চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
কাজি আকবর হোসেন । বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ । আপডেট ১৬:৫৫
বিভিন্ন ধরনের অজুহাত সামনে রেখে চালের বাজার অস্থির হওয়ার বিষয়টি যেমন নতুন নয়, তেমনি কারসাজিসহ নানা কারণেই চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বারবারই আলোচনায় আসে। অথচ এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, চালের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। জনসাধারণের জীবনযাপনে পড়ে বিরূপ প্রভাব। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে যে, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সরবরাহ বাড়াতে চার মাসের জন্য আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। আর শুল্ক কমানোর ঘোষণার পর এবার বেসরকারিভাবে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, খাদ্য মন্ত্রণায়ের ওয়েবসাইটে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যেখানে আগ্রহী বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছ থেকে চাল আমদানির আবেদনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সরবরাহ বাড়াতে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার- এটার পাশাপাশি মনে রাখা দরকার, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আরও উৎপাদন বৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, এবার ভরা মৌসুমেও কমেনি চালের দাম। প্রায় এক মাস ধরে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চালের বাজারে দফায় দফায় অভিযান চালালেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি বরং বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। লক্ষণীয়, দেশে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। ফলে প্রতি বছর এই মৌসুমে চালের দাম কিছুটা কম থাকে। কিন্তু এবার বন্যায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অজুহাতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে দাম। গত এক-দেড় মাসে প্রতি কেজিতে গড়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। সঙ্গত কারণেই সৃষ্ট পরিস্থিতি কতটা ভীতিপ্রদ তা আমলে নিতে হবে।
এছাড়া চাল আমদানি করে বাজার পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। কেননা, চালকল মালিকরা জানিয়েছেন যে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি শুল্ক কমলেও দেশের বাইরে থেকে চাল আমদানি করতে যে খরচ, তাতে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করে তারা মুনাফা করতে পারবেন না। ফলে ধান ও চালের দাম বেড়েছে। এটাও এড়ানো যাবে না যে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্য মূল্য সূচকে দেখা গেছে, চালের দাম মে মাসে গত ১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগের ৪ মাসেও ধারাবাহিকভাবে চালের দাম বেড়েছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের তা এড়ানোর সুযোগ নেই।
উলেস্নখ্য, চালকল মালিকরা বলছেন, আমদানি শুল্ক পুরোটা প্রত্যাহার না করা হলে চালের দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। সরকার আমদানি শুল্ক কমানো সত্ত্বেও ধানের দাম বেড়ে গেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে তারা জানান, চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা হিসেব করে দেখেছেন, আমদানির খরচ কমলেও তা আমদানিকৃত চালের দামের চেয়ে বেশি হবে। ফলে বর্তমান দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হবে। আমরা মনে করি, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। এছাড়া মনে রাখতে হবে বিভিন্ন সময়ে এমন বিষয় উঠে এসেছে যে, সিন্ডিকেটের থাবা, কারসাজিসহ নানা কারণেও চালের বাজার অস্থির হয়- এগুলো নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে হবে। এমন অভিযোগও রয়েছে, বড় বড় কোম্পানিগুলো চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ধানের মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে মজুত করে। আবার বাজারে ধানের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চালের দামও বাড়ায় তারাই। ফলে এই বিষয়গুলোও এড়ানোর সুযোগ নেই।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, যদি চালের বাজার সহনীয় না হয়, তবে দিশেহারা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এমনটি স্বাভাবিক। এর আগে এমন বিষয়ও উঠে এসেছে যে, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে একটি পণ্য কিনলে আরেকটি কেনার বাজেট থাকছে না। আমরা মনে করি, আমদানির চেয়ে উৎপাদনের দিকে নজর বাড়াতে হবে আরও। চালের বাজার পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক- কলামিস্ট
ইউডি/সুস্মিত

