সমৃদ্ধির অদম্য যাত্রায় দেশের স্বাস্থ্য খাত
তানভীরুল ইসলাম । মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২ । আপডেট ১৭:২০
১৯৭১ সালে ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, এখন স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এ উত্তরণের পেছনে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রফতানিমুখী শিল্পায়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, পোশাক ও ওষুধ শিল্প, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও পরিশ্রমের ফসল।
বিজয়ের ৫০ বছর পেরিয়ে বিভিন্ন খাতের ন্যায় দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত প্রশংসনীয় সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে মৌলিক চিকিৎসাচাহিদা পূরণ, সংক্রামক রোগ-প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল, অসংক্রামক রোগের ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ, পুষ্টি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সূচকগুলোর ব্যাপক অগ্রগতিতে স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে বহু দূর।
প্রত্যাশিত গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি। ২০২০ সালে পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭১ দশমিক ২ বছর। ২০১৯ সালে ছিল ৭১ দশমিক ১ বছর। ২০১৮ সালে ৭০ দশমিক ৮ বছর, ২০১৭ সালে ৭০ দশমিক ৬ বছর এবং ২০১৬ সালে ছিল ৭০ দশমিক ৩ বছর। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যাশিত গড় আয়ু হচ্ছে ৭৪ দশমিক ৫ বছর, ৭৪ দশমিক ২ বছর, ৭৩ দশমিক ৮ বছর, ৭৩ দশমিক ৫ বছর এবং ৭২ দশমিক ৯ বছর।
স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যেই শিশুমৃত্যু রোধে বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ। ১৯৭০-এর দশকে প্রতি এক হাজারে নবজাতকের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ১৫০। এখন (২০২০-২১) সে হার কমে হয়েছে ১৭ দশমিক ১-এ। স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৯৩ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ১৩৩ জনের। ২০১৪ সালে তা কমে ৪৬ জনে দাঁড়ায়। ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার (প্রতি হাজার জীবিত শিশুর) কমিয়ে ৩৪ জনে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের এসডিজিতে তা কমিয়ে ২৫ জনে আনার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু রোধে এখন পর্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। করোনা ঠেকাতে বিশ্বের অনেক দেশ এখন পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকলেও ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১১ কোটি মানুষ বিনামূল্যে টিকা পেয়েছেন।
দেশের ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করা যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ হয়েছে চলমান কোভিডের সময়। এ সময় দেশে প্রায় ১৫ হাজার চিকিৎসক ও ২০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়া স্বাস্থ্য খাতকে আরও উন্নত করেছে। দেশের সব হাসপাতালে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে ই-গভর্ন্যান্স ও ই-টেন্ডার চালু করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু করতে ‘ভিশন সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বর্তমান সরকারের অন্যতম পদক্ষেপ হলো কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি হাতে নেয় শেখ হাসিনার সরকার। স্থাপন করা হয় প্রায় ১০ হাজার ক্লিনিক।
উপজেলা ও জেলাপর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। স্থাপন করা হয়েছে হৃদরোগ, কিডনি, লিভার, ক্যানসার, নিউরো, চক্ষু, বার্ন, নাক-কান-গলাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। অব্যাহত নার্সের চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নার্সিং ইনস্টিটিউট। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের কাজ চলছে।
ইউডি/সুস্মিত

