ওয়াসার সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি
মোহম্মদ রেজাউল করিম । বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ । আপডেট ১৬:৩০
ঢাকা ওয়াসা ২০১৬ সালে নগরবাসীর জন্য সার্বক্ষণিক সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ‘ঢাকা ওয়াটার সাপস্নাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রম্নভমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে একটি উচ্চভিলাষী কার্যক্রম গ্রহণ করে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এর অর্থায়নের দায়িত্বে ছিল। পূর্বের ‘ডিডাবস্নুএসএসডি প্রকল্পের’ মাধ্যমে সমাপ্ত ডিএমএগুলোতে পানি সরবরাহের সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় এই নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন গৃহীত প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এখনো কাজ চলছে এবং কোনো কোনো মডস জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন না করে চলে গেছে। ফলে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরে ১০টি মডস জোনের ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর জোনে প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি ৭টি জোনের মধ্যে ১ নম্বর জোনে ১৯টি উরংঃৎরপঃ গবঃবৎবফ অৎবধ (উগঅ)-এর ৫টিতে কাজ শুরু হয়েছে। ২ নম্বর জোনে ১৯টি উগঅ-এর মধ্যে ৮টির হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকিগুলো ৭০% কাজ শেষ হয়েছে। ৪ নম্বর জোনে ১৪টি (উগঅ)-এর ৭টি কাজ শেষ। বাকিগুলোর কাজ বন্ধ হয়েছে। ৭ নম্বর জোনে শিগগিরই কাজ শুরু হবে। ৯ নম্বর ও ৩ নম্বর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীরা জানালেন, কাজের অগ্রগতি বিষয়ে প্রধান কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তবে অসমর্থিত খবরে জানা গেছে জোন ৩-এর ১৯টি (উগঅ)-এর মধ্যে ১০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার ‘নাভানা কন্সট্রাকশন’ কর্মস্থল ত্যাগ করেছে। এই (উগঅ)-তে হোল্ডিং সংখ্যা মোট প্রায় ৩২ হাজার। সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ৯টি (উগঅ)-তে কতটি হোল্ডিং আছে এবং সেই হোল্ডিংসমূহের কতজন গ্রাহক পানি সমস্যায় ভোগান্তি পোয়াচ্ছেন সেই পরিসংখ্যান চেষ্টা করেও সংগ্রহ করা যায়নি।
জোন পর্যায়ে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানার চেষ্টা করে বিফল হয়ে কলাম লেখক ওয়াসা প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (টেকনিক্যাল) প্রকৌশলী শহীদ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সংস্থাটিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ‘এডিবি প্রধান ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কার্যসম্পাদন পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন। এখন আমরা উৎপাদিত পানির ৯৫% এর ইরষষ করতে পারি- যা আগে অনেক কম ছিল। আগে কোনো এলাকার নলকূপ মেরামত করতে সময় লাগত ৩৬ ঘণ্টার বেশি। এ কারণে নলকূপ মেরামত বিভাগকে ভাগ করে বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় পাম্প বিকল হলে এখন আমরা ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে তা সচল করে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সক্ষম হয়েছি।’
ঢাকা ওয়াসা গৃহীত আলোচ্য প্রকল্পটি সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘সমাহার’ নামে একটি এনজিওকে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে যাতে গ্রাহক পর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি এড়ানো যায় এবং নতুন সংযোগ প্রদান, পুরনো সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, আধুনিক নতুন মিটার প্রদান, এধঃব ঠধষঁব, ঋষড়ধঃ ঠধষাব পরিবর্তনের ব্যাপারে সচেতন করা সহজতর হয়। সব পুরনো, ভাঙা বা ‘লিক হওয়া’ পাইপ লাইন পরিবর্তন করে উন্নতমানের ঐউচঊ পাইপ ও ফিটিংস সংস্থাপন করে ওয়াটার নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক হলো, গ্রাহকের আঙিনায় মিটার চেম্বার পর্যন্ত পাইপ ও মিটার স্থাপনের কাজে কোনো গ্রাহককেই কোনো খরচ করতে হবে না। ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং নগরবাসীকে পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিপুলভাবে সহায়তা করবে। কিন্তু, বিভিন্নমুখী সমস্যার কারণে প্রকল্পটি শতভাগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কারণ প্রকল্পের কাজ গত বছরের শেষে সম্পন্ন না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে। আর অনেক এলাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কোনো কোনো এলাকায় ঠিকাদাররা দায়সারাভাবে কাজ করায় গ্রাহকরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো এলাকায় প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরনো সংযোগ যথাসময়ে বন্ধ করা হয়নি। ওইসব এলাকার কোনো কোনো বাড়িতে পুরনো লাইনের পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত পানি পাওয়া যায়।
উপসংহারে একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, সব ভালো যার শেষ ভালো তার। তাই এখনো যেসব এলাকায় মাটি খনন না করে বোরিং পদ্ধতিতে পাইপ লাইন স্থাপন এবং পাইপ জোড়া দেওয়ার কাজ করে নগরবাসীকে সুপেয় পানি পানের যে মহতী প্রচেষ্টা ঢাকা ওয়াসা চালিয়ে যাচ্ছে তা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা এখন সময়ের দাবি। নগরবাসীর প্রত্যাশা আর কালবিলম্ব না করে দ্রম্নততার সঙ্গে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে পানিবাহিত রোগব্যাধি থেকে জনগণকে রক্ষা করার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
লেখক- কলামিস্ট
ইউডি/সুস্মিত

