বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবহেলিত ও নীপিড়িত মানুষের মহারথি

বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবহেলিত ও নীপিড়িত মানুষের মহারথি

খন্দকার এবাদত আলি । মঙ্গলবার, ১৪ জুন ২০২২ । আপডেট ০৯:৩০

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে এত বেশি পরিচিত যে তার সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আমাদের ইতিহাসের স্মরণীয় মহাচরিত্র তিনি। ইতিহাসে নির্ধারিত স্থায়ী অবস্থান থেকে তার অপসারণ সম্ভব নয়। তিনি দীর্ঘ চার দশক জুড়ে ঘটনাবহুল রাজনীতির বিচিত্র প্রবাহের ফসল এবং একজন মহীরুহতুল্য সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব।

শ্বেতাঙ্গ উপনিবেশবাদের আমলের অন্তিমপর্বে এই উপমহাদেশের পশ্চাৎপদ সংখ্যালঘুদের পৃথক আবাসভূমি কায়েমের আন্দোলনের একজন ছাত্রকর্মী হিসেবে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক অভিযাত্রার সূচনা। ১৯৪৭ সালে সে নতুন দেশ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্প সময় পরেই শুরু হওয়া গণতন্ত্রের সংগ্রামে তার নেতৃত্ব বিকশিত হতে থাকে। বিভিন্ন নিপীড়ন ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও একসময় তিনি তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের গণম্যান্ডেটের অধিকারী নেতার পর্যায়ে উন্নীত হলেন। বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ন্যায্য অধিকার কায়েমের আন্দোলনে প্রথম থেকেই মুজিব ছিলেন সাহসী ও অগ্রণী সারথি। আমাদের জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার কায়েমের সংগ্রামের ক্রমোত্তরণের ধারাবাহিকতায় শেখ মুজিবুর রহমান নিরঙ্কুশ নেতৃত্বের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন। তাকে ঘিরেই ১৯৭১ সালে পরিচালিত হয়েছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। সাবেক পাকিস্তান আমলের সিকি শতাব্দীতে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার কায়েমের আন্দোলনে তার ছিল অনন্য ভূমিকা। এ সময়ে ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন আদায়ের সংগ্রাম এবং সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনেও মুজিবের ব্যাপক অবদান অনস্বীকার্য। তখন নির্যাতন, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণ জাতীয়তাবাদী চেতনায় জাগ্রত, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হয়েছিল। পরিপূর্ণ স্বশাসন বা স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সে আন্দোলনের নেতৃপুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান।

বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি। তিনি এই বাংলাদেশের অবহেলিত নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার দাবির সফল বাস্তবায়নের এক মহারথি-মহাপুরুষ। বাংলার কৃষক শ্রমিক মেহেনতি মানুষদের নিয়ে তিনি সারাজীবন স্বপ্ন দেখেছেন। তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশকে সুখি ও সমৃদ্ধশালী একটি দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যৌবনের অধিকাংশ রোমাঞ্চকর বছরগুলো তিনি কারগারের নিভৃত প্রকষ্ঠে নিঃসঙ্গ কাটিয়ে দিয়েছেন। তিনি সারা জীবন আন্দোলন সংগ্রাম করে একটি শোষনহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মানষে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দিয়েছেন। পৃথিবির মানচিত্রে যার নাম গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading