ইসলামের অনেক কবিতা তার মুখস্থ ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান ও কবিতার লাইন তিনি প্রায়ই আওড়াতেন। আশ্চর্যজনকভাবে তিনি আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্দ্বিধায় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানটিকেই বেছে নিয়েছিলেন। তার সামনে আরও পছন্দের সংগীত ছিল, কিন্তু অন্য সংগীত বাদ দিয়ে তিনি এই বিশেষ গানটিকেই আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তার বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা খুব গৌরব বোধ করি যে, তার বাবার স্বপ্ন তিনি সফল করতে চলেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষ কখনো কল্পনাও করেনি। আমরা সেটা এখন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। এরকম দেশের চারদিকে তাকালে উন্নয়নের যে জোয়ার চোখে পড়ে, এই বাংলাদেশে আমরা আগে কখনো দেখিনি। সেটি সম্ভব হয়েছে শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার কল্যাণেই।
ইউডি/সুস্মিত

