শিক্ষা খাতে শেখ হাসিনার সাফল্য ঈর্ষণীয়

শিক্ষা খাতে শেখ হাসিনার সাফল্য ঈর্ষণীয়
উত্তরদক্ষিণ

নোমান হাওলাদার । বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ । আপডেট ১৪:২৫

প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষা পর্যায়ে আমাদের দেশে শুধু শিক্ষার হারের দিকে মাইলস্টোন অতিক্রম করেনি, জাতি গঠনেও অনেক ভূমিকা পালন করেছে। সরকার এই করোনা পর্যায়ে শিক্ষা খাতে যখন যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেটি সর্বক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনছে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের যে অংশগ্রহণ হয়েছে এই সরকারের আমলে এটা সাফল্যজনকভাবে বেশি।

আমরা দেখেছি যে স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যটা ৯০ দশকের পর থেকেই শুরু হয় এর আগেও ধারাবাহিকভাবে ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে সাফল্য হয়েছে তা ছিল ঈর্ষণীয়। আমরা মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা অনেক দূর পথ হেঁটেছি। শিক্ষার অগ্রগতি ও প্রসারের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবান হচ্ছে। ভিত্তি যদি শিক্ষা হয় তাহলে উন্নয়নের সড়কে সাফল্য আসাটাই স্বাভাবিক অথচ শেখ হাসিনার সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বের চিত্র কিন্তু এ রকম ছিল না। তিনি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করেন তথা জনগণ যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন তখন দেশের যে অবস্থা ছিল সে অবস্থা অতিক্রম করে দেশ আজ স্বাবলম্বী, তথা উন্নয়নের মিছিলে শামিল। সরকার শিক্ষাকে ভিত্তি হিসেবে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের তরে কাজ করে চলেছেন এবং জনগণও শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার তার শাসনকালে শতভাগ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার সাফল্য দেখিয়েছে। আজ থেকে ৯ বছর পূর্বে প্রাথমিকে শতকরা ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির রেকর্ড ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বর্তমানে শতভাগ শিশু স্কুলে যাচ্ছে। সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের কারণেই দেশ উত্তরোত্তর সাফল্য ও সফলতার দিকে এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক দিক থেকে বলা শুরু করলে বলা যায়, প্রাথমিকে ছেলে এবং মেয়েদের সংখ্যায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বেশি, প্রাথমিকে বিনা বেতনে অধ্যয়ন এবং তাদের উপবৃত্তি দেওয়া, মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের উপবৃত্তি এবং বিশেষ করে মাধ্যমিকে মেয়েদের সমতা অর্জন এবং উচ্চমাধ্যমিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ সমতা অর্জনের পথে এবং উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা অন্যান্য সরকারের সময়েও থাকলেও এই সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহলে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শিক্ষার সাফল্য নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখলাম প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের যে অংশগ্রহণ এটা সাফল্যজনকভাবে বেশি।

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। উন্নয়নকে গতিশীল ও টেকসই করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গত দশ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য আজ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ সমতা বিধানের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপবৃত্তির টাকা অনলাইনে প্রদান করেছে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা আর শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে বাংলাদেশে যা, বিশ্বের বহু দেশের কাছে অনুকরণীয়। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্রছাত্রীর সমতাসহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতিকে অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে বাংলাদেশ ছুঁয়েছে নতুন মাইলফলক।

গত ৫০ বছরে দেশের শিক্ষায় সংখ্যার দিক দিয়ে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইসের) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস, ২০২০’–এ। এই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল ৭ হাজার ৭৯১টি। এগুলোয় শিক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ। এখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়েছে ২০ হাজার ৮৪৯টি। এগুলোয় শিক্ষার্থী হয়েছে এক কোটির বেশি। ১৯৭২ সালে কলেজ ছিল ৫২৬টি। আর এখন হয়েছে ৪ হাজার ৬৯৯টি। এখন শিক্ষার্থী হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ। এছাড়া দেশে আলিয়া ও দাখিল মাদ্রাসা আছে ৯,৩০৫টি। এগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ২৫ লাখের বেশি। জাতীয় বাজেটে উচ্চশিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকার যৌথভাবে বহুমাত্রিক কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। তবেই বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে শামিল হতে পারবে। শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে এটাই হোক প্রত্যাশা। বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, মাথাপিছু জাতীয় আয়, গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসকরণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ উন্নয়নের সব সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য আজ আকাশছোঁয়া।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading