দেশপ্রেমের মহানায়কের জায়গায় চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন বঙ্গবন্ধু
সাঈদ চৌধুরী । মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২ । আপডেট ১৬:৩০
আমরা ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ অভ্যুথান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো বিষয়গুলো এখন যত সহজ দেখছি তৎকালীন সময়ে সবকিছু ততটা সহজ ছিলো না। সামনে থেকে কথা বলা, প্রতিবাদ করা এবং সে কথা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো মাধ্যমও এত ছিলোনা তখন। একজন মানুষকে নেতা হয়ে উঠতে হলে কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় তার একটি প্রকৃষ্ঠ ও বলিষ্ঠ উদাহরণ হল আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুব সাদাসিধে ও প্রতিবাদী মানুষ। এই প্রতিবাদী চরিত্রের মধ্যেই লুকিয়ে রেখেছিলেন মানব প্রেম ও দেশ প্রেমের অসাধারণ রসায়ন।
বঙ্গবন্ধু মাত্র ১৩ বছর বয়সেই প্রতিবাদ করে দেখিয়েছেন তার মনের শক্তিকে। পুলিশের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে জানিয়েছেন তিনি সাধারণ মানুষের পক্ষে। এ কারণে চৌদ্দ বছর বয়সেই সাতদিনের জন্য তাকে কারাভোগ করতে হয়। এটিই ছিলো তার প্রথম কারাভোগ। কিশোর বেলা থেকেই দিপ্তী দেখানো মানুষটি হয়ে ওঠেন প্রতিবাদের একজন কান্ডারী। আমরা যারা বার বারই বলে থাকি মুক্তিযুদ্ধের কথা, স্বাধীনতার কথা, দেশপ্রেমের কথা এবং মুক্তিকামী জনতার কথা তার প্রতিটি কথার সাথেই এই মহা পুরুষের নাম জড়িয়ে আছে এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই এই নাম জড়ানোর অনেকগুলো কারণও রয়েছে। জীবনের বেশীরভাগ সময় কারাভোগ করা মানুষটি যতবারই কারাগারে গিয়েছেন ততবারই তিনি দেশের মানুষের কথা বলতে গিয়েই কারাভোগ করেছেন। কারাভোগ করার সময় বদ্ধঘরে থেকেও স্বপ্ন দেখেছেন একটি স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলার।
১৯৭১ সালে যখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন তখন তার ডাকে সাড়া দিয়ে অনেক সাধারণ মানুষ যুদ্ধে তাদের সামিল হন। রক্ত ক্ষরণের ইতিহাসে রচিত করুণ কাহিনীর মালা গেঁথে গেঁথে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। তখনও বঙ্গবন্ধু কারাগারেই। জীবনের বড় একটি অংশ কারাগারে কাটানো মানুষটি কি কারাগারের বাইরে থাকাকালীন অবস্থায়ও নিজের জন্য আলাদা সময় কাটাতে পারতেন? তিনি সবটা সময়ই মানুষকে নিয়ে থাকতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একটি নাম যে নামটি হয়ে থাকবে বাংলাদেশের দেশের প্রতিষ্ঠার সমার্থক। কালের আবর্তে হাজার হাজার বছর বিলীন হয়ে যাবে কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের জায়গায়, দেশপ্রেমের মহানায়কের জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামটি লেখা হয়ে থাকবে চির ভাস্বর।
ইউডি/সুস্মিত

