দেশে প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রা বর্তমানে দৃশ্যমান
শাখাওয়াত কায়সার । বৃহস্পতিবার, ০৯ জুন ২০২২ । আপডেট ১৪:৫০
একসময় বৈদেশিক সহায়তা ছাড়া চলতে না পারা বাংলাদেশ এখন নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ তার সক্ষমতা প্রমাণ করছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসছে আমূল পরিবর্তন। এ বছরই তিন স্বপ্নের প্রকল্পের সুফল পাবে জনগণ। তিন মেগা প্রকল্পেই বদলে যাবে দেশের চেহারা। পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুুষের দূরত্ব কমছে। বাড়ছে অর্থনৈতিক যোগাযোগ। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু টানেলে চট্টগ্রামের মানুষের জীবনেও আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। মূলত পুরো দেশই অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের আধুনিকতার স্পর্শে বদলে যাচ্ছে। সহজ হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা।
বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার জন্য রোল মডেল। আমাদের জীবনে ইন্টারনেট শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো। দেশের মানুষের ডিজিটাল জীবনধারা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি আমরা দেখেতে পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উদ্েযাগ ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক পৌছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের শতকরা ৯৮ভাগ এলাকায় ৪জি নেট ওয়ার্ক পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এরই মাঝে ৫জি স্পেকট্রাম নিলাম করা হয়েছে এবং ৫জি চালু করা হয়েছে।
এখন দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কানেক্টিভিটির প্রসার ঘটেছে। এখন মধুপরের পাহাড় বা হাওরে বসে ইন্টারনেটের সহায়তায় তরুণ তরুণীরা বিদেশে আউটসোর্সিং এর কাজ করতে পারে। ২০০৮ সালে দেশে মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ৮ লাখ। ২০২০ সালে কোভিড শুরুর প্রাক্কালে দেশে ১০০০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৪৪০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তের কোটিতে উন্নীত হয়েছে। দেশে নেটওয়ার্কের বর্ধিত চাহিদা মিটিয়ে সৌদি আরব, ভারত ও ভূটানে ব্রডব্যান্ড রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের কাজ শুরু করেছে। তৃতীয় সাবমেরিন সংযোগ সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত আরও প্রায় তের হাজার দুই শত জিবিপিএস ব্যান্ডউইদথ সংযুক্ত হবে।
দেশে প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রা বর্তমানে পুরোপুরি দৃশ্যমান। ১০ বছর আগে কেউ কল্পনাও করেনি ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষ ইন্টারনেট-সেবা পাবে। ২০০৮-এ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ২৪ লাখ, বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি। বিশ্বব্যাপী বিপিও খাতের বাজার প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের বিপিও ব্যবসার বাজার গত ১০ বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০০৫ সালে যে ব্যান্ডউইডথের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকা, সরকার এখন তা ৪০০ টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিপিও খাতে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এরই মধ্যে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটসহ কয়েকটি বড় প্রাপ্তি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অন্যরকম উচ্চতায়। বাংলাদেশ প্রযুক্তি বিশ্বে অর্জন করে নিয়েছে নিজেদের একটি সম্মানজনক স্থান। বিশেষজ্ঞরা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এই উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আখ্যায়িত করছেন ডিজিটাল নবজাগরণ হিসেবে। দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সঙ্গে মানুষের জীবনে এর বড় প্রভাবও দেখা গেছে।
প্রযুক্তিতে যে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়েছে সেটা আমরা করোনা মহামারির মধ্যে বুঝতে পেরেছি। মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরও তারা কিন্তু করোনার মধ্যে মানুষকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে গেছে। এখন সেবাগুলো নির্বিঘ্ন করতে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের দাম তুলনামূলক কম। আইটিইউ ও এফোরএআই প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন। তবে ইন্টারনেট সেবার মান আরও বাড়াতে হবে। পরিপূর্ণ ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ যে হারে এগিয়েছে সেটা সত্যিই অনেকের জন্যই ঈর্ষণীয়। অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দারুণ সাফল্য অর্জন করেছি। পৃথিবীর অনেক দেশই আমাদের অনুসরণ করছে। এখন আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করে বলতে পারি সেই তলাবিহীন ঝুড়ি আজ বিশ্বের বিস্ময়, উন্নয়নের এক রোল মডেল।
ইউডি/সুস্মিত

