বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালির স্বাধীনতা
জুনায়েদ আনসারি । শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:১২
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে খ্যাতিমান, সবচেয়ে স্মরণীয় ও বরণীয় নাম। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি তিনি। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত। বঙ্গবন্ধু না জন্মালে বাংলাদেশ নামের কোনো দেশ হতো কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই অর্থেই বলা হয়, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। ব্যক্তিনাম ও দেশনাম এভাবে একাকার হয়ে যাওয়ার নজির বিশ্বে বিরল। তিনি ছিলেন জাতীয় জাগরণের তুর্যবাদক। জাতিকে উজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তার অবদান বলতে গেলে একক। তিনি ভাষাভিত্তিক ও জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আমাদের অশেষ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন।
বাংলাদেশ বাংলাভাষীদের স্বাধীন দেশ, বাঙালিরও একমাত্র স্বাধীন দেশ। এদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলমান। অন্যরা অন্যান্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ। আমাদের জাতিসত্তার প্রধান দুটি উপাদানের একটি হলো বাঙালিত্ব অপরটি মুসলমানিত্ব। বাঙালিত্ব ও মুসলমানিত্বের মধ্যে কোনো বিরোধ বা পার্থক্য নেই। এরা একে অপরের পরিপূরক। নাগরিকত্বের পরিচয়ে আমরা বাংলাদেশি। বঙ্গবন্ধু বাঙালি ও মুসলমান দুইটি পরিচয়কেই সমান মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এই দুটি পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি জীবনব্যাপী সাধনা ও সংগ্রাম করেছেন। স্মরণ করা যেতে পারে, ব্রিটিশ ভারতে যখন মুসলমানরা রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য দিক থেকে অত্যন্ত অবনত ও পিছিয়ে ছিল, তখন তিনি মুসলমানদের জাগরণ ও তাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন।
স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধু দেশের হাল ধরেন। যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। শান্তিপূর্ণ, স্বয়ম্ভর, সমৃদ্ধ দেশ প্রতিষ্ঠার নতুন সংগ্রাম শুরু করেন। ‘সোনার বাংলা’ গড়া ছিল তার স্বপ্ন। আমাদের দুর্ভাগ্য, ঘাতকরা তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়নি। তাকে হত্যা করে বস্তুত তারা বাংলাদেশের আত্মাকেই হত্যা করে। জাতীয় ইতিহাসে এর চেয়ে মর্মান্তিক, দুঃখজনক ঘটনা আর নেই। বঙ্গবন্ধু অমর, চিরঞ্জীব। তার দেহ, তার জীবন্ত অস্তিত্ব আমাদের সামানে নেই বটে; তবে তিনি এদেশের সর্ব প্রজন্মের মানুষের চেতনায় ও হৃদয়ে স্থায়ী আসন পেতে বসে আছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, এ জাতির একটি মানুষ যতদিন জীবিত থাকবে, তার নাম ততদিন বেঁচে থাকবে। বঙ্গবন্ধু নিজেকে বাঙালি হিসেবে যেমন গর্ব করতেন, তেমনি গর্ব করতেন মুসলমান হিসেবেও।
ইউডি/সুপ্ত

